হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সোহবতে থেকে সাহাবায়ে কেরাম অনেক গুণে গুণান্বিত হয়ে ছিলেন,তার মধ্যে কয়েকটি গুণের উপর মেহনত করে আমল করতে পারলে দীনের উপর চলা সহজ হবে। গুণ কয়েকটি হলোঃ১। কালেমা,২। নামায,৩। ইলম ও যিকির,৪। একরামুল মুসলিমীন,৫।সহীহ নিয়ত,৬।দাওয়াত ও তাবলীগকালেমাঃলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।কালেমার অর্থঃআল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোন মা’বুদ নাই,হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার রাসূল।কালেমার উদ্দেশ্যঃআমরা দুই চোখে যা কিছু দেখি বা না দেখি আল্লাহ ছাড়া সবই মাখলুক। মাখলুক কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন মাখলুকের কোন প্রকার সাহায্য ছাড়া। একমাত্র হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানী তরীকায় দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কামিয়াবী।কালেমার ফযীলতঃ১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَنْ شَهِدَ أَلَّا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللّٰهِযে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে,আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই এবং হযরত মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল,حَرَّمَ اللّٰهُ عَلَيْهِ النَّارَআল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর জাহান্নামকে হারাম করে দেন।(মুসলিম-২৯)২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهٖ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ دَخَلَ الْجَنَّةَযার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(আবু দাউদ-৩১১৬-সহীহ)কালেমা হাসিল করার তরীকাঃআমরা এ কালেমা বেশি বেশি পাঠ করবো এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।নামাযঃনামাযের উদ্দেশ্যঃহুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নামায পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে যেভাবে নামায শিক্ষা দিয়েছেন সেভাবে নামায পড়ার যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা।
নামাযের ফযীলতঃ১।আল্লাহ তা’আলা বলেন,إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ ۗনিশ্চয় নামায অশ্লীল এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।(আনকাবুত-৪৫)২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো,أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللّٰهِ؟আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?তিনি বললেন,اَلصَّلاَةُ عَلٰى وَقْتِهَاসময় মত নামায আদায় করা।(বুখারী-৫২৭)নামায হাসিল করার তরীকাঃআমরা পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায জামাতের সাথে আদায় করি। ওয়াজিব ও সুন্নাত নামাযের প্রতি যত্নবান হই ও কাযা নামাযগুলো খুঁজে খুঁজে আদায় করি।নামাযের লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দেই ও সমগ্র উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য দু’আ করি।ইলমঃইলমের উদ্দেশ্যঃআল্লাহ তা’আলার কখন কি আদেশ ও নিষেধ তা জেনে হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকা অনুযায়ী আমল করা।ইলমের ফযীলতঃ১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَنْ سَلَكَ طَرِيْقًا يَلْتَمِسُ فِيْهِ عِلْمًاযে ব্যক্তি ইলম শেখার জন্য কোন পথে চলেسَهَّلَ اللّٰهُ لَهُ طَرَيْقًا إِلَى الْجَنَّةِ،আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন।(তিরমিযী -২৬৪৬-হাসান-ইসলামিয়া কম্পিউটার নুসখা)২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَنْ يُّرِدِ اللهُ بِهٖ خَيْرًاআল্লাহ যার কল্যাণ চানيُفَقِّهْهُ فِي الدِّيْنِতাকে দীনের সমঝ দান করেন।(বুখারী-৭১)ইলম হাসিল করার তরীকাঃ আমরা ইলম দুই ভাগে শিখি। ১। ফাযায়েলে ইলম ও ২। মাসায়েলে ইলম। ফাযায়েলে ইলম তা’লীমের হালকা থেকে শিখি আর মাসায়েলে ইলম উলামায়ে কেরামদের কাছ থেকে জেনে নেই এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দেই।যিকিরঃযিকিরের উদ্দেশ্যঃসব সময় আল্লাহ তা’আলার ধ্যান ও খেয়াল অন্তরে পয়দা করা।
