আমরা আল্লাহর গোলাম।আমাদেরকে আল্লাহ তাআ'লা দুনিয়াতে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।আমাদেরকে এখানে খাওয়া-দাওয়ার জন্য পাঠানো হয়নি।আমার চিন্তা যদি শুধু এই হয় যে কিভাবে ভালো ভালো খাব, কিভাবে শান্তিতে থাকবো তাহলে আখিরাত আমার থেকে ছুটে যাবে।সারাদিন খাওয়ার পিছনেই আমার দিন কেটে যাবে।আমার থেকে আমল ছুটে যাবে।
খাওয়া নিয়ে মারামারি,তর্কাতর্কি করবোনা।অনেক সময় বিয়ের অনুষ্ঠানে বা কোন ভোজে খাওয়া নিয়ে ঝগড়া হয়।অমুকে এটা নিলো,অমুকে বেশি খেলো,খাওয়া ভালো করলোনা,বেশি গোশত দিলোনা এসব নিয়ে ঝগড়া হয়।গন্ডগোল হয়।আচ্ছা আমরা কি খাওয়ার গোলাম?খাওয়া নিয়ে মারামারি,কাটাকাটি,ঝগড়া করে কুকুররা।একটা মরা গরু যদি কেউ ফেলে দিয়ে আসে তো একটা কুকুর গোটা গরু খেতে পারবেনা।তারপরও অন্য কোন কুকুর যদি সেটা খেতে আসে তো এই কুকুরটা তার দিকে তাড়া করে।খাওয়া নিয়ে ঝগড়া করা,আমি একাই খাব,আমি ভালোটা খাবো এটা হলো কুকুরের স্বভাব।পশুর স্বভাব।
আমিতো আর পশু নয়।এজন্য আমার মধ্যে যদি এই পশুত্ব থাকে আমি তা দূর করার চেষ্টা করবো।নিজেকে বোঝাবো আমার জন্য আল্লাহ তাআ'লা যে রিযিক রেখেছেন তা আমার কাছে পৌঁছাবে।অযথা খাওয়ার পিছনে দৌড়ানো,খাওয়ার পিছনে ছুটোছুটি করা,খাওয়া নিয়ে মারামারি করা কেন করবো।দস্তরখানে যা আসবে আলহামদুলিল্লাহ।যদি খাবার এমন হয় যে আমার খেতে কষ্ট হচ্ছে তাহলে ধৈর্য ধরবো।আল্লাহ তাআ'লার কাছে দুআ করবো।আল্লাহ এই খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছে আপনি আমাকে এমন খাবার দান করুন যা আমার খেতে কষ্ট হবেনা।
অনেক সময় বিয়ে বাড়িতে খাবার নিয়ে ব্যাপক গন্ডগোল হয়।এমনকি মারামারি,কাটাকাটি পর্যন্ত গড়াই।এগুলোর দ্বারা সহজেই বুঝতে পারি আমরা কত বড় নির্বোধ।আমরা কত বড় হিংস্র।
তাই আমি এমন হবো কেউ বিয়ের দাওয়াত দিক বা না দিক,অনুষ্ঠানে ভালো খেতে পাই বা নাই আমি খাবার নিয়ে তর্কে যাবোনা।কুকুরের মত কামড়াকামড়ি করবোনা।
নিজেকে এমন বানাবো যেন আমি এমন হতে পারি আমি কারও খাওয়ার মুহতাজ নয়।আমি আল্লাহ তাআ'লার দিকে মুহতাজ।তিনি আমাকে যা খাওয়াবেন তাতেই আমি সন্তুষ্ট হবো।আমি খুশি থাকবো।খেতে পারলে শোকর আদায় করবো।অনাহারে থাকলে সবর করবো।
এই পঁচা দুনিয়ার পঁচা খাওয়া নিয়ে মারামারি করা, ঝগড়া করা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।বুজুর্গ ব্যক্তিগণ অল্প খাবার খেতেন।খাওয়া নিয়ে তাঁদের ফিকির ছিলোনা।তাঁরা আখিরাতের ফিকির করতেন।এজন্য তারা ইলম অর্জনে,কুরআন তিলাওয়াতে,যিকির আযকার করে সময় ব্যয় করতেন।কেউ ৩ দিনে এক খতম,কেউ ৭ দিনে, কেউ ১৫ দিনে,কেউ ১ মাসে কুরআন খতম করতেন।কেউ দৈনিক কয়েকশ রাকাত নফল পড়তেন।কেউ দৈনিক কয়েক হাজার বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও অন্যান্য যিকর করতেন।
আর আমরা সকালে খাওয়া শেষ হতে না হতেই দুপুরে কি খাবো এ নিয়ে চিন্তা চুরু করি।দুপুরে খাওয়া শেষ হতে না হতেই রাতে কি খাব এই চিন্তা করি।মনে হয়ে যেন আমি খাওয়ার জন্যই দুনিয়াতে এসেছি।এই হলো আমাদের অবস্থা।
আমরা কোর্মা-বিরানী আর যতই ভাল খাওয়া খাই সেগুলো পায়খানায় ঢালা ছাড়া আর কিছুই হয়না।দুর্গন্ধ ছাড়া আর কিছুই হয়না।এই হলো খাওয়ার হাকিকত।
আমরা যে খাবারই খাবো এই নিয়ত করবো আমি এই খাওয়া খাচ্ছি এজন্য যে এই খাওয়া থেকে যে শক্তি আসবে তা দ্বারা আমি বেশি বেশি ইবাদত করবো।এই শক্তিকে দীনের কাজ ব্যয় করবো।এই শক্তি দ্বারা হালাল রুজি কামাই করবো।
যাদেরকে আল্লাহ শরীরে শক্তি দিয়েছেন, খাওয়া কম খাইলেও চলে,ডায়েট করতে হয় তাদের জন্য ইবাদতের বিশাল সুযোগ।তারা চাইলে প্রতি সপ্তাহে কোরআন এক খতম করতে পারেন।প্রতি সপ্তাহে কয়েক হাজার কালেমা,দরুদ,ইস্তেগফার সহ অন্যান্য আমল করতে পারেন।
যারা খাওয়ার ব্যাপারে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেনা আবার খায় বেশি কিন্তু ব্যায়াম বা পরিশ্রম করেনা।পল্ট্রি মুরগির মত বসে থাকে তাদের জন্য ওষুধের বস্তার সুসংবাদ।
আল্লাহ তাআ'লা সূরা হুদের ৬ নং আয়াতে বলেন,
{۞ وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ} [هود : 6]
“আর পৃথিবীতে এমন কোন বিচরণশীল প্রাণী নেই,যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই।তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।"
এই আয়াত সুস্পষ্টভাবে আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে রিযিকের জিম্মাদারি আল্লাহর উপর।তিনি প্রত্যেককে রিযিক দান করেন।আমাদের কাজ হলো আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করা এবং হালাল পদ্ধতিতে রিযিক অন্বেষণ করা।আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন।আমীন।
অন্যান্য লেখাগুলো
এপ্রিল ২০১৯,অক্টোবর ২০১৯,ফেব্রুয়ারী ২০২১,আগস্ট ২০২১,সেপ্টেম্বর ২০২১,অক্টোবর ২০২১,জানুয়ারি ২০২২,জানুয়ারি ২০২৩,ফেব্রুয়ারী ২০২৩
