(ফুল) কুরআন ও হাদীসের আলোকে তাবলীগের ছয় নম্বর - iAlo24.Blogspot.Com

শনিবার, এপ্রিল ২২, ২০২৩

(ফুল) কুরআন ও হাদীসের আলোকে তাবলীগের ছয় নম্বর



➤কুরআন ও হাদীসের আলোকে তাবলীগের ৬ নম্বর
(যেসব ভায়েরা তাবলীগে প্রথম গেছেন।কখনো বয়ান করেননি।কি বয়ান করবেন খুঁজে পাননা।তারা এটি সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।)

মেরে মুহতারাম দোস্ত বুজুর্গ,
হযরত সাহাবায়ে কেরাম হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সোহবতে থেকে অনেক গুণ অর্জন করেছিলেন।তাঁদের মধ্যে ছিলো ইমানের গুণ।তারা খাঁটি ইমানদার ছিলেন।ইমানের উপর তারা এমন মেহনত করেছেন যে তাদের দিল থেকে দুনিয়া বের হয়ে গিয়েছিলো।আল্লাহ তাআলাই যে সবকিছু করেন,আল্লাহ তাআ'লার থেকেই যে সবকিছু হয় একথার একীন একশ ভাগের একশ ভাগ তাঁদের অন্তরে বসে গিয়েছিলো।এজন্য তাঁরা কখনো দুনিয়ার কারো কাছে মাথা নত করেননি।তাঁরা শুধুমাত্র আল্লাহ তাআ'লাকেই ভয় করতেন।দুনিয়ার কাউকেই ভয় করতেন না।তাঁরা একমাত্র আল্লাহ তাআ'লার উপরই ভরসা করতেন।চাকরী-বাকরী,ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষেত-খামার,টাকা-পয়সার উপর তাঁদের ভরসা ছিলোনা।

মেরে ভাই আমরাও সেই কালিমা পড়েছি যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোন মাবুদ নাই, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার রাসুল।

কিন্তু আমাদের দিলের মধ্যে এখনোও এ কালেমার একীন বসেনি।

মেরে ভাই,
এই কালিমার উদ্দেশ্য হলো আমরা দুই চোখে যা কিছু দেখি বা না দেখি আল্লাহ ছাড়া সবই মাখলুক। মাখলুক কিছুই করতে পারেনা আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর আল্লাহ সবকিছুই করতে পারেন মাখলুকের কোন প্রকার সাহায্য ছাড়া। একমাত্র হুযুর সাল্লাল্লাহু সালামের নূরানী তরিকায় দুনিয়া এবং আখেরাতের শান্তি ও কামিয়াবি।

মেরে ভাই,এ কথাগুলো আমাদের অন্তরে বসাতে হবে।মুখে তো কালেমা পড়েছি।কিন্তু এখনো আমরা অন্তরে বসাতে পারিনি।এই কালিমার উপর আমাকে এমনভাবে মেহনত করতে হবে যাতে দিলের মধ্যে কালেমার একীন বসে যায়।

এই কালেমার ফযীলত হলোঃ


আল্লাহ তাআ'লা বলেন,
إِنَّنِيْ أَنَا اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِيْ
"নিশ্চয় আমিই আল্লাহ।আমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই।সুতরাং তুমি আমার ইবাদত করো।(ত্বহা-১৪)

১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ شَهِدَ أَلَّا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللّٰهِ
যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে,আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই এবং হযরত মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল,
حَرَّمَ اللّٰهُ عَلَيْهِ النَّارَ
আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর জাহান্নামকে হারাম করে দেন।(মুসলিম-২৯)

২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهٖ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(আবু দাউদ-৩১১৬-সহীহ)

ভাই আমরা এ কালেমা বেশি বেশি পাঠ করবো যেন এই কালেমার একীন আমাদের দিলে বসে যায়। মৃত্যুর সময় যেন জবানে চলে আসে। আর আমরা অপর ভাইকে এই কালিমার বেশি বেশি দাওয়াত দিবো।।

