আল্লাহকে ভালোবাসা এবং গুনাহ থেকে
দূরে থাকা
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা’আলার লাখো কোটি শোকরিয়া তিনি আমাদেরকে মুসলমান বানিয়েছেন।ইমানের মত দৌলত দান করেছেন।একজন ইমানদার ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি আল্লাহকেই ভালোবাসে।সে আল্লাহর হুকুম মত চলার চেষ্টা করে।আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَالَّذِيْنَ آمَنُوْا أَشَدُّ حُبًّا لِّلّٰهِ
“যারা ইমানদার তারা সবচেয়ে বেশি আল্লাহকেই ভালোবাসে”(সূরা বাকারা আয়াত-১৬৫ )
আমরা মা-বাবাকে ভালোবাসি।স্ত্রী-সন্তানকে ভালোবাসি,ভাই-বোনকে ভালোবাসি।এজন্য তাদের আবদার পূরণ করি।মা-বাবা কোন আদেশ দিলে পালন করি।স্ত্রী-সন্তানের প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করি।ভাই-বোন বিপদে পড়লে সাহায্যে এগিয়ে আসি।কারণ আমরা তাদের ভালোবাসি।
আমার ভাই,যে আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করলেন,আমাকে ছোট থেকে বড় করলেন,আমাকে বুঝ দান করলেন,আমাকে খাওয়াচ্ছেন,পরাচ্ছেন,আমার সবকিছুর ব্যবস্থা করছেন শুধু সে আল্লাহকেই আমি ভুলে থাকি।আল্লাহকে যদি ভালোবাসতাম তাহলে আমি আযান শুনেও বাজারে বসে থাকতে পারতাম না।আমি গল্পগুজবে ব্যস্ত থাকতে পারতাম না।আল্লাহকে যদি আমি ভালোবাসতাম তাহলে ফজরের সময় নামায না পড়ে শুয়ে থাকতে পারতাম না।
আমার ভাই,আমার বিপদে-আপদে যখন কেউ পাশে থাকে না, সবাই দূরে চলে যায় তখনও আল্লাহ আমার সাথে থাকেন। আমি যখন বাসে থাকি অথবা ট্রেনে থাকি আর আমার সাথে কেউ থাকে না তখনও আল্লাহ আমার সাথে থাকেন।আমি অসুস্থ হয়ে একাকী পড়ে আছি তখনও আল্লাহ আমার সাথে থাকেন।আমি যেখানেই থাকি আল্লাহ আমার সাথে থাকেন।আমার মৃত্যুর সময়ও আল্লাহ আমার সাথে থাকবেন।কবরেও আল্লাহ আমার সাথে থাকবেন।কেয়ামতের মাঠেও আল্লাহ আমার সাথে থাকবেন।আর আমি সেই আল্লাহকেই ভুলে থাকলাম ! বুঝা গেলো আমি এখনো ইমানদার হতে পারিনি।কারণ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,
وَالَّذِيْنَ آمَنُوْا أَشَدُّ حُبًّا لِّلّٰهِ
“যারা ইমানদার তারা সবচেয়ে বেশি আল্লাহকেই ভালোবাসে”
আমার ভাই,এজন্য ইমানের উপর মেহনত করতে হবে।আমি যেন ইমানদার হতে পারি,আমার ভালোবাসা যেন সবচেয়ে বেশি আল্লাহর সঙ্গে হয়।আমার জীবন যেন আল্লাহর মর্জি মাফিক হয়ে যায়।
আমার ভাই,দুনিয়াতে শান্তি পাওয়ার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে।কেউ অন্তরের প্রশান্তির জন্য বিনোদন করে,কেউ অন্তরের প্রশান্তির জন্য মেডিটেশন-যোগব্যায়াম করে,কেউ অন্তরের প্রশান্তির জন্য আড্ডা ফুর্তি করে।কতজন কত রকম ভাবে অন্তরের প্রশান্তি লাভের জন্য চেষ্টা করে।কিন্তু তারপরও আমাদের অন্তরগুলো আজ পেরেশান,অস্থির।চেহারায় ফুটে ওঠে বিষণ্ণতার ছাপ।মনে সুখ নেই,শান্তি নেই,মনমরা।শুধুই ভালো লাগে না।অন্তরের প্রশান্তি কিভাবে লাভ করবো এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে আমাদেরকে জানিয়েছেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
أَلَا بِذِكْرِ اللّٰهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوْبُ
জেনে রেখো,আল্লাহর যিকিরের দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।”(সূরা রা’দ আয়াত -২৮)
আমার ভাই,আমরা যারা নামায পড়ি না,তাদের কথা বাদই দিলাম।আমরা যারা নামাযী তারাও তাড়াহুড়ো করে নামায পড়ি।নামায পড়ার পর যেন আমাদের এক সেকেন্ডও সময় নাই।আমি এতই ব্যস্ত যে মসজিদ থেকে পালাতে পারলেই মনে হয় বেঁচে গেলাম।তো আমরা যখন আল্লাহর যিকির ছেড়ে দিয়েছি তখন কিভাবে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করবো?কোথা থেকে সুখ মিলবে?
