জান্নাত
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করে এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।এই দুনিয়াতে আমরা কিছুকাল থাকবো।অতঃপর যেদিন আল্লাহর হুকুম এসে যাবে এই দুনিয়া ছেড়ে আমাদেরকে চলে যেতে হবে।নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুনিয়া সম্পর্কে বলেন,
الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ، وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
"দুনিয়া হলো মুমিনের জন্য জেলখানা আর কাফেরদের জন্য জান্নাত।"(মুসলিম-২৯৫৬)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জেলখানায় একজন ব্যক্তি নিজের মন মত চলতে পারে না।জেলখানায় যারা বন্দী হয় তাদেরকে পুলিশের কথা মত চলতে হয়।পুলিশ যদি জেলখানায় বন্দী ব্যক্তিকে উঠতে বলে তাহলে তাকে উঠতে হয়।যদি বলে বসতে তাহলে তাকে বসতে হয়।অনুরূপ একজন ইমানদার ব্যক্তি দুনিয়াতে নিজের মন মত চলতে পারে না।আল্লাহর ভয়ে সে হারাম কাজ থেকে বিরত থাকে।তার মন চাই কোন গুনাহের কাজ করতে কিন্তু সে করতে পারে না।সে আল্লাহর মন মত চলে।নিজের মন মত চলতে পারে না।এজন্য দুনিয়াটা হলো মুমিনের জন্য জেলখানা।পক্ষান্তরে কাফের ব্যক্তি সে আল্লাহর হুকুম মত চলে না।নিজের মন যা চাই,তাই সে করে।তার ধরা বাধার কেউ নাই।যা খুশি তাই করে এজন্য দুনিয়াটা হলো তার জন্য জান্নাত।
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জেলখানায় যারা বন্দী হয় তাদেরকে বিভিন্ন কষ্ট সহ্য করতে হয়।খাওয়ার কষ্ট,ঘুমানোর কষ্ট।নানা প্রকার কষ্ট লেগেই থাকে।অনরূপ একজন ইমানদার ব্যক্তিকে দুনিয়াতে বিভিন্ন ধরণের কষ্ট ও মুসীবতের সম্মুখীন হতে হয়।গরম ও শীতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া,রমযান মাসে রোযা রাখা,মালের প্রতি মুহাব্বাত থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর জন্য তা খরচ করা,অসুস্থতা,বিপদ-আপদ,পেরেশানি বিভিন্ন ধরণের মুসীবত লেগেই থাকে।এজন্য এ দুনিয়া মুমিন ব্যক্তির জন্য হলো জেলখানা।
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,একজন ইমানদার ব্যক্তির শান্তির জায়গা হলো জান্নাত।জান্নাতের মধ্যে না আছে কষ্ট,না আছে দুঃখ।শুধু সুখ আর আনন্দ।জান্নাতের মধ্যে বিপদ নাই,মুসীবত নাই,অসুস্থতা নাই,কেউ বুড়ো হবে না।যৌবন হবে চিরস্থায়ী।
সর্বপ্রকার নি’আমত আছে জান্নাতে।জান্নাতে একজন ইমানদার ব্যক্তি মন যা চাই,তাই পাবে।সেখানে কোন বাঁধা থাকবে না।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَشْتَهِيْ أَنْفُسُكُمْ
তোমাদের মন যা কামনা করে সেখানে তা পাবে
وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَدَّعُوْنَ
এবং তোমরা যা কিছু চাইবে তাও পাবে।(সূরা হা-মীম আসসাজদাহ-৩১)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জান্নাত পেতে হলে ইমান ও আমল বানাতে হবে।ইমান যদি না বানায় আমল যদি না করি তাহলে কিন্তু জান্নাত পাওয়া যাবে না।একজন ব্যক্তি কারো দোকানে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ হলো।এখন সে যদি কাজ না করে তাকে কি বেতন দেওয়া হবে? কখনোই দেওয়া হবে না।অনুরূপ আমরা যদি মেহনত করে ইমান-আমল না বানায় আমাদেরকেও জান্নাত দেয়া হবে না।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ
নিশ্চয়ই যারা ইমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে
كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا
তাদের জন্য মেহমানদারীস্বরূপ জান্নাতুল ফিরদাউস রয়েছে।
خَالِدِيْنَ فِيْهَا
তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।
لَا يَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا
তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও যেতে চাইবে না।(সূরা কাহাফ-১০৭,১০৮)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,এই বিশ্বজগতের মধ্যে যত জায়গা আছে তার মধ্যে সবচেয় সুন্দরতম স্থান হলো জান্নাত।জান্নাতে এত নেয়ামত রয়েছে যা দেখে জান্নাতী ব্যক্তি কখনো জান্নাত ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাইবে না।জান্নাতী ব্যক্তি এই কামনা করবে, জান্নাত থেকে যেন আর কখনো বের হতে না হয়।
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,যারা আল্লাহকে রব্ব বলে স্বীকার করে নিয়েছে,যারা আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছে,যারা নেক আমল করেছে কেবল তাদেরকেই আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
إِنَّ اللّٰهَ يُدْخِلُ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ঐ সকল ব্যক্তিদেরকে যারা ইমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে।"(সূরা হজ্জ-২৩)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,দুনিয়ার মধ্যে আপনার যদি এমন একটা বাড়ি থাকে যার নীচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় তাহলে সেটা কেমন আনন্দদায়ক হবে।
মহান আল্লাহ তা’আলা বান্দাকে খুশি করার জন্য এমন জান্নাত দেবেন যার নীচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ
"জান্নাতের নীচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে।(সূরা হজ্জ-২৩)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,দুনিয়ার মধ্যে পুরুষের জন্য স্বর্ণ ও মোতির চুড়ি এবং অলংকার পরা হারাম।আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতে পুরুষের জন্য এগুলো পরা হারাম করেছেন।কিন্তু জান্নাতে যারা যাবে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে স্বর্ণ ও মোতির অলংকার পরাবেন।সেখানে এগুলো ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
يُحَلَّوْنَ فِيْهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّلُؤْلُؤًا
সেখানে অর্থাৎ জান্নাতে তাদেরকে সাজানো হবে স্বর্ণের চুড়ি এবং মণি-মুক্তার অলংকার দ্বারা।(সূরা হজ্জ-২৩)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,দুনিয়াতে রেশমি পোশাক পরা পুরুষের জন্য হারাম।রেশমি পোশাক খুবই নরম ও আরামদায়ক পোশাক।অত্যন্ত মূল্যবান ও দামি পোশাক।দুনিয়াতে রেশমি পোশাক পরা পুরুষের জন্য হারাম করা হয়েছে।কিন্তু ইমানদার বান্দারা যখন জান্নাতে যাবে সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلِبَاسُهُمْ فِيْهَا حَرِيْرٌ
তাদের পোশাক হবে রেশমের।(সূরা হজ্জ-২৩)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,যদি আপনার এমন একটি বাগান থাকে যেখানে বিশাল বিশাল গাছ রয়েছে।গাছের নীচে হেলান দিয়ে বসার স্থান রয়েছে।সেখানে আপেল,আঙ্গুর,কমলা,ডালিম সহ বিভিন্ন রকমের ফল-ফলাদি রয়েছে।আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে সেই ছায়ার নীচে বসে রয়েছেন।স্ত্রীর সঙ্গে আনন্দ ও ক্রীড়া কৌতুক করছেন আর ফল-ফলাদি খাচ্ছেন আপনার কেমন লাগবে।হ্যাঁ মহান রাব্বুল আলামীন বান্দার আনন্দের জন্য জান্নাতে এমন জায়গা প্রস্তুত করে রেখেছেন ।আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِيْ شُغُلٍ فَاكِهُوْنَ
নিশ্চয়ই জান্নাত বাসীরা সেদিন আনন্দে মগ্ন থাকবে।
هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِيْ ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُوْنَ
তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে।
لَهُمْ فِيْهَا فَاكِهَةٌ وَّلَهُمْ مَّا يَدَّعُوْنَ
"তাদের জন্য রয়েছে সেখানে ফল-ফলাদি এবং তারা যা চাইবে তাও রয়েছে।(সূরা ইয়াসীন -৫৫,৫৬,৫৭)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,যদি আপনাকে বড় কোন ব্যক্তি সালাম জানায় আপনার কেমন খুশি লাগবে।মনে করেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনাকে সালাম জানানো হলো আপনি কেমন আনন্দিত ও খুশি হবেন।আপনি এটা প্রচার করে বেড়াবেন। মানুষকে বলে আনন্দিত হবেন যে প্রধানমন্ত্রী আমাকে সালাম জানিয়েছে।
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জান্নাতে মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে জান্নাতী ব্যক্তিদেরকে সালাম জানানো হবে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
سَلَامٌ قَوْلًا مِّنْ رِّبٍّ رَّحِيْمٍ
পরম দয়াময় রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম।(সূরা ইয়াসীন-৫৮)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জান্নাতের সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো আল্লাহর দর্শন।জান্নাতী ব্যক্তিরা যখন আল্লাহর দর্শন লাভ করবে তখন আল্লাহর দর্শনের মোকাবেলায় সমস্ত নেয়ামত তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হবে।আল্লাহর দর্শন হবে তাদের নিকট সবচেয়ে বড় ও সুখকর নে’আমত।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ
সেদিন অনেক চেহারা চমকাতে থাকবে।
إِلٰى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ
তাকিয়ে থাকবে তাদের রবের দিকে।(সূরা কিয়ামাহ-২২,২৩)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,আমরা কি চাইনা আল্লাহর তা’আলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে?আমরা সবাই চাই মৃত্যুর পর যেন আল্লাহর দর্শন লাভ করি।
আল্লাহ তা’আলাকে দেখে চক্ষু দুটো শীতল করি।আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করতে হলে কি করণীয় এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে কুরআনে জানিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
فَمَنْ كَانَ يَرْجُوْ لِقَاءَ رَبِّهٖ
"যে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা রাখে
فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا
সে যেন নেক আমল করে।
وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهٖ أَحَدًا
এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে যেন শরীক না করে।(সূরা কাহাফ-১১০)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে সাক্ষাত করতে চাইলে খালেস আমল করতে হবে।রিয়া মুক্ত আমল করতে হবে।নেক আমল করতে হবে হবে।তাহলে আমি আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করতে পারবো।
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,আর এই ইমান ও আমলের মেহনতের জন্য আমাকে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে হবে।আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে ইমান ও আমল শিখতে হবে।এমনভাবে মেহনত করতে হবে যেন আমার যিন্দেগী আমলওয়ালা যিন্দেগী হয়ে যায়।আমি যেন আল্লাহর হুকুমের উপর উঠে যেতে পারি।কোন কোন ভাই আল্লাহর রাস্তায় যেতে ইচ্ছুক।খুশি খুশি নাম লেখায়।