নামাযঃ

মেরে ভাই,
ইমানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামায।মুসলমান এবং কাফেরের মাঝে পার্থক্যই হলো নামায।মুসলমান নামায পড়ে কিন্তু কাফেররা নামায পড়েনা।এখন কোন মুসলমান যদি নামায না পড়ে তার মাঝে আর কাফেরের মাঝে কোন পার্থক্য থাকলো? থাকলোনা।
এজন্য ভাই একজন মুসলমান কখনো নামায না পড়ে থাকতে পারেনা।

হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নামায পড়তে বলেছেন এবং সাহাবাদেরকে যেভাবে নামায শিক্ষা দিয়েছেন সেভাবে নামায পড়ার যোগ্যতা অর্জন করার চেষ্টা করা।

নামাযের ফযীলতঃ

১।আল্লাহ তাআলা বলেন,
  إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ ۗ 

নিশ্চয় নামায অশ্লীল এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।(আনকাবুত ৪৫)

মেরে ভাই,
আমার নামায যদি ঠিক হয়ে যায় আমার থেকে সব গুনাহ দূর হয়ে যাবে।কিন্তু আমাদের অবস্থা হলো আমরা নামায ও পড়ি সুদও খাই,নামাযও পড়ি ঘুষও খাই,নামাযও পড়ি পর নারীকেও দেখি,নামায ও পড়ি অশ্লীল সিনেমা নাটক দেখি,নামাযও পড়ি মিথ্যা কথাও বলি।নামাযও পড়ি মানুষকেও ঠকায়।
বুঝা গেলো আমাদের নামায হয়না।আমাদের নামায গুনাহ থেকে বাঁচাতে পারেনা।সুতরাং মেহনত করে এমন নামায বানাতে হবে যেন নামাযের দ্বারা আমি গুনাহ থেকে বাঁচতে পারি।

২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো,
أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللّٰهِ؟
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?
তিনি বললেন,
اَلصَّلاَةُ عَلٰى وَقْتِهَا
সময় মত নামায আদায় করা।(বুখারী-৫২৭)

মের ভাই, আমরা পাঁচ ৫ ওয়াক্ত ফরয নামায জামাতের সাথে আদায় করি। ওয়াজিব ও সুন্নাত নামাযের প্রতি যত্নবান হই ও কাযা নামায গুলো খুঁজে খুঁজে আদায় করি।নামাজের লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দেই ও সমগ্র উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য দুআ করি।

ইলমঃ

মেরে ভাই,
নামায সহীহ শুদ্ধ করার জন্য ইলম শিখতে হবে ,সূরা কেরাত,দুআ-দরুদ সহীহ করতে হবে।সূরা কেরাত সহীহ হওয়া ছাড়া হাজার বছর নামায পড়লেও নামায কবুল হবেনা।এজন্য আমরা ইলম শিখবো,সূরা-কেরাত গুলো মশক করবো।মাসয়ালা জেনে যে কোন আমল করবো।ইসলামে ইলম শেখাকে ফরয করা হয়েছে।

হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلٰى كُلِّ مُسْلِمٍ
প্রত্যেক মুসলমানের উপর ইলম শিক্ষা করা ফরয।(জামেউস সগীর)

মেরে ভাই, নামায পড়া যেমন ফরয,রোযা রাখা যেমন ফরয,যাকাত দেয়া যেমন ফরয, ইলম শেখাও তেমনি ফরয।ইলম ছাড়া আমার কোন আমল সহীহ হবেনা।সহীহ ভাবে আমল না করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবেনা।এজন্য ইলম শিক্ষা করাকে ফরয করা হয়েছে।কিন্তু আমরা আজ এ ফরযকে তরক করে গুনাহগার হচ্ছি সেদিকে আমাদের খেয়াল নেই।এজন্য ভাই আমরা ইলম শিখবো।

ইলমের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার কখন কি আদেশ ও নিষেধ তা জেনে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা অনুযায়ী আমল করা।

