তাবলীগের কাজ সমূহ (মাশওয়ারা,তালীম,১২ কাজ,ইজতেমায়ী আমল,গাশত) - iAlo24.Blogspot.Com

সোমবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৩

তাবলীগের কাজ সমূহ (মাশওয়ারা,তালীম,১২ কাজ,ইজতেমায়ী আমল,গাশত)

 


➤➤➤মাশওয়ারাঃ
মাশওয়ারা হলো আল্লাহর হকুম,নবীদের সুন্নাত,মুমিনের সিফাত

মাশওয়ারার উদ্দেশ্যঃ
সমস্ত দুনিয়ায় দীন জিন্দার ফিকির করা।

মাশওয়ারার বিষয় বস্তু তিনটি:-
১. জামাতের প্রত্যেকটি সাথী কিভাবে ইমানওয়ালা, আমলওয়ালা, ইখলাসওয়ালা ও দ্বীনের দায়ী বনতে পারে তার ফিকির করা।

২. কিভাবে মেহনত করলে মহল্লার প্রত্যেকটি ঘর থেকে একএক জন বালেগ পুরুষ নগদ আল্লাহর রাস্তায় বের হতে পারে, বা একটি নগদ জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের হতে পারে এ ব্যাপারে চিন্তা ফিকির করা।

৩.মসজিদে যদি পাঁচ কাজ চালু না থাকে তাহলে চালু করা, আর যদি চালু থাকে তাহলে মজবুত করা, আর যদি মজবুত থাকে তাহলে তা থেকে ফায়দা উঠানোর চিন্তা ফিকির করা।

উক্ত তিনটি বিষয় কিভাবে বাস্তবায়ন হয় এ ব্যাপারে আমীর সাহেব সকল সাথীর থেকে খেয়াল নিবে।

মাশওয়ারার আদব:
১।লোক কম হলে গোলাকারে বসবে, আর বেশী হলে মজমা আকারে বসবে।
২।একজন আমীর নিযুক্ত করবে, চলতি জামাতে তো আমীর নিযুক্তই আছে।
৩।আমীর আকেল, বালেগ ও পুরুষ হওয়া।
৪।আমীর সাহেবের ডান দিক থেকে খেয়াল বা রায় নেওয়া।
৫।দ্বীনের ফায়দার দিকে লক্ষ রেখে খেয়াল দেওয়া।
৬।নিজের রায় নিজে পেশ করা।
৭।অন্যের রায় না কাটা।
৮।নিজের রায়ের উপর ইসরার বা পিড়াপিড়ি  না করা,
৯।অন্যের রায়কে ছোট মনে না করা,
১০।নিজের খেয়ালের উপর ফায়সালা হলে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া
১১।অন্যের খেয়ালের উপর ফায়সালা হলে আলহামদুলিল্লাহ বলা।
১২।মাশওয়ারার পূর্বে মাশওয়ারা না করা, এবং পরে সমালোচনা না করা।
১৩।মাশওয়ারার সময় কোন ইনফেরাদী আমল না করা,
১৪।আমীর সাহেব সকল সাথীর থেকে রায় বা কিছু সাথীর রায় নিয়েও ফায়সালা দিতে পারেন, আবার কাহারও থেকে রায় না নিয়েও ফায়সালা দিতে পারেন,
১৫।আমীর সাহেব যা ফায়সালা দেন তার উপর জমে যাওয়া।
১৬।মাশওয়ারার সময় চিল্লা-চিল্লি না করা, বরং আখলাকের পরিচয় দেওয়া।

মাশওয়ারার লাভ:
১।আল্লাহর হুকুম ও নবীর সুন্নাত জিন্দা হয়,
২।জোড়-মিল ও মহব্বত হয়,
৩।খায়ের ও বরকত হয়,
৪।ক্ষতি থেকে হেফাজত হয়,
৫।আল্লাহর রহমত থাকে,
৬।আল্লাহ তায়ালার ফায়সালাকৃত আযাব উঠিয়ে নেন
৭।লজ্জিত হতে হয়না।
৮।ওহীর বরকত পাওয়া যায়।


