ইমান একীনের কথা - iAlo24.Blogspot.Com

সোমবার, জুলাই ০৩, ২০২৩

ইমান একীনের কথা

 


ইমান একীনের কথা

মেরে ভাই,আল্লাহ হলেন খালিক(خاَلِقٌ)।আল্লাহ তাআলা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ আসমান সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ যমীন সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ সূর্য সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ মেঘ সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ জীন সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ পশু-পাখি সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ সমুদ্র সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।

মেরে ভাই,আল্লাহ আমাদের দুটি চোখ দান করেছেন।এই চোখ দিয়ে আমরা দেখি।আল্লাহ আমাদের দুটি কান দিয়েছেন যা দ্বারা আমরা শুনি।আল্লাহ আমাদেরকে একটি জিহবা দিয়েছেন যা দ্বারা আমরা কথা বলি।আল্লাহ আমাদেরকে বুদ্ধি দিয়েছেন যা দ্বারা আমরা দুনিয়ার ভালো মন্দ পার্থক্য করতে পারি।আল্লাহ আমাদেরকে দুটি হাত দিয়েছেন যা দ্বারা আমরা খাই।দুনিয়ার কাজকর্ম করি।আল্লাহ আমাদেরকে দুটি পা দিয়েছেন যা দ্বারা আমরা চলাফেরা করি।

মেরে ভাই,
আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে একেক রকম আকৃতি দিয়ে বানিয়েছেন।কারো চেহারা কারো সাথে মিলেনা।কারো কন্ঠ কারো সঙ্গে মিলেনা।আমাদের হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলিকে আল্লাহ এমনভাবে বানিয়েছেন তার রেখাগুলো কারো সাথে কারো মিলেনা।এজন্য হাতের ছাপ নেয়া হয়।আল্লাহ হলেন মহান স্রস্টা।

মেরে ভাই,আল্লাহ হলেন সামী(سَمِيْعٌ)।আল্লাহ সবকিছু শোনেন।আমরা যা বলি তা আল্লাহ শোনেন।সমস্ত মানুষের কথা আল্লাহ শোনেন।সমস্ত জীনদের কথা আল্লাহ শোনেন।সমস্ত ফেরেশতার কথা আল্লাহ শোনেন।সমস্ত পশু-পাখির কথা আল্লাহ শোনেন।আমরা জোরে যে কথা বলি তাও আল্লাহ শোনেন।ধীরে যে কথা বলি তাও আল্লাহ শোনেন।মাটির নীচে একটা পিপড়ার চলার আওয়াজও আল্লাহ শোনেন।

মেরে ভাই, আল্লাহ হলেন মালিক (ماَلِكٌ)।আল্লাহ আসমানের মালিক।আল্লাহ যমীনের মালিক।আল্লাহ সূর্যের মালিক।আল্লাহ চন্দ্রের মালিক।আল্লাহ সমুদ্রের মালিক।আল্লাহ কিয়ামত দিবসের মালিক।আল্লাহ হায়াতের মালিক।আল্লাহ মউতের মালিক।আল্লাহ সুস্থতার মালিক।আল্লাহ অসুস্থতার মালিক।আল্লাহ রিযিকের মালিক। আসমান ও যমীনে যত কিছু আছে সব কিছুর মালিক হলেন আল্লাহ তাআ'লা।


মেরে ভাই, আল্লাহ হলেন বাসীর (بَصِيْرٌ)।আল্লাহ সবকিছু দেখেন।আমরা প্রকাশ্যে যা করি তা আল্লাহ দেখেন।আমরা গোপনে যা করি তাও আল্লাহ দেখেন।অন্ধকারে কি করি তাও আল্লাহ দেখেন।সমস্ত মানুষকে আল্লাহ তাআ'লা দেখেন।সমস্ত জীনকে আল্লাহ দেখেন।আল্লাহ সমস্ত ফেরেশতাকে দেখেন।আল্লাহ সমস্ত পশু-পাখিকে দেখেন।সমুদ্রের সমস্ত প্রাণীকে আল্লাহ দেখেন।আসমান এবং যমীনের সবকিছুকেই আল্লাহ দেখেন।আল্লাহকে কেউ ফাঁকি দিতে পারেনা।

মেরে ভাই,আল্লাহর হুকুমেই সবকিছু হয়।আল্লাহর হুকুমে সূর্য উঠে।আল্লাহর হুকুমে চাঁদ উঠে।আল্লাহর হুকুমে বৃষ্টি হয়।আল্লাহর হুকুমে মেঘ চলে।আল্লাহর হুকুমে বাতাস প্রবাহিত হয়।আল্লাহর হুকুমে নদীতে ঢেউ বয়।আল্লাহর হুকুমে দিন হয়।আল্লাহর হুকুমে রাত হয়।আল্লাহর হুকুমে শীত আসে।আল্লাহর হুকুমে গরম আসে।আল্লাহর হুকুমেই দুনিয়ার সবকিছু হয়।আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়তে পারেনা।আল্লাহর হুকুমে গাছ ফল দেয়।আল্লাহর হুকুমে জমি ফসল দেয়।আল্লাহর হুকুমে গরু দুধ দেয়।আল্লাহর হুকুমেই সবকিছু হয়।