ইলম শেখার অনেক ফযীলত রয়েছেঃ


আল্লাহ তাআ'লা বলেন,
قُلْ هَلْ يَسْتَوِيْ الَّذِيْنَ يَعْلَمُوْنَ وَالَّذِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ

"বলুন,যারা জানে আর যারা জানেনা উভয়েই কি সমান? " (সূরা যুমার-৯)

অর্থাৎ যারা ইলম শিখে আর যারা শিখেনা তারা কি সমান হতে পারে।কখনোই সমান হতে পারেনা।এজন্য ভাই আমরা ইলম শিখবো।ইলম শিখে ইলম অনুযায়ী আমল করবো।আন্দাজে অনুমান করে কোন আমল করবো না।

১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ سَلَكَ طَرِيْقًا يَلْتَمِسُ فِيْهِ عِلْمًا
যে ব্যক্তি ইলম শেখার জন্য কোন পথে চলে
سَهَّلَ اللّٰهُ لَهُ طَرَيْقًا إِلَى الْجَنَّةِ،
আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন।(তিরমিযী -২৬৪৬-হাসান-ইসলামিয়া কম্পিউটার নুসখা)

২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ يُّرِدِ اللهُ بِهٖ خَيْرًا
আল্লাহ যার কল্যাণ চান
 يُفَقِّهْهُ فِي الدِّيْنِ
তাকে দীনের সমঝ দান করেন।(বুখারী-৭১)

আমরা ইলম দুই ভাগে শিখি। ১/ ফাযায়েলে ইলম ও ২/ মাসায়েলে ইলম। ফাযায়েলে ইলম তালিমের হালকা থেকে শিখি আর মাসায়েলে ইলম উলামায়ে কেরামদের কাছ থেকে জেনে নেই।এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দেই।

যিকিরঃ

একজন মানুষ সর্বদা তার প্রিয় ব্যক্তিকে স্বরণ করে।প্রিয় ব্যক্তির স্বরণে সে স্বাদ ও আনন্দ অনুভব করে।একজন ইমানদার ব্যক্তির কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলেন আল্লাহ তাআ'লা।ইমানদার ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভালোবাসে।সর্বদা সে আল্লাহকে স্বরণ করে।আল্লাহর যিকির করে।এজন্য ভাই যিকেরের সিফত আমার মধ্যে আনতে হবে।যিকিরের উদ্দেশ্য হলো সব সময় আল্লাহ তাআ'লার ধ্যান ও খেয়াল অন্তরে পয়দা করা।

যিকিরের অনেক ফযীলত রয়েছে:

১।আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اذْكُرُوْا اللّٰهَ ذِكْرًا كَثِيْرًا وَسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَأَصِيْلًا
হে ইমানদারগণ, তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করো এবং সকাল বিকাল তাঁর তাসবীহ পাঠ করো।(আল আহযাব ৪১-৪২)

২।আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاذْكُرُوْنِيْ أَذْكُرْكُمْ
তোমরা আমাকে স্বরণ করো,আমিও তোমাদের স্বরণ করবো।(আল বাকারা-১৫২)


৩।হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
أَحَبُّ الْكَلَامِ إِلَى اللّٰهِ أَرْبَعٌ سُبْحَانَ اللّٰهِ, وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ, وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ, وَاللّٰهُ أَكْبَرُ
আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কালিমা হলো চারটি সুবহানাল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,আল্লাহু আকবার।(মুসলিম-২১৩৭)

৪।হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
(مَنْ صَلّٰى عَلَيَّ وَاحِدَةً، صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ عَشْرًا
যে আমার উপর একবার দরুদ পড়ে আল্লাহ তাআ'লা তার উপর দশ বার রহমত নাযিল করেন।(মুসলিম-৪০৮)

৫।হাদীসে কুদসীতে এসেছে,
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
يَا ابْنَ آدَمَ !
হে আদম সন্তান,
لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوْبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ
তোমার গুনাহ যদি আসমানের উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে যায়
ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِيْ
অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও
غَفَرْتُ لَكَ
আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো।
وَلَا أُبَالِيْ
আমি কোন পরোয়া করি না।(তিরমিযী-৩৫৫৬ -হাসান-ইসলামিয়া কুতুবখানা কম্পিউটার নুসখা)