আমার ভাই,ভালো খাবার খাওয়া,ভালো বাড়িতে থাকা,দামি দামি পোশাক পরা,দামি দামি গাড়ি ব্যবহার করা আর অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার দ্বারাই কি অন্তরে সুখ মেলে?না ভাই, সম্পদ আর বিলাসিতার মধ্যে সুখ নেই।যদি সুখ থাকতো তাহলে কোটিপতিরা আত্মহত্যা করতো না।দেশে এতো আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়তো না।একজন মানুষ তখনই আত্মহত্যা করে যখন সে অন্তরে কোন প্রশান্তি অনুভব করে না।তার কাছে জীবনটা বিষাদ মনে হয়।এজন্য ভাই, অন্তরের প্রশান্তি লাভ করতে হলে আল্লাহর যিকির করতে হবে,আল্লাহর হুকুম মেনে চলতে হবে।আল্লাহর হুকুম মেনে চলার নামই হলো আল্লাহর যিকির।আর আল্লাহর হুকুম মেনে চলার মাধ্যমেই আমরা প্রকৃত শান্তি লাভ করবো।
আমার ভাই,আমি যদি বাস্তবে সুখ পেতে চাই,অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে চাই,হতাশা মুক্ত থাকতে চাই তাহলে যিকিরের অভ্যাস করি।দৈনিক ২৪ ঘন্টার মধ্যে যিকিরে মাত্র আধাঘন্টা অর্থাৎ ৩০ মিনিট সময় ব্যয় করি ।ছয় তাসবীহের যিকির করি।সুবহানাল্লাহ ১০০ বার,আলহামদুলিল্লাহ ১০০ বার,আল্লাহু আকবার ১০০ বার,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১০০ বার,আস্তাগফিরুল্লাহ ১০০ বার,দরুদ শরীফ যেমন সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০০ বার।নিয়মিত এই যিকিরগুলো করি।কিছুদিন যিকিরের অভ্যাস করি।তখন দেখতে পাবো জীবনের আনন্দ আর সুখ কি জিনিস।
আমার ভাই,আমাকে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।কারণ গুনাহ অন্তরকে অশান্ত করে তোলে।গুনাহের কারণে অন্তরে অস্থিরতা তৈরী হয়।গুনাহের কারণে অন্তর অসুস্থ হয়ে যায়।গুনাহের কারণে জীবন থেকে শান্তি চলে যায়।গুনাহের কারণে বালা-মুসীবত আসে।গুনাহের কারণে জীবনের আনন্দ হারিয়ে যায়।গুনাহের কারণে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।এজন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।গুনাহ করলে বান্দার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়।বান্দা যখন তা থেকে তাওবা করে তখন সেই দাগ মুছে যায়।আর যদি তাওবা না করে তখন কালো দাগ বাড়তে থাকে।এক সময় বেড়ে পুরো অন্তর কালো হয়ে যায়।
ইবনে মাজাহ এর এক হাদীসে এসেছে,
হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ
মুমিন বান্দা যখন গুনাহ করে
كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهٖ
তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়।
فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ
অতঃপর যদি সে তাওবা করে,গুনাহ পরিত্যাগ করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই
صُقِلَ قَلْبُهُ
তার অন্তর পরিস্কার হয়ে যায়।
فَإِنْ زَادَ زَادَتْ
আর যদি তার গুনাহ বাড়তে থাকে,তাহলে তার কালো দাগও বাড়তে থাকে।(ইবনে মাজাহ-৪২৪৪-হাসান)