আল্লাহর হুকুম ছাড়া আগুন পোড়াতে পারেনা।আগুন পোড়ায় আল্লাহর হুকুমে।হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে যখন আগুনে ফেলা হলো তখন আগুন ইবরাহীম আলাইহিস সালামের একটা পশমও পোড়াতে পারেনি।আল্লাহর হুকুমে আগুন ঠান্ডা ও আরামদায়ক হয়ে গিয়েছিলো।তো ভাই আগুন পোড়ায় আল্লাহর হুকুমে।

মেরে ভাই, ছুরির কোন ক্ষমতা নাই কাটার।ছুরি ও কাটে আল্লাহর হুকুমে।হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন আল্লাহর নির্দেশে তাঁর ছেলে ইসমাইল আলাইহিসসালাম কে কুরবানী করতে লাগলেন তখন ছুরি কাটছিলোনা।তিনি জবাই করার অনেক চেষ্টা করলেন।তারপরেও ছুরি কাটলোনা।আল্লাহ ছুরিকে কাটার হুকুম দেননি।তাই ছুরি কাটেনি।ছুরিও কাটে আল্লাহর হুকুমে।

ভাই,আল্লাহর হুকুমে পশু-পাখি খাবার হজম করতে পারে।আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ খাবার হুজম করতে পারেনা।সমুদ্রে পড়ার হযরত ইউনুস আলাইহিসসালামকে যখন মাছ গিলে ফেললো তখন সেই মাছের উপর ইউনুস আলাইহিস সালামকে, আল্লাহ হজম করা হারাম করে দিয়েছিলেন।হযরত ইউনুস আলাইহিসসালাম ৪০ দিন মাছের পেটে ছিলেন।তো ভাই মাছও আল্লাহর হুকুমে হজম করে।

ভাই,আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিসসালামকে এমন এক লাঠি দিয়েছিলেন যেটি ছেড়ে দিলে আল্লাহর হুকুমে সাপ হয়ে যেত।আবার সাপকে ধরলে তা লাঠি হয়ে যেত।হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যদি বগলে হাত রেখে তা বের করতেন তার হাত থেকে সূর্যের আলোর চেয়েও এক উজ্জল আলো বের হতো।এই মুজিযাগুলো আল্লাহ দান করেছিলেন।

ভাই আল্লাহ যাকে বাঁচাতে চান তাকে কেউ মারতে পারেনা।ফেরাউন যখন জানতে পারলো যে একজন যুবক এসে তার রাজত্বকে শেষ করে দিবে তখন সে যতজন ছেলে হতো সবাইকে হত্যা করতে লাগলো।কিন্তু সেই ফেরাউনের ঘরেই আল্লাহ হযরত মূসা আলাইহিসসালামকে বড় করলেন।আল্লাহ যাকে হেফাযত করেন তাকে কেউ মারতে পারেনা।

ভাই,পানির কোন ক্ষমতা নাই ডোবানোর।পানি ডোবায় আল্লাহর হুকুমে।আল্লাহ তাআলা পানির ভেতর দিয়ে রাস্তা করে দিয়ে হযরত মূসা আলাইহিসসালামকে সমুদ্র পার করে দেন।আবার সেই পানি দিয়েই ফেরাউন এবং তার কওমকে ডুবে মারেন।

হযরত ইসা আলাইহিসসালাম কে যখন হত্যা করার জন্য তার কওমের লোকেরা তার ঘরে প্রবেশ করলো আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানে তুলে নিলেন।বর্তমানে হযরত ইসা আলাইহিসসালাম আসমানে আছেন।কিয়ামতের আগে দাজ্জালকে হত্যা করার জন্য তিনি আবার আসবেন দুনিয়াতে।আল্লাহ যাকে হেফাযত করেন তাকে কেউ মারতে পারেনা।

ভাই,হযরত ইউসুফ আলাইহিসসালামকে তার ভায়েরা হত্যা করার জন্য কূপে নিক্ষেপ করে।আল্লাহ তাআলা সেও কূপেও তাঁকে জীবীত রাখেন।

যুলাইখা যখন হযরত ইউসুফ আলাইহিসসালাম এর সঙ্গে খারাপ কাজ করার জন্য পীড়াপীড়ি করে তখন তিনি আল্লাহ তাআলার ভয়ে দরজার দিকে দৌড়াতে থাকেন।আল্লাহর হুকুমে দরজার তালা খুলে যায়।আল্লাহ তাআলা হযরত ইউসুফ আলাইহিসসালামকে হেফাযত করেন।

ভাই,আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার জন্য কাফেররা তার ঘর ঘেরাও করে।তিনি আল্লাহর হুকুমে এক মুষ্টি বালু নিক্ষেপ করলেন।আল্লাহ সে বালুগুলো কাফেরদের চোখে পৌঁছে দিলেন।তারা চোখ কচলাতে লাগলো।নবীজী তাদের সামনে দিয়েই বের হয়ে গেলেন।আল্লাহ তাআলা নবীজীকে হেফাজত করলেন।