মেরে ভাই,আমরা সকাল বিকাল ১০০ বার করে তিন তাসবীহ পাঠ করবো।
তিন তাসবীহ হলো 
সুবহানাল্লাহি ওয়াল আলহামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।(সকালে ১০০ বার,বিকালে ১০০ বার)
যে কোন দরুদ শরীফ যেমন সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-(সকালে ১০০ বার বিকালে ১০০ বার)
যে কোন ইস্তেগফার যেমন আস্তাগফিরুল্লাহ (সকালে ১০০ বার বিকালে ১০০ বার)

নিয়মিত বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করার চেষ্টা করবো।এবং জায়গা বিশেষ মাসনুন দুআ আদায় করবো।এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।

একরামুল মুসলিমিনঃ

মানুষ সামাজিক জীব।আমরা একা একা জীবন-যাপন করতে পারিনা।সবাইকে নিয়েই আমাদের বসবাস।তাই আমাদের জন্য কর্তব্য হলো প্রতিটি মাখলুকের এহসান করা, প্রত্যেক মুসলমান ভাই এর মর্যাদা জেনে তার সম্মান করা।

ফযীলতঃ

আল্লাহ তাআ'লা বলেন,

وَالْكَاظِمِيْنَ الْغَيْظَ وَالْعَافِيْنَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللّٰهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
"যারা রাগ হজম করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়।আল্লাহ এরুপ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।"(আলে ইমরান- ১৩৪)

মেরে ভাই,
রাগ উঠলে আমরা আল্লাহর জন্য হজম করে নিবো।ঝগড়াঝাটিতে লিপ্ত হবোনা।আর কেউ যদি আমার প্রতি খারাপ ব্যবহার করে আমি তাকে মাফ করে দিবো।এর বিনিময়ে আমি আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করবো।আল্লাহ আমাকে ভালোবাসবেন।

১।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لاَ يَرْحَمُ اللّٰهُ مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَ
আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন না,যে মানুষের প্রতি দয়া করে না।(বুখারী-৭৩৭৬)

২।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيْرَناَ
ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় যে বড়দেরকে সম্মান করে না,
وَيَرْحَمْ صَغِيْرَنَا
এবং ছোটদের প্রতি দয়া করে না,
وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا
এবং আলেমের (হক) অনুধাবন করে না।(মুস্তাদরাকে হাকেম-৪২৫,মুসনাদে আহমদ-২২৭৫৫-হাসান)

৩।এক হাদীসে এসেছে,এক মহিলা একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখছিলো।সে বিড়ালটিকে খাবার-পানি দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যে বিড়ালটি নিজে পোকামাকড় খাবে।ফলে বিড়ালটি মারা যায়।এর কারণে মহিলাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে।(বুখারী-৩৪৮২)

৪।এক হাদীসে এসেছে,এক পতিতা মহিলা মৃতপ্রায় তৃষ্ণার্ত একটি কুকুরকে পানি পান করিয়েছিলো,ফলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়।(বুখারী-৩৩২১)

আমরা আলেমদেরকে ইজ্জত করবো,বড়দের সম্মান করবো এবং ছোটদেরকে স্নেহ করবো।কোন মাখলুককে অযথা কষ্ট দিবোনা।এবং অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।

সহীহ নিয়তঃ

আমরা যে কোন নেক কাজ করবো আল্লাহকে রাজি এবং খুশি করার জন্যই করবো।যদি আমি লোক দেখানোর জন্য,সুখ্যাতি লাভের জন্য নামায পড়ি,দান সদকা করি,হজ্জ করি, যাকাত দেই তাহলে আমি সামান্য সওয়াবও পাবনা।বরং আমি শাস্তির মধ্যে পাকড়াও হবো।আর যদি সহী নিয়তে সামান্য আমলও করি আল্লাহ তাআ'লা এর বিনিময়ে ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সওয়াব বাড়িয়ে দিবেন।বরং কাউকে বেহিসাব দিবেন তার মজবুত নিয়তের কারণে।

