মুতাকাল্লিমের দাওয়াত আছর নামাযের পর উমুমী গাশতে(কিছু নমুনা)
১ম নমুনা
প্রথমে সালাম দিয়ে মুসাফাহা করবো।
(তারপর বলবো) আলহামদুলিল্লাহ,ভাই,আমরা সালাম দিলাম এবং মুসাফাহা করলাম এর দ্বারা আমরা সওয়াব পেলাম এবং আমাদের ছোট ছোট গুনাহ গুলো ঝরে গেলো।
ভাই,আমরা মুসলমান।আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে একটি দামী কালেমা দান করেছেন।সেই কালেমা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই,হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
ভাই,এই কালেমার এত দাম যে, যে ব্যক্তি খাঁটি দিলে এই কালেমা পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ভাই,আল্লাহ আসমানের মালিক।আল্লাহ যমীনের মালিক।আল্লাহ সূর্যের মালিক।আল্লাহ চন্দ্রের মালিক।আল্লাহ সুস্থতার মালিক।আল্লাহ অসুস্থতার মালিক।আল্লাহ হায়াতের মালিক।আল্লাহ মউতের মালিক।আল্লাহ রিযিকের মালিক।অর্থাৎ সবকিছুর মালিক হলেন আল্লাহ তা’আলা।
ভাই, আল্লাহ তা’আলা ইহসান করে আমাদের জন্য আমাদের নবীকে একটি সুন্দর তরীকা দিয়ে পাঠিয়েছেন।আর নবীজীর তরীকা অনুযায়ী চলার মধ্যেই আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও কামিয়াবি রেখেছেন।
ভাই,আমরা একসময় ছিলাম না।এখন আছি।আবার থাকবো না।এজন্য এই অল্প সময়ের জিন্দেগীতে যদি আমরা আল্লাহর হুকুম মানি এবং নবীর তরীকায় চলি, আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে দুনিয়াতেও শান্তি দিবেন আখেরাতেও শান্তি দিবেন।
এ শান্তি আমাদের এবং আপনাদের মাঝে এবং সারাবিশ্বের মানুষের মাঝে কিভাবে আসে এর জন্য এক জবরদস্ত মেহনতের প্রয়োজন।এ মেহনত সম্পর্কে মসজিদে জরুরী কথা হচ্ছে।আমরা আপনাকে নগদ নেয়ার জন্য এসেছি।যদি যেতেন আল্লাহ খুশি হতেন এবং আপনার সময়টাও মূল্যবান হতো।
(যদি যেতে রাজী না হয় তাহলে মাগরিবের সময় আসার কথা বলবো।উমুমি গাশতের দাওয়াত বিভিন্নভাবে দেয়া যায়।মূল বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।(তাওহীদ,রেসালাত ও আখিরাত এ তিন বিষয়ে)
২য় নমুনা:
প্রথমে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করবো।
তারপর বলবো,
আলহামদুলিল্লাহ,ভাই-আমরা মুসলমান।আমরা কালিমা পড়েছি।লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই,হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
ভাই,আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অল্প সময়ের হায়াত দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।একসময় আমরা ছিলাম না।এখন আছি।আবার থাকবোনা।দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো।ভাই দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইবাদত করার জন্য পাঠিয়েছেন।যদি আমরা আল্লাহর হুকুম মানি এবং নবীর তরীকায় চলি আল্লাহ দুনিয়াতেও শান্তি দিবেন।মৃত্যুর পরও শান্তি দিবেন।আর যদি আল্লাহর হুকুম না মানি এবং নবীর তরীকায় না চলি দুনিয়াতেও অশান্তি আখিরাতেও অশান্তি।ভাই,আমরা সবাই তো শান্তি চাই তাই না?