যিকিরের ফযীলতঃ১।আল্লাহ তা’আলা বলেন,فَاذْكُرُوْنِيْ أَذْكُرْكُمْতোমরা আমাকে স্মরণ করো,আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো।(আল বাকারা-১৫২)২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,أَحَبُّ الْكَلَامِ إِلَى اللّٰهِ أَرْبَعٌ - سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُআল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কালেমা হলো চারটি- সুবহানাল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,আল্লাহু আকবার।(মুসলিম-২১৩৭)৩।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَنْ صَلّٰى عَلَيَّ وَاحِدَةً، صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ عَشْرًاযে আমার উপর একবার দরুদ পড়বে,আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশ বার রহমত নাযিল করবেন।(মুসলিম-৪০৮)৪।হাদীসে কুদসীতে এসেছে,আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,يَا ابْنَ آدَمَ !হে আদম সন্তান,لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوْبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِতোমার গুনাহ যদি আসমানের উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে যায়ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِيْঅতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাওغَفَرْتُ لَكَআমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো।وَلَا أُبَالِيْআমি কোন পরোয়া করি না।(তিরমিযী-৩৫৫৬ -হাসান-ইসলামিয়া কুতুবখানা কম্পিউটার নুসখা)যিকির হাসিল করার তরীকাঃ আমরা সকাল বিকাল ১০০ বার করে তিন তাসবীহ পাঠ করবো। তিন তাসবীহ হলো সুবহানাল্লাহি ওয়াল আলহামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার (সকালে ১০০ বার,বিকালে ১০০ বার)। যে কোন দরুদ শরীফ যেমন, সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-(সকালে ১০০ বার বিকালে ১০০ বার)।যে কোন ইস্তেগফার যেমন আস্তাগফিরুল্লাহ (সকালে ১০০ বার বিকালে ১০০ বার)।বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করবো এবং জায়গা বিশেষ মাসনূন দু’আ আদায় করবো এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।একরামুল মুসলিমীনঃএকরামুল মুসলিমীনের উদ্দেশ্যঃপ্রতিটি মাখলুকের এহসান করা, প্রত্যেক মুসলমান ভায়ের কীমত জেনে তার কদর করা।
একরামুল মুসলিমীনের ফযীলতঃ১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,لاَ يَرْحَمُ اللّٰهُ مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَআল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন না,যে মানুষের প্রতি দয়া করে না।(বুখারী-৭৩৭৬)২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيْرَناَঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় যে বড়দেরকে সম্মান করে না,وَيَرْحَمْ صَغِيْرَنَاএবং ছোটদের প্রতি দয়া করে না,وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا এবং আলেমের (হক) অনুধাবন করে না।(মুস্তাদরাকে হাকেম-৪২৫,মুসনাদে আহমদ-২২৭৫৫-হাসান)৩।এক হাদীসে এসেছে,এক মহিলা একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখছিলো।সে বিড়ালটিকে খাবার-পানি দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যে বিড়ালটি নিজে পোকামাকড় খাবে।ফলে বিড়ালটি মারা যায়।এর কারণে মহিলাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে।(বুখারী-৩৪৮২)৪।এক হাদীসে এসেছে,এক পতিতা মহিলা মৃতপ্রায় তৃষ্ণার্ত একটি কুকুরকে পানি পান করিয়েছিলো,ফলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়।(বুখারী-৩৩২১)একরামুল মুসলিমীন হাসিল করার তরীকাঃআমরা আলেমদেরকে ইজ্জত করবো,বড়দেরকে সম্মান করবো এবং ছোটদেরকে স্নেহ করবো।কোন মাখলুককে অযথা কষ্ট দিবো না এবং অপর ভাইকে এর দাওয়াত দিবো।সহীহ নিয়তঃসহীহ নিয়তের উদ্দেশ্যঃআমরা যে কোন নেক কাজ করবো আল্লাহকে রাজী-খুশি করার জন্যই করবো।যদি আমি লোক দেখানোর জন্য অথবা সম্মান ও সুখ্যাতি লাভের জন্য নামায পড়ি,দান-সদকা করি,হজ্জ করি,যাকাত দেই তাহলে আমি সামান্য সওয়াবও পাব না।বরং শাস্তির মধ্যে পাকড়াও হবো।আর যদি সহীহ নিয়তে সামান্য আমলও করি আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সওয়াব বাড়িয়ে দেবেন।সহীহ নিয়তের ফযীলতঃ১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ،সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَّا نَوٰىমানুষ তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে।(বুখারী-১,মুসলিম-১৯০৭)২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِنَّ اللّٰهَ لاَ يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًاনিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কেবল সেই আমলই কবুল করেন যা তার জন্যই করা হয়وَابْتُغِيَ بِهٖ وَجْهُهُএবং যেই আমল দ্বারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়।(নাসায়ী-৩১৪০-সহীহ-ইসলামিয়া কুতুবখানা কম্পিউটার নুসখা)৩।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِنَّ اللّٰهَ لاَ يَنْظُرُ إِلٰى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْআল্লাহ তা’আলা তোমাদের চেহারা এবং সম্পদ দেখেন নাوَلٰكِنْ يَنْظُرُ إِلٰى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْতিনি দেখেন তোমাদের অন্তর এবং আমলসমূহ।(মুসলিম-২৫৬৪)সহীহ নিয়ত হাসিল করার তরীকাঃআমরা প্রত্যেক কাজ করার আগে খেয়াল করবো এতে আল্লাহর হুকুম ও হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকা ঠিক আছে কিনা এবং তা আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য হচ্ছে কি না।যদি নিয়ত ঠিক থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ বলে কাজ শুরু করবো।আর যদি নিয়ত ঠিক না থাকে তাহলে ইস্তেগফার পড়ে নিয়তকে ঠিক করে নিবো এবং এর লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।দাওয়াত ও তাবলীগঃদাওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্যঃআল্লাহর দেওয়া জান,আল্লাহর দেওয়া মাল এবং আল্লাহর দেওয়া সময় নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে জান, মাল ও সময়ের সহীহ ব্যবহার শিক্ষা করা এবং হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দীনকে কিভাবে সারা বিশ্বে প্রচার করা যায় তার ফিকির করা।দাওয়াত ও তাবলীগের ফযীলতঃ১।আল্লাহ তা’আলা বলেন,وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللّٰهِঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে ভাল কথা আর কার হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকেوَعَمِلَ صَالِحًا، وَقَالَ إِنَّنِيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ এবং নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলমানদের মধ্যে একজন।(হা মীম আসসাজদাহ/ফুসসিলাত-৩৩)২।আল্লাহ তা’আলা বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا قُوْا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ نَارًاহে ইমানদারগণ!তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদেরকেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও (আত তাহরীম-৬)
৩।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রাঃ)কে বলেন,فَوَاللّٰهِআল্লাহর কসমلَأَنْ يَّهْدِيَ اللّٰهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًاতোমার দ্বারা আল্লাহ তা’আলা কোন ব্যক্তিকে হেদায়েত দেওয়াخَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَّكُوْنَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِতোমার জন্য উত্তম হবে লাল বর্ণের উট পাওয়ার চেয়েও।(বুখারী-৪২১০)ভাই,আরবদের নিকট সেই যুগে লাল বর্ণের উট খুবই পছন্দনীয় ছিলো।যদি এরকম একটি উটের দাম ২০ লাখ টাকা হয় তাহলে ২০ লাখ টাকা দান করলে যে সওয়াব পাওয়া যাবে আমার কথার দ্বারা যদি কোন ব্যক্তি হেদায়েত পেয়ে যায় তো আল্লাহ তা’আলা তার চেয়েও উত্তম সওয়াব আমাকে দান করবেন। এত বড় লাভের কাজ করতে আমি রাজি আছি এবং আপনাদেরকেও দাওয়াত দিচ্ছি।দাওয়াত ও তাবলীগ হাসিল করার তরীকাঃভাই এ কাজ শিখতে হলে আলেমদের জন্য এক সাল,আওয়ামদের জন্য তিন চিল্লা অর্থাৎ চার মাস একাধারে আল্লাহর রাস্তায় সময় লাগানো।প্রতি বছর এক চিল্লা দেওয়া।মৃত্যু পর্যন্ত এ কাজের সঙ্গে লেগে থাকা। কোন কোন ভাই যেতে ইচ্ছুক। ভাই,আমরা নিয়ত করি এবং খুশি খুশি নাম লেখাই।
হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সোহবতে থেকে সাহাবায়ে কেরাম অনেক গুণে গুণান্বিত হয়ে ছিলেন,তার মধ্যে কয়েকটি গুণের উপর মেহনত করে আমল করতে পারলে দীনের উপর চলা সহজ হবে। গুণ কয়েকটি হলোঃ১। কালেমা,২। নামায,৩। ইলম ও যিকির,৪। একরামুল মুসলিমীন,৫।সহীহ নিয়ত,৬।দাওয়াত ও তাবলীগ
কালেমাঃ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।কালেমার অর্থঃআল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোন মা’বুদ নাই,হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার রাসূল।