ফযীলতঃ


আল্লাহ তাআ'লা বলেন,

لَنْ يَنَالَ اللّٰهَ لُحُوْمُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلٰكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنْكُمْ*
"আর আল্লাহর কাছে না তাদের গোশত পৌঁছে,না তাদের রক্ত,বরং তাঁর কাছে পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া।(সূরা হজ্জ-৩৭)

মেরে ভাই,
আমাদের কুরবানীর গোশত,রক্ত কোন কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না।শুধু পৌঁছে আমাদের তাকওয়া।অর্থাৎ আমরা আল্লাহর জন্য কুরবানী করি, না মানুষ দেখানোর জন্য করি,গোশত খাওয়ার জন্য করি।যদি আল্লাহর জন্য হয় তাহলে আমরা সওয়াব পাবো।আর যদি লোক দেখানো হয়,গোশত খাওয়ার জন্য হয় তাহলে কোন সওয়াব পাবোনা।ঠিক তেমনি আমার নামায,রোযা,যাকাত,হজ্জ যদি আল্লাহর জন্য হয় তাহলে আমরা সওয়াব পাবো।আর যদি লোক দেখানো হয় তাহলে কোনই সওয়াব পাবোনা।

১।হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوٰى
সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।মানুষ তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে।(বুখারী,মুসলিম)

২।হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ اللّٰهَ لاَ يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ
নিশ্চয় আল্লাহ তাআ'লা সেই আমল কবুল করেন যা কেবল মাত্র তার জন্যই করা হয় এবং সেই আমল দ্বারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়।(নাসায়ী)

৩।হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

"‏ إِنَّ اللّٰهَ لاَ يَنْظُرُ إِلٰى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلٰكِنْ يَنْظُرُ إِلٰى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ

আল্লাহ তাআ'লা তোমাদের চেহারা এবং সম্পদসমূহ দেখেননা তিনি দেখেন তোমাদের অন্তর এবং আমলসমূহ।(মুসলিম)

সঠিক নিয়ত হাসিল করার তরিকাঃআমরা প্রত্যেক কাজ করার আগে খেয়াল করবো এতে আল্লাহর হুকুম ও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরিকা ঠিক আছে কিনা এবং তা আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য হচ্ছে কিনা।যদি নিয়ত ঠিক থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ বলে কাজ শুরু করবো।আর যদি নিয়ত ঠিক না থাকে তাহলে ইস্তেগফার পড়ে নিয়তকে ঠিক করে নিবো।এবং এর লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দিবো।

দাওয়াত ও তাবলীগঃ


মেরে ভাই,
আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বশেষ নবী।তাঁর পর আর কোন নবী নাই।তিনি হলেন কিয়ামত পর্যন্ত সকলের নবী।আমরা হলাম সর্বশেষ উম্মত।আমাদের নবী দাওয়াতের কাজ করে গেছেন।তারপর এ দাওয়াতের কাজ সাহাবায়ে কেরাম করেছেন।তারপর তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন করে গেছেন।এভাবে এ দাওয়াতের জিম্মাদারী আমাদের পর্যন্ত চলে এসেছে।এখন আমরা এ দাওয়াতের জিম্মাদার।এ দাওয়াতের কাজ আমাদেরকে করতে হবে।নয়লে কিয়ামতের দিন আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।

আল্লাহর দেওয়া জান,আল্লাহর দেওয়া মাল এবং আল্লাহর দেওয়া সময় নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে জান, মাল ও সময়ের সহী ব্যবহার শিক্ষা করতে হবে।এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বীনকে কিভাবে সারা বিশ্বে প্রচার করা যায় তার জন্য ফিকির করতে হবে।

 ফযীলতঃ

১।আল্লাহ তাআ'লা বলেন,

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ
“তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, মানুষের (মঙ্গলের) জন্যই তোমাদেরকে বের করা হয়েছে,তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজের নিষেধ কর।(আলে ইমরান -১১০)

২।আল্লাহ তাআ'লা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا قُوْا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ نَارًا

হে ইমানদারগণ,তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।(আত তাহরীম ৬)

৩।হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
((وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهٖ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوْشِكَنَّ اللّٰهُ أَنْ يَّبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَهُ فَلاَ يُسْتَجَابُ لَكُمْ)).

