প্রকৃত সফলকাম কে? - iAlo24.Blogspot.Com

শুক্রবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৩

প্রকৃত সফলকাম কে?


 আমরা সকলে সফলতা চাই।প্রত্যেকে এই চেষ্টায় থাকি যেন আমি সুখী হই,সফলকাম হই।সফলতা চাইনা এমন কেউ আছে?কেউ নেই।প্রত্যেকেই এই স্বপ্ন দেখে তার জীবন যেন সফলতায় ভরে যায়।জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সে যেন সফলতার মুখ দেখে।তার জীবনে যেন কোন ব্যর্থতা না আসে।

সফলকাম ব্যক্তিদেরকে মানুষও ভালোবাসে।তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে।তাকে নিয়ে গর্ব করে।তার সফলতায় আনন্দ অনুভব করে।তাকে সম্মান করে।কিন্তু সফলতা এমনে এমনে আসেনা।সফলতা লাভ করতে হলে প্রয়োজন হয় কঠোর পরিশ্রম।কঠোর পরিশ্রম এবং দীর্ঘ কষ্টের পরই আসে সফলতা।


সফলতা আবার একেক জনের কাছে একেক রকম।একেক জন একেক বিষয়ের প্রাপ্তিকে সফলতা বলে।কেউ মেডিকেলে চান্স পাওয়াকে সফলতা মনে করে।কেউ বুয়েটে চান্স পাওয়াকে সফলতা মনে করে,কেউ বিসিএস ক্যাডার হওয়াকে সফলতা মনে করে,কেউ সরকারি চাকুরী পাওয়াকে সফলতা মনে করে,কেউ জমির ফসল ভাল হওয়াকে সফলতা মনে করে,কেউ বিদেশে চাকুরী পাওয়াকে সফলতা মনে করে,কেউ এমপি,চেয়ারম্যান,মেম্বার হওয়াকে সফলতা মনে করে।

যে দুনিয়াতে লাখ টাকা বেতনের চাকুরী করে,ভাল একটি বাড়ি বানাতে পারে,গাড়ি কিনতে পারে,আরাম আায়েশে জীবন কাটাই।কোন অভাব নেই।বাজারের ভাল মাছ গোশতটা কিনে খাই।প্রতিদিন দস্তরখানে দামি দামি হরেক রকমের মাছ, গোশত থাকে,বিলাসিতার সাথে জীবন যাপন করে এমন ব্যক্তিকে আমাদের সমাজ সফলকাম মনে করে।ভাগ্যবান মনে করে।

আসলেই কি তারা সফলকাম? 
এই যে সফলতার মাপকাঠি আমরা শিখেছি এটা পশ্চিমা বস্তুবাদীদের দর্শন থেকে।তারা আমাদেরকে এই সবক শিখিয়েছে যে কামাই করো,খাও দাও ফু্র্তি করো।আর বিলাসিতায় জীবন কাটাও।এটাকেই তারা সফলতা মনে করে।সফলতা বলে প্রচার করে।আর আমরাও তাদের প্রচারণায় প্ররোচিত হয়ে মনে করি যে নাহ আমাকে অর্থ বেশি বেশি কামাই করতে হবে।আমাকে এই বস্তুবাদীদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।আমাকেও বিলাসী জীবন যাপন করতে হবে।ভালো ভালো খেতে হবে।

ফলে দেখা যায় আমরা নিজের অজান্তেই সুখ নামক পাখিটি হারিয়ে ফেলি।অশান্তিতে ভুগতে থাকি।শুধু ভালো লাগেনা, ভালো লাগেনা এই কথাটি মুখ থেকে বের হই।
আমাদের উদ্দেশ্য যদি হতো আখিরাত তাহলে এই অশান্তির অনলে আমি দগ্ধ হতাম না।

আমার তখন এই ভাবনা মাথায় কাজ করতো, এইতো আমি কয়েকদিন দুনিয়াতে থাকবো।খেয়ে থাকি আর না খেয়ে থাকি, সুস্থ থাকি আর অসুস্থ থাকি,অভাবে থাকি আর স্বচ্ছলতায় থাকি আমার থেকে দুনিয়ার দিনগুলো শেষ হয়ে যাবে।আমি পরকালের বাসিন্দা হবো।আর পরকালে যদি আমি জান্নাত পেয়ে যায়,জাহান্নাম থেকে বেঁচে যায় তাহলেই তো আমি সফলকাম।

এই ভাবনা যদি কারো জীবনে এসে যায় তার জীবনটা শান্তিতে ভরে যায়।সব অবস্থায় সে আল্লাহ তাআ'লার ফায়সালাকে মেনে নেয়।আর পরকালের জন্য আমল করতে থাকে।গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে।

প্রকৃত সফলতা হলো জান্নাত প্রাপ্তি,জাহান্নাম থেকে মুক্তি।আল্লাহ তাআ'লা কুরআনে বলেছেন,

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ


“প্রত্যেক প্রাণী অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম হবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।"

এই আয়াত থেকে কয়েকটি বিষয় অনুধাবন করতে পারিঃ
১।প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যু নিশ্চিত। মৃত্যু থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবেনা।
২।মৃত্যুর পর যখন কিয়ামত কায়েম হবে তখন আল্লাহ তাআ'লা বান্দাকে তার কর্মের প্রতিদান দেবেন।
৩।যে সৎকর্ম করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।আর যে গুনাহের কাজ করবে সে জাহান্নামে যাবে।যে জান্নাত পেল সেই হল প্রকৃত সফলকাম।আর যে জাহান্নামে প্রবেশ করলো তার মত হতভাগা আর কেউ নেই।
৪।দুনিয়া হলো ধোঁকা,প্রতারণার জীবন।দুনিয়ার ধনসম্পদ,চাকচিক্য মানুষকে আকর্ষণ করে।এ ধোঁকায় পড়ে কেউ যেন পরকাল না হারায়।

তাই আমরা সতর্ক হই।সজাগ হই।দুনিয়ার ব্যাপারে হাহুতাশ না করি।আখিরাতের জন্য চেষ্টা করি।আর মনে রাখি প্রকৃত সফলকাম হলো সেই যে জাহান্নাম থেকে বেঁচে গেলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করলো।আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন।


 অন্যান্য লেখাগুলো 

এপ্রিল ২০১৯,অক্টোবর ২০১৯,ফেব্রুয়ারী ২০২১,আগস্ট ২০২১,সেপ্টেম্বর ২০২১,অক্টোবর ২০২১,জানুয়ারি ২০২২,জানুয়ারি ২০২৩,ফেব্রুয়ারী ২০২৩


Pages