তো ভাই এ শান্তি পেতে হলে ইমানের উপর জবরদস্ত মেহনত করতে হবে।আর এ মেহনত সম্পর্কে মসজিদে জরুরী কথা হচ্ছে।আমরা আপনাকে নগদ নেয়ার জন্য এসেছি।যদি যাইতেন আল্লাহ খুশি হতেন।
(যদি যেতে রাজী না হয় তাহলে মাগরিবের সময় আসার কথা বলবো।)
৩য় নমুনাঃ
প্রথমে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করবো।
তারপর বলবো,আলহামদুলিল্লাহ,ভাই আমরা মুসলমান।আমরা কালিমা পড়েছি।লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই,হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
ভাই,আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়াতে সৃষ্টি করে পাঠিয়েছেন।দেখার জন্য দুটি চোখ দিয়েছেন।শোনার জন্য দুটি কান দিয়েছেন।বলার জন্য একটি জিহবা দিয়েছেন।খাওয়ার জন্য, কাজকর্ম করার জন্য দুটি হাত দিয়েছেন।চলার জন্য দুটি পা দিয়েছেন।আমরা আল্লাহর দেয়া রিযিক খাই।আল্লাহর দেয়া পানি পান করি।আল্লাহর দেয়া অক্সিজেন গ্রহণ করি।আমরা হাজারো আল্লাহর নেয়ামত ভোগ করি।এজন্য ভাই সেই আল্লাহর হুকুম মানা এবং নবীর তরীকায় চলা তাহলে আল্লাহ দুনিয়াতেও শান্তি দিবেন।আখিরাতেও শান্তি দিবেন। এ শান্তি আপনাদের এবং আমাদের মাঝে এবং সারাবিশ্বের মানুষের মাঝে কিভাবে আসে এর জন্য জবরদস্ত মেহনতের প্রয়োজন।আর এ মেহনত সম্পর্কে মসজিদে জরুরী কথা হচ্ছে আমরা আপনাকে নগদ নেয়ার জন্য আসছি যদি যেতেন আল্লাহ খুশি হতেন।
(যদি যেতে রাজী না হয় তাহলে মাগরিবের সময় আসার কথা বলবো।)
৪র্থ নমুনা:
প্রথমে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করবো।তারপর বলবো,
আলহামদুলিল্লাহ,ভাই আমরা মুসলমান।আমরা কালিমা পড়েছি।লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই,হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
ভাই আল্লাহ আসমান বানিয়েছেন।আসমানকে খুঁটি ছাড়াই স্থির রেখেছেন।আল্লাহ যমীনকে পানির উপর ভাসিয়ে রেখেছেন।আল্লাহর হুকুমেই সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।আল্লাহর হুকুমেই সূর্য পশ্চিমদিকে অস্ত যায়।আল্লাহর হুকুমেই দিন হয়।আল্লাহর হুকুমেই রাত হয়।আল্লাহর হুকুমেই চাঁদ উঠে।আল্লাহর হুকুমেই চাঁদ ডোবে।আল্লাহর হুকুমেই বৃষ্টি হয়।আল্লাহর হুকুমেই বাতাস প্রবাহিত হয়।আল্লাহর হুকুমেই নদীতে ঢেউ বয়।আল্লাহর হুকুমেই গাছের পাতা নড়ে।সব কিছু আল্লাহর হুকুমে হয়।সেই আল্লাহর হুকুম মানা এবং নবীর তরীকায় চলা দুনিয়াতেও শান্তি,আখিরাতেও শান্তি।
এ শান্তি আমাদের এবং আপনাদের মাঝে কিভাবে আসে এর জন্য জবরদস্ত মেহনতের প্রয়োজন।আর এ মেহনত সম্পর্কে মসজিদে জরুরী কথা হচ্ছে। আমরা আপনাকে নগদ নেয়ার জন্য এসেছি।যদি যেতেন আল্লাহ খুশি হতেন।
(যদি যেতে রাজী না হয় তাহলে মাগরিবের সময় আসার কথা বলবো।)
৫ম নমুনা:
প্রথমে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করবো।
তারপর বলবো,আলহামদুলিল্লাহ,ভাই আমরা মুসলমান।আমরা কালিমা পড়েছি।লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই,হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