নবীজী হিজরতের সময় পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন।কাফেররা পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করে সেখানেও চলে গেলো।একটু পায়ের নীচে তাকালেই তারা নবীজী এবং আবু বকর রাঃ কে দেখতে পেত।আবু বকর রাযি পেরেশান হয়ে গেলেন।নবীজী সান্ত্বনা দিলেন।আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।আল্লাহ সেখানেও নবীজীকে হেফাজত করলেন।

ভাই,
আল্লাহ তাআলা নারী পুরুষ ছাড়াই হযরত আদম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করেছেন।নারী ছাড়া হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামকে সৃষ্টি করেছেন।আর পিতা ছাড়া হযরত ইসা আলাইহিসসালাম কে সৃষ্টি করেছেন।

ভাই,
আল্লাহ তাআলা দোলনার শিশুকে কথা বলাতে পারেন।হযরত ইসা আলাইহিসসালামকে আল্লাহ তাআলা জন্মের পর পর শিশু অবস্থায় কথা বলায়েছেন।


ভাই,
আল্লাহ তাআলা খাবার খাওয়া ছাড়াই বাঁচিয়ে রাখতে পারেন।আসহাবে কাহাফের দলকে আল্লাহ ৩০৯ বছর ঘুমের মধ্যে রেখেছেন।৩০৯ বছর তারা কোন খাবার পানি গ্রহণ করেনি।এই অবস্থায় তারা বেঁচে ছিলো।৩০৯ বছর পর তাদের ঘুম ভাঙ্গে।

ভাই,আল্লাহ বৃদ্ধ বয়সেও সন্তান দিতে পারেন।পুরুষ বৃদ্ধ হয়ে গেছে।যৌন ক্ষমতা হারিয়ে গেছে।স্ত্রীর মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে এরুপ অবস্থাতেও আল্লাহ সন্তান দিতে পারেন।হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বার্ধক্যে পৌঁছে গেছেন। তারঁ স্ত্রী সারা আলাইহাস সালামও বৃদ্ধা হয়ে গেছেন। এই বয়সেও আল্লাহ তাআ'লা তাদেরকে পুত্র সন্তান হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামকে দান করেছেন।

হযরত যাকারিয়া আলাইহিসসালাম ও বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।তাঁর স্ত্রী ছিল বন্ধ্যা।সন্তান হওয়ার কোন আশায় ছিলোনা।এরুপ অবস্থাতেও হযরত হযরত যাকারিয়া আলাইহিসসালামকে আল্লাহ তাআ'লা পুত্র ইয়াহিয়া আলাইহিসসালামকে দান করেন।


ভাই,আল্লাহ রিযিকের মালিক।তিনি ওসীলার সাহায্যে খাওয়ান।ওসীলা ছাড়াও খাওয়ান।হযরত মারয়াম আলাইহাস ছিলেন তখন ছোট।যাকারিয়া আলাইহাস যখনই তার কাছে আসতেন দেখতেন তার কাছে এমন ফল-ফলাদি যেগুলোর তখন মৌসুম ছিলোনা।বে মৌসুমি ফল মারয়াম আলাইহাস সালামের হাতে থাকতো।যাকারিয়া আলাইহিসসালাম মারয়ামকে বললেন তুমি এগুলো কোথা হতে পেলে।মারয়াম বলেন।এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে।তো ভাই আল্লাহ মারয়ামকে বে মৌসুমি ফল খাওয়ায়েছেন।

ভাই,আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহিসসালাম এর উম্মতকে ৪০ বছর মান্না সালওয়া খাওয়ায়েছেন।তারা কোন কাজ করতো না।এ খাবার আসমান থেকে আল্লাহ পাঠাতেন।

ভাই,হযরত ইসা আলাইহিসসালাম এর উম্মতের জন্য আল্লাহ তাআলা আসমান থেকে খাবারের দস্তরখান পাঠিয়েছিলেন।যাতে ছিলো বিভিন্ন রকমের খাবার।আল্লাহ আসমান থেকে ঈসা আলাইহিসসালাম এর উম্মতকে খাওয়ায়েছেন।

মেরে ভাই,
আল্লাহ সবকিছু করেন।তিনি বিপদে বান্দাকে সাহায্য করেন।তিনি হলেন উত্তম বন্ধু। আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাইবো।তাঁর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরবো।

এ বিভাগের আরো লেখা

(শর্ট) তাবলীগের ছয় নম্বর

(ফুল) তাবলীগের ছয় নম্বর

গাশতের আদব

তারুফী বয়ান

ইমান একীনের কথা

মুতাকাল্লিমের দাওয়াত (আছর বাদ গাশতে বের হয়ে যা বলবো তার কিছু নমুনা )

ফজর নামাযের পরে গাশতে বের হয়ে যা বলবো তার কিছু নমুনা

মাশওয়ারা,তালীম,১২ কাজ,গাশত পাঁচ প্রকার,ইজতেমায়ী আমল,মসজিদে যেসব কাজ নিষিদ্ধ

Pages