ঐ সত্তার শপথ,যার কুদরতি হাতে আমার প্রাণ,অবশ্যই তোমরা সৎ কাজের আদেশ প্রদান করবে এবং অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান করবে অন্যথায় আল্লাহ তাআ'লা তোমাদের নিকট আযাব পাঠাবেন অতঃপর তোমরা তাঁর নিকট দুআ করবে কিন্তু তোমাদের দুআ কবুল করা হবেনা।(তিরমিযী)

৪।হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রাঃ)কে বলেন,

فَوَاللّٰهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللّٰهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا، خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ"

আল্লাহর কসম! তোমার দ্বারা আল্লাহ তাআ'লার কোন এক ব্যক্তিকে হেদায়েত দেওয়া তোমার জন্য উত্তম হবে লাল বর্ণের উট পাওয়ার চেয়েও।(বুখারী)

মেরে ভাই,আরবদের নিকট সেই যুগে লাল বর্ণের উট খুবই পছন্দনীয় ছিলো।যদি এরকম উটের দাম ২০ লাখ টাকা হয় তো ২০ লাখ টাকা দান করলে যে সওয়াব পাওয়া যাবে আমার কথার দ্বারা যদি কোন ব্যক্তি হেদায়েত পেয়ে যায় তার চেয়েও উত্তম সওয়াব আল্লাহ তাআ'লা দান করবেন।

৫।হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ دَعَا إِلٰى هُدًى، كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُوْرِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذٰلِكَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْئًا

যে ব্যক্তি কোন ভালো কাজের দিকে ডাকে অতঃপর যারা সেই কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ সওয়াব সেও পাবে।এতে তাদের সওয়াব থেকে কোন কিছু কম করা হবেনা।(মুসলিম)

মেরে ভাই,আমার কথার দ্বারা যদি কোন ব্যক্তি নামাযী হয়ে যায়,কোন ব্যক্তি দান সদকা করে,কোন ব্যক্তি হজ্জ করে তো ঐ ব্যক্তি যে সওয়াব পাবে আল্লাহ তাআ'লা আমাকেও সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন।এবং তার থেকে কোন সওয়াব কম করা হবেনা।

এত বড় লাভের কাজ করতে আমি রাজি আছি এবং আপনাদেরকেও দাওয়াত দিচ্ছি।

মেরে ভাই,মুরুব্বীরা বলেন এ কাজ শিখতে হলে আলেমদের জন্য এক সাল,আওয়ামদের জন্য তিন চিল্লা অর্থাৎ চার মাস একাধারে আল্লাহর রাস্তায় সময় লাগানো।আর প্রতি বছর এক চিল্লা সময় লাগানো।

তো কোন কোন ভাই যেতে ইচ্ছুক। 
ভাই,নিয়ত করি এবং খুশি খুশি নাম লেখায়।

এ বিভাগের আরো লেখা

(শর্ট) তাবলীগের ছয় নম্বর

(ফুল) তাবলীগের ছয় নম্বর

গাশতের আদব

তারুফী বয়ান

ইমান একীনের কথা

মুতাকাল্লিমের দাওয়াত (আছর বাদ গাশতে বের হয়ে যা বলবো তার কিছু নমুনা )

ফজর নামাযের পরে গাশতে বের হয়ে যা বলবো তার কিছু নমুনা

মাশওয়ারা,তালীম,১২ কাজ,গাশত পাঁচ প্রকার,ইজতেমায়ী আমল,মসজিদে যেসব কাজ নিষিদ্ধ

Pages