➤➤➤তা‘লীমঃ
তা‘লীম মসজিদে নববীর বিশেষ একটি আমল।
সকাল-বিকাল মিলে মোট চার ঘন্টা তা‘লীম হবে, তা‘লীমের অংশ তিনটিঃ
১. কিতাবী তা‘লীম, ২. সূরা-কেরাত সহীহ্ করার মশ্ক,৩. ছয় নাম্বার মুযাকারা।

তা‘লীমের উদ্দেশ্যঃ-
ফাযায়েলে আমলের বর্ণনা দ্বারা দিলে আমলের এক্বীন পয়দা করা, অর্থাৎ আল্লাহ তা‘য়ালা যে আমলের সহিত যে ওয়াদা করেছেন তা অবশ্যই দিবেন একথার এক্বীন করা, বা ফাযায়েলে আমলের বর্ণনা দ্বারা দিলে আল্লাহ তা‘য়ালার ওয়াদা ও অয়ীদের এক্বীন পয়দা করা, বা ফাযায়েলে আমলের বর্ণনা দ্বারা দিলে আমলের শওক্ব পয়দা করা।

তা‘লীমে বসার আদবঃ-
আদবের সহিত বসা, অজুর সহিত বসা, অর্ধ চন্দ্র আকারে বসা, খুশবু লাগিয়ে বসা, মিলে মিলে বসা, জরুরত থেকে ফারেগ হয়ে বসা, বা জরুরত দাবিয়ে বসা, যে তা‘লীম করে তার সামনে বসা পিছনে না বসা, আগ্রহের সহিত বসা, হিদায়েতের নিয়তে বসা।

তা‘লীম শুনার আদবঃ–
দিলের কানে শুনা অর্থাৎ খুব মনযোগ দিয়ে শোনা, আমলের নিয়তে শোনা, অপরের নিকট পৌঁছানোর নিয়তে শোনা, যে তা‘লীম করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে শোনা।

তা‘লীম শোনার হক্বঃ
আল্লাহর নাম শুনলে সুবহানাহু ওয়াতা‘য়ালা বলা বা জাল্লা শানুহু বলা। আমাদের নবীজীর নাম শুনলে দুরূদ শরীফ পড়া, যেমনঃ- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলা। অন্যান্য নবী বা ফেরেশতাদের নাম শুনলে আলাইহিস্ সালাম বলা। একজন পুরুষ সাহাবীর নাম শুনলে রাযিয়াল্লহু তা‘য়ালা আনহু বলা, একজন মহিলা সাহাবীর নাম শুনলে রাযিয়াল্লহু তা‘য়ালা আনহা বলা, দুইজন পুরুষ বা মহিলা সাহাবীর নাম শুনলে রাযিয়াল্লহু তা‘য়ালা আনহুমা বলা, এবং দুয়ের অধিক হলে রাযিয়াল্লহু তা‘য়ালা আনহুম বলা। মৃত বুযুর্গদের নাম শুনলে রহিমাহুমুল্লাহ বা রহমাতুল্লহি আলাইহি বলা বা বার্রদাল্লাহু মারকাদাহু বলা, ইত্যাদি। 

আর জীবিত বুযুর্গদের নাম শুনলে দামাত বারকাতুহুম , হাফিজাহুল্লাহু, উফিয়া আনহু বা বারাকাল্লহু ফি হায়াতিহি বলা। আশ্চর্য্য জনক কোন কিছু শুনলে সুবহানাল্লাহু বলা, গুরুত্ব পূর্ণ বা বড় কোন বিষয় শুনলে আল্লাহু আকবার বলা, খারাপ কোন কিছু শুনলে নাউযুবিল্লাহ বলা, কোন সু-সংবাদ শুনলে আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং কোন দুঃখ সংবাদ শুনলে ইন্নালিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাযিউন বলা।

তা‘লীমের লাভঃ
আমলের আগ্রহ পয়দা হয়, কোরআন ও হাদীসের নূর হাসিল হয়, তা‘লীমের মজলিসে রহমত নাযিল হয়, অজ্ঞতা দুর হয়, বদদ্বীনি দুর হয়, যে ঘরে তা‘লীম হয় সে ঘরের সন্তান-সন্ততি নেককার হয়,জাহেলের ঘরে আলেম পয়দা হয় এবং কোরআন ও হাদীসের জ্ঞান হাসিল হয়।
তালিমের একটা অধ্যায় শিক্ষা করা চাই তার উপর আমল করা হোক বা না হোক হাজার রাকাত নফল নামায পড়া হইতে উত্তম।


