ফজরের নামায পড়ে মাদরাসায় এলাম। মাদরাসায় প্রবেশ করে এক সহপাঠীর সাথে দেখা।সে বলল,ভাই খবর পেয়েছেন? আমি বললাম কীসের? গতরাতে হাবল স্যার ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহ! খবরটা শুনে মন খারাপ হয়ে গেলো।একজন তাবলীগের মুরুব্বী চলে গেলেন।আমার সাথে দেখা হলেই আমার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। বলতেন,রোকনুজ্জামান ভালো আছো? কোথায় পড়ছো?তাকে ভালো লাগতো।
তাঁর ফোন নাম্বারটি আমার ফোনে সেভ আছে।তাবলীগের কোন প্রয়োজনে ফোন দিতাম।ফোনে শেষ কথা হয়েছিল ঈদুল আযহার নামায ঈদগাহে হবে কিনা তা জানতে কল করেছিলাম।ফজরের নামাযের পর আমাদের জালালাইন ক্লাশ ছিলো। জালালাইন ক্লাশ করলাম।ক্লাশ শেষ করে আমি তাকে শেষবারের মতো দেখার জন্য গেলাম।
পথিমধ্যে আরশাদকে পেলাম।তাকেও সাথে নিলাম।দুজনে হাবল স্যারের বাসায় গেলাম।বাসায় প্রবেশ করলাম।দূর থেকে দেখা যাচ্ছে স্যারের নিথর দেহটি চৌকিতে পড়ে আছে।ঘরে প্রবেশ করলাম।আবিদ দাঁড়িয়ে আছে।সে কাপড় সরালো।আমরা স্যারের চেহারা দেখলাম।
বিশ্বাস করতে পারছিলাম না,তিনি হঠাৎ আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন।যখন কোনো ভালো মানুষের দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার সংবাদ শুনি মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ সত্য সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে।এটাই হলো বাস্তবতা।এজন্য আমাদের সবসময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
স্যারকে দেখে মাদরাসায় এলাম।সকালে আমাদের মাদরাসার পুকুরের কাজ ছিলো।পুকুর পরিষ্কার করা হচ্ছিলো। পুকুর পরিষ্কারের কাজ শেষ করে গোসল করলাম।গোসল সেরে মাদরাসায় বিশ্রাম নিলাম।যোহরে বাসায় গেলাম না। মাদরাসার ঈদগাহ মাঠে জানাজা হবে। এক সাথীর কাছে গিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম।যোহরের নামাজ আদায় করলাম। যোহরের পরে ইদগাহে জানাজা করলাম।স্যার কে বিদায় জানালাম।
২৪ ঘন্টা জামাতে গিয়ে সারাইগাছিতে এক মুরুব্বির সাথে পরিচয় হয়।কথা প্রসঙ্গে জানতে পারি,তিনি আমাদের মাদরাসার ক্বারী মোজাম্মেল সাহেব হুজুরের শ্বশুর।সকালে খানা খাচ্ছিলাম এক সাথে।তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম হাবল স্যার সম্পর্কে। তিনি কাঁদতে লাগলেন।
তিনি বললেন,স্যার খুব ভালো মানুষ ছিলেন।তার সাথে আমি চিল্লা দিয়েছি। অল্প বয়সে তিনি চলে গেলেন।আমার বয়স ৮০ বছর।কয়েক মাস আগে আমি চিল্লা থেকে এসেছি।আমার জামাইরা আমাকে নিষেধ করেছিল।কিন্তু আমার ইচ্ছা আমি যেন দিনের কাজ করতে করতে মরতে পারি।আজকে আমরা তিন দিন যাব।
আমরা দোয়া করি আল্লাহ যেন স্যারকে ক্ষমা করেন।তাঁকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করেন।তার নেক কাজগুলো কবুল করে নেন। তাঁর কবরকে জান্নাতের নূর দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেন।আমীন।