ভাই,আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।কিছুদিন পর আমরা এ দুনিয়া ছেড়ে কবরে চলে যাবো।আমরা কত মানুষের জানাযা পড়েছি।কবরে দাফন করে এসেছি।আমাদেরও একদিন সিরিয়াল আসবে।আমাদেরকেও কবরে মাটি চাপা দিয়ে চলে আসবে।তো ভাই এ দুনিয়াতে যদি আমি আল্লাহর হুকুম মানি নবীর তরীকায় চলি কবর থেকেই আমার জান্নাতের জীবন শুরু হয়ে যাবে।কবরে জান্নাতের বিছানা বিছানো হবে।জান্নাতের পোশাক পরানো হবে।জান্নাতের সাথে কবরকে সংযোগ করে দেয়া হবে।কবর দৃষ্টি সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত হয়ে যাবে।
আর যদি আল্লাহর হুকুম না মানি নবীর তরীকায় না চলি মৃত্যুর সময় থেকেই আযাব শুরু হবে।বেইজ্জতির মউত হবে।কবরে আগুনের বিছানা বিছানো হবে।আগুনের পোশাক পরানো হবে।জাহান্নামের সঙ্গে কবরকে সংযোগ করে দেয়া হবে।কবর এমনভাবে চাপ দিবে এক পাজরের হাড় আরেক পাজরের হাড়ের সঙ্গে মিলে যাবে।
তো ভাই আমরা সবাই দুনিয়া এবং আখিরাতে শান্তি চাই।এ শান্তি পেতে হলে জবরদস্ত এক মেহনতের প্রয়োজন।এ সম্পর্কে মসজিদে জরুরী কথা হচ্ছে।আমরা আপনাকে নগদ নেয়ার জন্য এসেছি।যদি যেতেন আল্লাহ খুশি হতেন।
(যদি যেতে রাজী না হয় তাহলে মাগরিবের সময় আসার কথা বলবো।)
৬ষ্ঠ নমুনা:
প্রথমে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করবো।তারপর বলবো,
আলহামদুলিল্লাহ,ভাই আমরা মুসলমান।আমরা কালিমা পড়েছি।লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই,হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
ভাই,আল্লাহ হলেন আমাদের মালিক।আল্লাহর হুকুমেই সবকিছু হয়।আমাদের চোখ দেখে আল্লাহর হুকুমে।আমাদের মাঝে অনেকের চোখ আছে কিন্তু দেখতে পারেনা।দৃষ্টিশক্তি কাজ করেনা।আল্লাহ আমাদের চোখে দেখার শক্তি দিয়েছেন তাই চোখ দেখে।আমাদের কান শোনে আল্লাহর হুকুমে।আমাদের মাঝে অনেকের কান আছে কিন্তু বধির,ঠসা।শুনতে পারেনা।কারণ আল্লাহ তার কানকে শোনার হুকুম দেননি।আল্লাহ আমাদের কানকে শোনার হুকুম দিয়েছেন তাই কান শুনতে পারে।আমাদের হাত কাজ করে আল্লাহর হুকুমে।আমাদের পা চলে আল্লাহর হুকুমে।আমাদের মধ্যে অনেকের হাত-পা প্যারালাইসিস হয়ে গেছে।বিছানাগত হয়ে গেছে।আল্লাহ আমাদের হাত-পা কে কাজ করার হুকুম দিয়েছেন তাই আমাদের হাত-পা কাজ করে।আমাদের জিহবা কথা বলে আল্লাহর হুকুমে।আমাদের অনেকের জিহবা আছে কিন্তু বোবা কথা বলতে পারেনা।আল্লাহ আমাদের জিহবায় কথা বলার শক্তি দিয়েছেন তাই আমরা কথা বলতে পারি।তো ভাই সবকিছু হয় আল্লাহর হুকুমে।সেই আল্লাহর হুকুম মানা এবং নবীর তরীকায় চলা। আল্লাহ দুনিয়াতেও শান্তি দিবেন, আখিরাতেও শান্তি দিবেন।এ শান্তি আপনার এবং আমাদের মাঝে কিভাবে আসে এর জন্য জবরদস্ত মেহনতের প্রয়োজন।এ মেহনত সম্পর্কে মসজিদে জরুরী কথা হচ্ছে আমরা আপনাকে নগদ নেয়ার জন্য এসেছি যদি যেতেন আল্লাহ তাআলা খুশি হতেন।
(যদি যেতে রাজী না হয় তাহলে মাগরিবের সময় আসার কথা বলবো।)
.jpeg)