কালেমার উদ্দেশ্যঃআমরা দুই চোখে যা কিছু দেখি বা না দেখি আল্লাহ ছাড়া সবই মাখলুক। মাখলুক কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন মাখলুকের কোন প্রকার সাহায্য ছাড়া। একমাত্র হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানী তরীকায় দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কামিয়াবী।
কালেমার ফযীলতঃ১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ شَهِدَ أَلَّا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللّٰهِ
যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে,আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই এবং হযরত মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল,
حَرَّمَ اللّٰهُ عَلَيْهِ النَّارَ
আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর জাহান্নামকে হারাম করে দেন।(মুসলিম-২৯)
২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهٖ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(আবু দাউদ-৩১১৬-সহীহ)
কালেমা হাসিল করার তরীকাঃআমরা এ কালেমা বেশি বেশি পাঠ করবো এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।
নামাযঃ
নামাযের উদ্দেশ্যঃহুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নামায পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে যেভাবে নামায শিক্ষা দিয়েছেন সেভাবে নামায পড়ার যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা।
নামাযের ফযীলতঃ১।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهٰى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ ۗ
নিশ্চয় নামায অশ্লীল এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।(আনকাবুত-৪৫)
২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো,
أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللّٰهِ؟
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?
তিনি বললেন,
اَلصَّلاَةُ عَلٰى وَقْتِهَا
সময় মত নামায আদায় করা।(বুখারী-৫২৭)
নামায হাসিল করার তরীকাঃআমরা পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায জামাতের সাথে আদায় করি। ওয়াজিব ও সুন্নাত নামাযের প্রতি যত্নবান হই ও কাযা নামাযগুলো খুঁজে খুঁজে আদায় করি।নামাযের লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দেই ও সমগ্র উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য দু’আ করি।
ইলমঃ
ইলমের উদ্দেশ্যঃআল্লাহ তা’আলার কখন কি আদেশ ও নিষেধ তা জেনে হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকা অনুযায়ী আমল করা।
ইলমের ফযীলতঃ১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ سَلَكَ طَرِيْقًا يَلْتَمِسُ فِيْهِ عِلْمًا
যে ব্যক্তি ইলম শেখার জন্য কোন পথে চলে
سَهَّلَ اللّٰهُ لَهُ طَرَيْقًا إِلَى الْجَنَّةِ،
আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন।(তিরমিযী -২৬৪৬-হাসান-ইসলামিয়া কম্পিউটার নুসখা)
২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ يُّرِدِ اللهُ بِهٖ خَيْرًا
আল্লাহ যার কল্যাণ চান
يُفَقِّهْهُ فِي الدِّيْنِ
তাকে দীনের সমঝ দান করেন।(বুখারী-৭১)
ইলম হাসিল করার তরীকাঃ আমরা ইলম দুই ভাগে শিখি। ১। ফাযায়েলে ইলম ও ২। মাসায়েলে ইলম। ফাযায়েলে ইলম তা’লীমের হালকা থেকে শিখি আর মাসায়েলে ইলম উলামায়ে কেরামদের কাছ থেকে জেনে নেই এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দেই।
যিকিরঃ
যিকিরের উদ্দেশ্যঃসব সময় আল্লাহ তা’আলার ধ্যান ও খেয়াল অন্তরে পয়দা করা।
যিকিরের ফযীলতঃ১।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
فَاذْكُرُوْنِيْ أَذْكُرْكُمْ
তোমরা আমাকে স্মরণ করো,আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো।(আল বাকারা-১৫২)
২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
أَحَبُّ الْكَلَامِ إِلَى اللّٰهِ أَرْبَعٌ - سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কালেমা হলো চারটি- সুবহানাল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,আল্লাহু আকবার।(মুসলিম-২১৩৭)
৩।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ صَلّٰى عَلَيَّ وَاحِدَةً، صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ عَشْرًا
যে আমার উপর একবার দরুদ পড়বে,আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশ বার রহমত নাযিল করবেন।(মুসলিম-৪০৮)
৪।হাদীসে কুদসীতে এসেছে,
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
يَا ابْنَ آدَمَ !
