জাহান্নাম
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,আল্লাহ তা’আলা জান্নাত ও জাহান্নাম নামক দুটি স্থান সৃষ্টি করেছেন।বিশ্বজগতে যত জায়গা আছে তার মধ্যে জান্নাত হলো সবচেয়ে উত্তম স্থান আর জাহান্নাম হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান।দুনিয়াতে যারা আল্লাহর হুকুম মেনে চলবে,নেক আমল করবে,গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে,আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে মারা যাবে মৃত্যুর পর আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে জান্নাত দান করবেন।আর যারা আল্লাহর হুকুম মেনে চলবে না,গুনাহের কাজ করবে,আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মারা যাবে মৃত্যুর পর তারা জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে পাকড়াও হবে।
কেউ মোটা অংকের বেতনের চাকরি পেল অথবা কেউ অনেক সম্পত্তির মালিক হয়ে গেলো বা কেউ অনেক টাকা-পয়সার মালিক হয়ে গেলো তখন আমরা মনে করি সে সফলকাম হয়ে গেলো।না ভাই এটা সফলতা নয়। বরং সফলতার মাপকাঠি কি তা আল্লাহ তা’আলা কুরআনে জানিয়ে দিয়েছেন।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ
যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরানো হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো সেই সফলকাম হয়ে গেলো।"(সূরা আলে ইমরান-১৮৫)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,এই আয়াত দ্বারা আমরা জানতে পারলাম প্রকৃত সফলতা হলো জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারা এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পারা।কেউ দুনিয়াতে লক্ষ-কোটি টাকার মালিক হলো।দুনিয়ার যিন্দেগী খুব শান-শওকত আর বিলাসিতায় কাটালো কিন্তু মৃত্যুর পর সে জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে পাকড়াও হয়ে গেলো তার মত হতভাগা আর কেউ নাই।পক্ষান্তরে একজন ব্যক্তির দুনিয়াতে তেমন টাকা পয়সা নাই,মান-মর্যাদা নাই,কেউ তাকে দাম দেয় না,তার কথার প্রতি কান দেয় না কিন্তু লোকটা নামাযী,আল্লাহর হুকুম মেনে চলে,অতঃপর মৃত্যুর পরে সে জান্নাতে গেলো।তার মত সফলকাম আর কেউ নাই।
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,তাহলে প্রকৃত সফলতাই হলো জান্নাতে প্রবেশ করা,জাহান্নাম থেকে বাঁচা।জাহান্নাম এত ভয়াবহ স্থান যেখানে কষ্টের কোন শেষ নাই।না আছে সেখানে মৃত্যু,না আছে শান্তি।শুধু শাস্তি আর শাস্তি। বিশ্বজগতের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ স্থান হলো জাহান্নাম।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَلِلَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ ۖ
যারা তাদের রবের নাফরমানী করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
وَبِئْسَ الْمَصِيْرُ
তা কতই না নিকৃষ্ট স্থান।"(সূরা মুলক-৬)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,আল্লাহ তা’আলা যে স্থানকে নিকৃষ্ট বলেছেন তা কি পরিমাণ নিকৃষ্ট,ভয়ংকর ও ভয়াবহ স্থান হতে পারে এর দ্বারাই উপলব্ধি করতে পারি।
জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করার ক্ষমতা কারো নাই।জাহান্নামের শাস্তি এত ভয়াবহ হবে এবং আগুনের তীব্রতা এত বেশি হবে তা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
الَّتِيْ تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ
তা (আগুন) হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।(সূরা হুমাযাহ-৭)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জাহান্নামী ব্যক্তির চামড়া আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।আবার আল্লাহ তা’আলা তার উপর নতুন চামড়া তৈরী করে দেবেন।আবার পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।আবার আল্লাহ তা’আলা নতুন চামড়া তৈরী করে দেবেন।এভাবে অনবরত জাহান্নামী ব্যক্তির শাস্তি হতে থাকবে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيْهِمْ نَارًا
নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে,আমি তাদেরকে আগুনে প্রবেশ করাবো।
كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُوْدُهُمْ
যখনই তাদের চামড়া জ্বলে সিদ্ধ হয়ে যাবে
بَدَّلْنَاهُمْ جُلُوْدًا غَيْرَهَا
আমি এর পরিবর্তে অন্য চামড়া দেবো
لِيَذُوْقُوا الْعَذَابَ
যাতে তারা শাস্তি ভোগ করতে থাকে।(সূরা নিসা-৫৬)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জাহান্নামীদের খাবার হবে যাক্কুম গাছের ফল।তা হবে অত্যন্ত তিক্ত ও মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত এবং কাঁটাযুক্ত।জাহান্নামীরা ক্ষুধার কারণে এই গাছের ফল খাবে এবং এর দ্বারাই পেট ভরাবে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
لَآكِلُوْنَ مِنْ شَجَرٍ مِنْ زَقُّوْمٍ
তারা খাবে যাক্কুম গাছ থেকে।
فَمَالِئُوْنَ مِنْهَا الْبُطُوْنَ
অতঃপর এর দ্বারাই পেট পরিপূর্ণ করবে।"(সূরা ওয়াকিয়া-৫২,৫৩)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জাহান্নামীরা তৃষ্ণায় ছটফট করতে থাকবে।তারা পানি পান করার জন্য পানি চাইতে থাকবে।তাদের সামনে টগবগে ফুটন্ত পু্ঁজের ন্যায় পানি আনা হবে।এই পানি চেহারার সামনে আনার সঙ্গে সঙ্গে চেহারা ঝলসে যাবে।জাহান্নামীরা তৃষ্ণার কারণে ঐ ফুটন্ত পানি পান করবে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَإِنْ يَّسْتَغِيْثُوْا
"যদি তারা পানির জন্য ফরিয়াদ করে,
يُغَاثُوْا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ
তাদেরকে পুঁজের ন্যায় পানি দেয়া হবে।
يَشْوِي الْوُجُوْهَ
যা তাদের চেহারা ঝলসে দেবে।(সূরা কাহাফ-২৯)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জাহান্নামীর গলায় বেড়ি পরানো হবে।অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।এরপর ৭০ গজ শেকল দ্বারা তাকে বাঁধা হবে।যাতে করে সে শাস্তি ভোগ করার সময় নড়াচড়া করতে না পারে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
خُذُوْهُ فَغُلُّوْهُ
তাকে (জাহান্নামীকে) ধর এবং গলায় বেড়ি পরাও।
ثُمَّ الْجَحِيْمَ صَلُّوْهُ
অতঃপর জাহান্নামে প্রবেশ করাও
ثُمَّ فِيْ سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُوْنَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوْهُ
অতঃপর ৭০ গজ শেকল দিয়ে আবদ্ধ করো।(সূরা আল হাক্কাহ-৩০,৩১,৩২)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,জাহান্নামী ব্যক্তি জাহান্নামের শাস্তি সইতে না পেরে সেখান থেকে বের হতে চাইবে।কিন্তু যখনই সে বের হতে চাইবে তখনই তাকে পুনরায় জাহান্নামের মধ্যে ফিরিয়ে দেয়া হবে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
كُلَّمَا أَرَادُوْا أَنْ يَّخْرُجُوْا مِنْهَا
যখনই তারা সেখান (জাহান্নাম) থেকে বের হতে চাইবে
أُعِيْدُوْا فِيْهَا
তাদেরকে সেখানেই ফিরিয়ে দেয়া হবে।
وَقِيْلَ لَهُمْ
এবং বলা হবে
ذُوْقُوْا عَذَابَ النَّارِ
তোমরা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করো
الَّذِيْ كُنْتُمْ بِهٖ تُكَذِّبُوْنَ
যাকে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে।(সূরা আসসাজদাহ-২০)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,একপর্যায়ে জাহান্নামীরা জাহান্নামের শাস্তির যন্ত্রণা সইতে না পেরে মৃত্যু কামনা করবে।জাহান্নামীরা জাহান্নামের দারোগা মালেক ফেরেশতাকে ডেকে বলতে থাকবে হে মালেক আপনার রব্ব যেন আমাদেরকে মৃত্যু দিয়ে দেন।মালেক ফেরেশতা বলবেন,তোমাদেরকে এ অবস্থায়ই থাকতে হবে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَنَادَوْا يَا مَالِكُ
তারা ডেকে বলবে হে মালেক
لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ۖ
আপনার রব্ব যেন আমাদেরকে মৃত্যু দিয়ে দেন।
قَالَ إِنَّكُمْ مَاكِثُوْنَ
তিনি (ফেরেশতা) বলবেন,তোমাদেরকে এ অবস্থায়ই থাকতে হবে।(সূরা যুখরুফ-৭৭)
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ,এজন্য আমার সবসময় এই ফিকির থাকা উচিত কিভাবে আমি জাহান্নাম থেকে বাঁচবো।নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করার চেষ্টা করবো।আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন।আমীন।