আমার ভাই,এজন্য গুনাহের ব্যাপারে আমাকে সতর্ক হতে হবে যাতে আমার থেকে যেন গুনাহ না হয়।আমরা মানুষ গুনাহ হওয়াটাই স্বাভাবিক।শয়তানের ধোঁকায় পড়ে,নফসের ধোঁকায় পড়ে আমরা গুনাহ করে ফেলি।যখন গুনাহ হয়ে যাবে তখন তাওবা করতে ভুলবো না।গুনাহ যতবারই হোক না কেন ততবারই আমি তাওবা করবো।
এক হাদীসে এসেছে,হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
كُلُّ بَنِيْ آدَمَ خَطَّاءٌ
প্রতিটি আদম সন্তান গুনাহগার।
وَخَيْرُ الْخَطَّائِيْنَ التَّوَّابُوْنَ
আর গুনাহগারদের মধ্যে উত্তম হলো তাওবাকারী।(ইবনে মাজাহ -৪২৫১-হাসান)
আমার ভাই,গুনাহ থেকে তাওবা করলে আল্লাহ অনেক খুশি হন।যদি আমরা মা-বাবার কথা না শুনি তারা রাগ করেন।পরবর্তীতে যদি মা-বাবার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেই,তারা খুব খুশি হন।আল্লাহর দয়াতো মা-বাবার চেয়ে লক্ষ কোটি গুণ বেশি।আমরা গুনাহ করার পর যদি লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে মাফ চাই তিনি আমাদেরকে মাফ করে দেবেন।
শয়তান কিন্তু আমাদেরকে তাওবা না করার জন্য প্ররোচনা দিতে থাকে।সে সবসময় এটাই চেষ্টা করে বান্দা যেন তাওবা না করে মরে।কারণ তাওবা ছাড়া মারা গেলে জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে পাকড়াও হতে হবে।এজন্য দিনে ৭০ বারও যদি আমার থেকে গুনাহ হয়ে যায় আর আমি ৭০ বারই খাঁটি দিলে আল্লাহর কাছে মাফ চাই আল্লাহ আমাকে ৭০ বারই ক্ষমা করে দিবেন।
আমার ভাই,আমি যেন দীনের উপর উঠতে পারি,আমার ইমান-আমল যেন সুন্দর হয়ে যায়,আমার সূরা কেরাত যেন সহীহ হয়ে যায় এজন্য আমাকে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে হবে।কারণ সূরা কেরাত সহীহ না থাকলে কোটি কোটি রাকাত যদি অশুদ্ধ কেরাত দিয়ে পড়ি তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। আমরা যারা আম মানুষ তাদের মাদরাসায় আর ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই।তাবলীগ হলো আমাদের চলতি ফিরতি মাদরাসা।এজন্য আমরা আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে ইমান আমলের মেহনত করবো।তাছাড়া আমরা হলাম সর্বশেষ উম্মত।দাওয়াতের জিম্মাদারী আমাদের সকলের উপর।এ দাওয়াতের কাজ আমাদের শিখতে হবে এবং এ দাওয়াত নিয়ে পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়তে হবে।যদি আমরা এই দাওয়াতের কাজ ছেড়ে দেই আর গোটা এলাকার মানুষ যদি গুনাহের মধ্যে লিপ্ত হয়ে যায় এবং এর ফলে যদি আল্লাহর আযাব এসে যায় তখন সেই আযাব পাইকারীভাবে সবার উপর দিয়ে যাবে।এজন্য আমরা নিজেরাও ইমান-আমল শিখবো এবং পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী এবং সমস্ত উম্মত যেন দীনের উপর উঠতে পারে এই ফিকির করবো। তো কোন কোন ভাই যেতে ইচ্ছুক খুশি খুশি নাম লেখায়।