হে আদম সন্তান,
لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوْبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ
তোমার গুনাহ যদি আসমানের উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে যায়
ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِيْ
অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও
غَفَرْتُ لَكَ
আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো।
وَلَا أُبَالِيْ
আমি কোন পরোয়া করি না।(তিরমিযী-৩৫৫৬ -হাসান-ইসলামিয়া কুতুবখানা কম্পিউটার নুসখা)
যিকির হাসিল করার তরীকাঃ আমরা সকাল বিকাল ১০০ বার করে তিন তাসবীহ পাঠ করবো। তিন তাসবীহ হলো সুবহানাল্লাহি ওয়াল আলহামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার (সকালে ১০০ বার,বিকালে ১০০ বার)। যে কোন দরুদ শরীফ যেমন, সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-(সকালে ১০০ বার বিকালে ১০০ বার)।যে কোন ইস্তেগফার যেমন আস্তাগফিরুল্লাহ (সকালে ১০০ বার বিকালে ১০০ বার)।বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করবো এবং জায়গা বিশেষ মাসনূন দু’আ আদায় করবো এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।
একরামুল মুসলিমীনঃ
একরামুল মুসলিমীনের উদ্দেশ্যঃপ্রতিটি মাখলুকের এহসান করা, প্রত্যেক মুসলমান ভায়ের কীমত জেনে তার কদর করা।
একরামুল মুসলিমীনের ফযীলতঃ
১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لاَ يَرْحَمُ اللّٰهُ مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَ
আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন না,যে মানুষের প্রতি দয়া করে না।(বুখারী-৭৩৭৬)
২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيْرَناَ
ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় যে বড়দেরকে সম্মান করে না,
وَيَرْحَمْ صَغِيْرَنَا
এবং ছোটদের প্রতি দয়া করে না,
وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا
এবং আলেমের (হক) অনুধাবন করে না।(মুস্তাদরাকে হাকেম-৪২৫,মুসনাদে আহমদ-২২৭৫৫-হাসান)
৩।এক হাদীসে এসেছে,এক মহিলা একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখছিলো।সে বিড়ালটিকে খাবার-পানি দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যে বিড়ালটি নিজে পোকামাকড় খাবে।ফলে বিড়ালটি মারা যায়।এর কারণে মহিলাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে।(বুখারী-৩৪৮২)
৪।এক হাদীসে এসেছে,এক পতিতা মহিলা মৃতপ্রায় তৃষ্ণার্ত একটি কুকুরকে পানি পান করিয়েছিলো,ফলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়।(বুখারী-৩৩২১)
একরামুল মুসলিমীন হাসিল করার তরীকাঃআমরা আলেমদেরকে ইজ্জত করবো,বড়দেরকে সম্মান করবো এবং ছোটদেরকে স্নেহ করবো।কোন মাখলুককে অযথা কষ্ট দিবো না এবং অপর ভাইকে এর দাওয়াত দিবো।
সহীহ নিয়তঃ
সহীহ নিয়তের উদ্দেশ্যঃআমরা যে কোন নেক কাজ করবো আল্লাহকে রাজী-খুশি করার জন্যই করবো।যদি আমি লোক দেখানোর জন্য অথবা সম্মান ও সুখ্যাতি লাভের জন্য নামায পড়ি,দান-সদকা করি,হজ্জ করি,যাকাত দেই তাহলে আমি সামান্য সওয়াবও পাব না।বরং শাস্তির মধ্যে পাকড়াও হবো।আর যদি সহীহ নিয়তে সামান্য আমলও করি আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সওয়াব বাড়িয়ে দেবেন।
সহীহ নিয়তের ফযীলতঃ
১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ،
সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।
وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَّا نَوٰى
মানুষ তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে।(বুখারী-১,মুসলিম-১৯০৭)
২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ اللّٰهَ لاَ يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا
নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কেবল সেই আমলই কবুল করেন যা তার জন্যই করা হয়
وَابْتُغِيَ بِهٖ وَجْهُهُ
এবং যেই আমল দ্বারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়।(নাসায়ী-৩১৪০-সহীহ-ইসলামিয়া কুতুবখানা কম্পিউটার নুসখা)
৩।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ اللّٰهَ لاَ يَنْظُرُ إِلٰى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের চেহারা এবং সম্পদ দেখেন না
وَلٰكِنْ يَنْظُرُ إِلٰى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ
তিনি দেখেন তোমাদের অন্তর এবং আমলসমূহ।(মুসলিম-২৫৬৪)
সহীহ নিয়ত হাসিল করার তরীকাঃআমরা প্রত্যেক কাজ করার আগে খেয়াল করবো এতে আল্লাহর হুকুম ও হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকা ঠিক আছে কিনা এবং তা আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য হচ্ছে কি না।যদি নিয়ত ঠিক থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ বলে কাজ শুরু করবো।আর যদি নিয়ত ঠিক না থাকে তাহলে ইস্তেগফার পড়ে নিয়তকে ঠিক করে নিবো এবং এর লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।
দাওয়াত ও তাবলীগঃ
দাওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্যঃআল্লাহর দেওয়া জান,আল্লাহর দেওয়া মাল এবং আল্লাহর দেওয়া সময় নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে জান, মাল ও সময়ের সহীহ ব্যবহার শিক্ষা করা এবং হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দীনকে কিভাবে সারা বিশ্বে প্রচার করা যায় তার ফিকির করা।
দাওয়াত ও তাবলীগের ফযীলতঃ
১।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللّٰهِ
ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে ভাল কথা আর কার হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে
وَعَمِلَ صَالِحًا، وَقَالَ إِنَّنِيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ
এবং নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলমানদের মধ্যে একজন।(হা মীম আসসাজদাহ/ফুসসিলাত-৩৩)
২।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا قُوْا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ نَارًا
হে ইমানদারগণ!তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদেরকেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও (আত তাহরীম-৬)
৩।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রাঃ)কে বলেন,
فَوَاللّٰهِ
আল্লাহর কসম
لَأَنْ يَّهْدِيَ اللّٰهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا
তোমার দ্বারা আল্লাহ তা’আলা কোন ব্যক্তিকে হেদায়েত দেওয়া
خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَّكُوْنَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ
তোমার জন্য উত্তম হবে লাল বর্ণের উট পাওয়ার চেয়েও।(বুখারী-৪২১০)
ভাই,আরবদের নিকট সেই যুগে লাল বর্ণের উট খুবই পছন্দনীয় ছিলো।যদি এরকম একটি উটের দাম ২০ লাখ টাকা হয় তাহলে ২০ লাখ টাকা দান করলে যে সওয়াব পাওয়া যাবে আমার কথার দ্বারা যদি কোন ব্যক্তি হেদায়েত পেয়ে যায় তো আল্লাহ তা’আলা তার চেয়েও উত্তম সওয়াব আমাকে দান করবেন। এত বড় লাভের কাজ করতে আমি রাজি আছি এবং আপনাদেরকেও দাওয়াত দিচ্ছি।
দাওয়াত ও তাবলীগ হাসিল করার তরীকাঃভাই এ কাজ শিখতে হলে আলেমদের জন্য এক সাল,আওয়ামদের জন্য তিন চিল্লা অর্থাৎ চার মাস একাধারে আল্লাহর রাস্তায় সময় লাগানো।প্রতি বছর এক চিল্লা দেওয়া।মৃত্যু পর্যন্ত এ কাজের সঙ্গে লেগে থাকা। কোন কোন ভাই যেতে ইচ্ছুক। ভাই,আমরা নিয়ত করি এবং খুশি খুশি নাম লেখাই।