আল্লাহর পরিচয়
আমার ভাই,আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে মানুষের হেদায়েতের জন্য অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন।আল্লাহ তা’আলা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানে তুলে নেয়ার পর শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসার আগ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বছর আর কোন নবী আসেনি।নবী না আসার কারণে এবং নববী দাওয়াত না থাকার কারণে মানুষেরা আল্লাহ তা’আলাকে ভুলে গিয়েছিলো।তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন বস্তুর পূজা শুরু করলো।মক্কার মুশরিক এবং আহলে কিতাবদের মধ্যে ইয়াহুদী ও খৃষ্টান তারা আল্লাহকে রব্ব হিসেবে মানতো কিন্তু তারাও আল্লাহর সঙ্গে মাখলুককে শরীক করতো।মাখলুকের পূজার মাধ্যমে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করতো।
আল্লাহ তা’আলা যখন আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবুয়ত দান করলেন এবং এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়ার হুকুম দিলেন তখন আল্লাহর নির্দেশে তিনি মক্কার মধ্যে একত্ববাদের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন।মক্কার লোকদের নিকট এ দাওয়াত নতুন মনে হলো।কারণ তারা একাধিক খোদা মানতো।তখন তারা আল্লাহর বংশ সম্পর্কে নবীজীকে জিজ্ঞেস করলো?
তাফসীরে ইবনে কাসীরে এসেছে,হযরত উবাই বিন কা’ব রাঃ থেকে বলেন,
أَنَّ الْمُشْرِكِيْنَ قَالُوْا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا مُحَمَّدُ! اُنْسُبْ لَنَا رَبَّكَ.
মুশরিকগণ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো,হে মুহাম্মাদ! আপনার রবের বংশ পরিচয় সম্পর্কে বলুন।
فَأَنْزَلَ اللّٰهُ:
অতঃপর আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন।
قُلْ هُوَ اللّٰهُ أَحَدٌ
বলুন, হে নবী,আল্লাহ হলেন এক।
اَللّٰهُ الصَّمَدُ
আল্লাহ হলেন অমুখাপেক্ষী,সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী।
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ
তিনি কাউকে জন্ম দেননি।তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি।
وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
আমার ভাই,কুরআনের বিভিন্ন সূরার বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তা’আলা নিজের পরিচয় সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন।আল্লাহ তা’আলা সূরা বাকারার ১৬৩ নং আয়াতে বলেন,
وَإِلٰهُكُمْ إِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۖ
তোমাদের মা’বুদ হলেন একজন মা’বুদ।
لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوْ
তিনি ছাড়া কোন মা'বুদ নাই।
الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ
তিনি পরম করুণাময়,অতি দয়ালু।
আল্লাহ তা’আলা সূরা আলে ইমরানের ১৮ নং আয়াতে বলেন,
شَهِدَ اللّٰهُ أَنَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ
আল্লাহ সাক্ষ্য দেন তিনি ছাড়া কোন মা’বুদ নাই এবং ফেরেশতারা ও জ্ঞানীরাও
قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ
তিনি ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত।
لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
“তিনি ছাড়া কোন মা’বুদ নাই।তিনি মহা পরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাবান।”
আমার ভাই,এই বিশ্বজগতের সবাই মারা যাবে।সকল ফেরেশতা মারা যাবে,সকল জিন মারা যাবে,সকল মানুষ মারা যাবে,সকল জীব-জন্তু,পশু-পাখি মারা যাবে।একদিন আল্লাহ তা’আলা সকলকে মৃত্যু দেবেন।কোন কিছুই চিরঞ্জীব নয়।এক মাত্র আল্লাহ তা’আলা হলেন চিরঞ্জীব।আল্লাহ তা’আলার কোন মউত নেই।যখন কিছুই ছিলো না তখনও তিনিই ছিলেন।আবার যখন কিছুই থাকবে না,তখনও তিনিই থাকবেন।আল্লাহ তা’আলা সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতে বলেন,
اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوْ
আল্লাহ হলেন তিনি,যিনি ছাড়া কোন মা’বুদ নাই,
اَلْحَيُّ الْقَيُّوْمُ ۚ
তিনি চিরঞ্জীব,তিনি সবকিছুর নিয়ন্ত্রক,
لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلَا نَوْمٌ ۚ
“তাঁকে না তন্দ্রা পায়,না ঘুম।”
আমার ভাই,আমরা একমাত্র আল্লাহ তা’আলাকেই ডাকবো,তাঁর কাছেই সাহায্য চাইবো।আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবো না।আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর উপর ভরসা করবো না।কারণ একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সত্তা হলো স্থায়ী।বাকী যা আছে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।আসমান ধ্বংস হয়ে যাবে,যমীন ধ্বংস হয়ে যাবে,সূর্য ধ্বংস হয়ে যাবে,চন্দ্র ধ্বংস হয়ে যাবে,সাত আসমান এবং সাত যমীন ধ্বংস হয়ে যাবে,পাহাড়-পর্বত ধ্বংস হয়ে যাবে।বিশ্বজগতের সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে।বাকী থাকবেন একমাত্র আল্লাহ তা’আলা।
আল্লাহ তা’আলা সূরা ক্বসাসের ৮৮ নং আয়াতে বলেন,
وَلَا تَدْعُ مَعَ اللهِ إِلٰـهًا آخَرَ ۘ
তুমি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে মা’বুদ হিসেবে ডেকো না।
لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوْ ۚ
তিনি ছাড়া কোন মা’বুদ নাই।
كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ ۚ
তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।
لَهُ الْحُكْمُ
বিধান দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই।
وَإِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ
তাঁর দিকেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
আমার ভাই,আল্লাহর কাছে কোন কিছুই গোপন নেই।তিনি সবকিছু জানেন।আমরা যা আওয়াজ করে বলি তাও তিনি জানেন।আমরা যা আস্তে আস্তে বলি তাও তিনি জানেন।শুধু তাই নই আমরা মনে মনে অন্তরে যা কল্পনা করি, যা কোন মানুষ জানতে পারে না তাও তিনি জানেন।আল্লাহ তা’আলা সূরা মুলকের ১৩ নাম্বার আয়াতে বলেন,
وَأَسِرُّوْا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوْا بِهِ ۖ
তোমরা আস্তে কথা বলো কিংবা আওয়াজ করেই বলো,
إِنَّهُ عَلِيْمٌ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ
তিনি তো তোমাদের অন্তরের বিষয়েও অবগত।
আমার ভাই,আসমানে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর।যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর।আসমান ও যমীনের মাঝে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর।মাটির নীচে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর।তিনিই একমাত্র এসবের মালিক।আল্লাহ তা’আলা সূরা ত্বহার ৬ নং আয়াতে বলেন,
لَهُ مَا فِيْ السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ
আসমানে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর
وَمَا بَيْنَهُمَا
যা কিছু আছে আসমান ও যমীনের মাঝে তাও আল্লাহর
وَمَا تَحْتَ الثَّرٰى
আর যা কিছু আছে মাটির তলদেশে তাও আল্লাহর
আমার ভাই,এজন্য আমরা আল্লাহর আনুগত্য করবো।আল্লাহর হুকুম মত চলবো।আল্লাহ নারায হন এমন কাজ থেকে বিরত থাকবো।একদিন আমরা মারা যাবো।আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে কিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন।আদম আলাইহিস সালাম থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে সকলকে আল্লাহ তা’আলা একত্রিত করবেন।আল্লাহ তা’আলা সূরা নিসার ৮৭ নং আয়াতে বলেন,
اَللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوْ ۚ
আল্লাহ হলেন তিনি,যিনি ছাড়া কোন মা’বুদ নাই।
لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
অবশ্যই তিনি কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে একত্রিত করবেন।
لَا رَيْبَ فِيْهِ ۗ
যে দিনের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللّٰهِ حَدِيْثًا
আল্লাহর চেয়ে কথায় সত্যবাদী আর কে আছে?
আমার ভাই,আমরা মহান আল্লাহ তা’আলার হুকুম মেনে চলি।পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেই।পরকালের জন্য নেক আমল করতে থাকি।আল্লাহ তা’আলা যেন আমাদেরকে ইমানের সাথে মউত দেন এই দু’আ করি।আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাঁর হুকুম মেনে চলার তাওফিক দান করুন।আমীন।
