চার সাক্ষী
আলহামদুলিল্লাহ,আমার ভাই,আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।তিনিই হায়াত এবং মউতকে সৃষ্টি করেছেন।কেন সৃষ্টি করেছেন?আমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য।আমরা কারা আল্লাহর হুকুম মেনে চলছি আর কারা মেনে চলছি না তা তিনি পরীক্ষা করে দেখবেন।আল্লাহ তা’আলা সূরা মুলকের ২ নং আয়াতে বলেন,
الَّذِيْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ
তিনিই মউত এবং হায়াতকে সৃষ্টি করেছেন
لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۚ
তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে কে আমলে সর্বোত্তম।
وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْغَفُوْرُ
তিনি মহাপরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল।
আমার ভাই,আমাদের থেকে দুনিয়ার কাজের হিসাব নেওয়া হবে।আমরা ভাল কাজ করি আর মন্দ কাজ করি সবকিছু সংরক্ষণ করা হচ্ছে।আমরা যাতে কিয়ামতের দিন আমলকে অস্বীকার করতে না পারি এজন্য চারটি সাক্ষীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রথম নম্বর সাক্ষী হলো সম্মানিত লেখক ফেরেশতাগণ।আমাদের আমল লেখার জন্য আমাদের প্রত্যকের সাথে দুজন ফেরেশতা আছেন।আমরা যা কিছু করছি তারা সবকিছুর খবর রাখছেন।আল্লাহ তা’আলা সূরা ইনফিত্বার এর ১০,১১ এবং ১২ নং আয়াতে বলেন,
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِيْنَ
নিশ্চয় তোমাদের জন্য নিযুক্ত আছে পর্যবেক্ষক।
كِرَامًا كَاتِبِيْنَ
তারা সম্মানিত লেখকবৃন্দ।
يَعْلَمُوْنَ مَا تَفْعَلُوْنَ
তারা জানে যা কিছু তোমরা কর।
আমার ভাই,আমাদের বিরুদ্ধে ২য় সাক্ষী হলো অঙ্গ-প্রতঙ্গ।কিয়ামতের দিন আমাদের হাত কথা বলবে।হাত বলবে,হে আল্লাহ সে অমুক অমুক গুনাহ করেছে।আর পা এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে।
আল্লাহ তা’আলা সূরা ইয়াসীন এর ৬৫ নং আয়াতে বলেন,
اَلْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰى أَفْوَاهِهِمْ
আজ আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দেবো
وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيْهِمْ
এবং তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে
وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ
এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে
بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ
তারা যা উপার্জন করতো সে সম্পর্কে।
আমার ভাই,আমাদের বিরুদ্ধে ৩য় নম্বর সাক্ষী হলো আমাদের আমলনামা।কিয়ামতের দিন আমাদেরকে আমলনামা হাতে দেওয়া হবে।আমরা দুনিয়াতে যা কিছু করেছি সবকিছু তাতে দেখতে পাবো।ছোট বড় কোন কিছুই বাদ যাবে না।সব আমলনামায় সংরক্ষণ করা হবে।আল্লাহ তা’আলা সূরা কাহাফের ৪৯ নং আয়াতে বলেন,
وَوُضِعَ الْكِتَابُ
আমলনামা সামনে রাখা হবে।
فَتَرَى الْمُجْرِمِيْنَ مُشْفِقِيْنَ مِمَّا فِيْهِ
আপনি(হে নবী) অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন তাতে যা আছে সে কারণে।
وَيَقُوْلُوْنَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هٰذَا الْكِتَابِ
তারা বলবে,হায় আমাদের দুর্ভোগ! এ কেমন আমলনামা!
لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَّلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا ۚ
ছোট-বড় কোন কিছুই ছাড়েনি সব সংরক্ষণ করেছে
وَوَجَدُوْا مَا عَمِلُوْا حَاضِرًا ۗ
তারা যা কিছু করেছিলো সব উপস্থিত পাবে।
وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا
আপনার রব্ব কারো প্রতি যুলুম করবেন না।
আমার ভাই,আমাদের বিরুদ্ধে চতুর্থ নম্বর সাক্ষী হলো যমীন।কিয়ামতের দিন এই যমীন আমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দেবে।যমীন বলবে হে আল্লাহ সে আমার উপর অমুক দিন অমুক সময় এই কাজ করেছে।অমুক অমুক গুনাহ সে আমার উপর করেছে।আল্লাহ তা’আলা সূরা যিলযালের ৪ নং আয়াতে বলেন,
يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا
সেদিন সে (যমীন) তার সব খবর বলে দেবে।
এছাড়া কিয়ামতের দিন আমাদের চোখ,কান,অন্তরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।চোখ বলবে, হে আল্লাহ সে আমার দ্বারা অমুক অমুক জিনিস দেখেছে।কান বলবে,হে আল্লাহ সে আমার দ্বারা অমুক অমুক কথা শুনেছে।অন্তর বলবে হে আল্লাহ সে আমার দ্বারা অমুক অমুক মন্দ ধারণা করেছে।আল্লাহ তা’আলা সূরা বনী ইসরাইল এর ৩৬ নং আয়াতে বলেন,
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُوْلًا
নিশ্চয় কান,চোখ এবং অন্তর এদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আমার ভাই,আমরা জিহবা দ্বারা যা কিছু বলি না কেন সব কিছু তৎক্ষণাৎ লিপিবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।এজন্য কথা বলার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।আল্লাহ তা’আলা সূরা ক্বফ এর ১৮ নং আয়াতে বলেন,
مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ
মানুষ যে কোন কথাই উচ্চারণ করে তার নিকট (লেখার জন্য) রয়েছে সদা প্রস্তুত একজন প্রহরী।
আমার ভাই,পালানোর কোন পথ নাই।কিয়ামতের দিন যদি আমি পাকড়াও হয়ে যায়,আমার জন্য জাহান্নামের ফায়সালা করা হয় তাহলে আমার বাঁচার কোন পথ থাকবে না।এজন্য আমরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী নিজের জীবনকে পরিচালনা করবো।আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন।আমীন।