➤➤➤তাবলীগের ১২ কাজ
ক) চারটি কাজ বেশী বেশী করাঃ দাওয়াত, তালিম, ইবাদত/নামায খেদমত/ জিকির
খ)৪ টি কাজ কম কম করাঃখাবারে অতিরিক্ত সময় না লাগানো, ঘুমে অতিরিক্ত সময় না লাগানো, মসজিদের বাহিরে কম সময় লাগানো, দুনিয়াবী কথা কম বলা।
গ) ৪ টি কাজ একেবারে না করাঃ সুয়াল না করা , সুয়ালের ভান না করা, বিনা অনুমতিতে কারো জিনিস না নেয়া, অপচয় না করা 

১২ টি কাজের সাথে আরও ৪টি কাজ করাঃচার দেয়ালের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখা, আমিরের কথা মান্য করা, ইনফেরাদী আমল নিজ গরজে আদায় করা, প্রতিটি এস্তেমায়ী আমলে তাকবিরে উলার সাথে জোড়া।


➤➤➤মসজিদের পাঁচ কাজ
১. প্রতিদিন মাশওয়ারা করা। ২. প্রতিদিন মসজিদে ও ঘরে তালিম করা। ৩. দৈনিক আড়াই ঘণ্টার মেহনত করা। ৪. প্রতি সপ্তাহে নিজ মহল্লায় ও অন্য মহল্লায় গাশ্ত করা। ৫. প্রতি মাসে আল্লাহর রাস্তায় তিনদিন সময় লাগানো।

➤➤➤ইজতেমায়ী আমল ১০ টি
১.সফর,২.মনযিল,৩.মাশওয়ারা,৪.তালীম,৫.নামায,৬.মুযাকারা,৭.উমুমী গাশত,৮.উমুমী বয়ান,৯.খাওয়া,১০.ঘুম।

➤➤➤গাশত ৫ প্রকারঃ
১।খুসুসী গাশত
এটি আবার তিন প্রকার:
ক.দীনের লাইনে বড়(যেমন:আলেম-উলামা)
খ.কাজের লাইনে বড়(চিল্লার সাথী)
গ.দুনিয়াবী লাইনে বড়(চেয়ারম্যান,মেম্বার,ডাক্তার,মাস্টার)
২।উমূমী গাশত
৩।তালীমী গাশত
৪।তাশকিলী গাশত
৫।উসূলি গাশত

➤➤➤মসজিদে যেসব কাজ নিষিদ্ধঃ
১।মসজিদে দীনের কথা বা কাজ ব্যতীত অন্য কথা বা কাজ করা নিষেধ।
২।মসজিদে দুর্গন্ধময় কোন জিনিস নিয়ে প্রবেশ নিষেধ।
৩।মসজিদে ক্রয় বিক্রয় করা নিষেধ।
৪।মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলা যাবেনা।
৫।মসজিদে অপরাধীর শাস্তি ও শাসন করা।যাবেনা।
৬।মসজিদে রাজনৈতিক মিটিং করা মসজিদের আদবের খেলাপ।
৭। মসজিদের ভেতরে প্রত্যেক ওয়াক্তে নামায আদায় করার জন্য কোন স্থান নির্দিষ্ট করে রাখা যাবেনা।যে যেখানে এসে স্থান নিবে সে সেখানে নামায আদায় করবে।একে অন্যকে উঠাতে পারবেনা।

সংগৃহীত,সংযোজিত ও সম্পাদিত


এ বিভাগের আরো লেখা

(শর্ট) তাবলীগের ছয় নম্বর

(ফুল) তাবলীগের ছয় নম্বর

গাশতের আদব

তারুফী বয়ান

ইমান একীনের কথা

মুতাকাল্লিমের দাওয়াত (আছর বাদ গাশতে বের হয়ে যা বলবো তার কিছু নমুনা )

ফজর নামাযের পরে গাশতে বের হয়ে যা বলবো তার কিছু নমুনা

মাশওয়ারা,তালীম,১২ কাজ,গাশত পাঁচ প্রকার,ইজতেমায়ী আমল,মসজিদে যেসব কাজ নিষিদ্ধ

Pages