তাজাম্মুল হুজুর রহঃ পোরশা - iAlo24.Blogspot.Com

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ০৪, ২০২২

তাজাম্মুল হুজুর রহঃ পোরশা



২৪ ঘন্টা ছাত্র জামাত থেকে ফিরে এলাম। মাদরাসায় সাইকেল রাখা ছিলো।মাদরাসায় ব্যাগ-বেডিং রেখে সাইকেল নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলাম।পথিমধ্যে যখন হাটখোলায় পৌঁছি তখন মারা গেছে এমন কথা শুনলাম।মোটরসাইকেলে বসে দুজন ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে দেখার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল স্টার্ট দিচ্ছিলো আর বলাবলি করছিল মারা গেছে।কে মারা গেছে বুঝতে পারেনি?

তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম,ভাই কে মারা গেছে?তারা বলল,তাজাম্মুল হুজুর। হুজুরের মৃত্যুর খবর শুনে মর্মাহত হলাম। আর বাড়িতে গেলাম না।হাটখোলা থেকে তাজাম্মুল হুজুরের বাড়ির দিকে রওনা হলাম।বাড়ির কাছে গিয়ে দেখলাম অনেক লোক বসে আছে।ধীরে ধীরে বাড়িতে প্রবেশ করলাম।


কিছুদূর যেতেই হুজুরের বড় ছেলের সাথে দেখা।তিনি আমাকে দেখে বললেন, দেখতে আসছো?

আমি বললাম,জ্বি। 


তিনি আমাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন। ঘরের কাছে পৌঁছে আমি বাইরে দাঁড়ালাম। তিনি ঘরে প্রবেশ করে মহিলাদেরকে ভেতরের ঘরে যেতে বললেন।তারপর আমাকে ডাকলেন। আমি প্রবেশ করলাম।তিনি মুখ থেকে কাপড় সরালেন।পরকালের মেহমানকে শেষবারের মতো দেখে নিলাম।


জানাজা আছরের পর হবে।শরীর ক্লান্ত। বিশ্রাম এর প্রয়োজন ছিল।মৌলভীপাড়া মসজিদে গেলাম।এখানে আমার বন্ধু ইমামতি করে। সে দরজা লাগিয়ে ঘুমাচ্ছে। তাকে ডাকা মুনাসিব মনে করলাম না।আমি মসজিদে প্রবেশ করে বিশ্রাম নিলাম।আছরের নামাজ পড়ে জানাযার উদ্দেশ্যে মারকাজে এলাম।


অনেক লোক এসেছে।জানাজার সীমানার ভিতরে জায়গা পেলাম না।বাইরে দাঁড়িয়ে জানাজা করলাম।তাজাম্মুল হুজুর অনেক ভালো মানুষ ছিলেন।তিনি একজন আলেম ছিলেন।ক্লাশে মুফতি হারুন সাহেব হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলাম তাজাম্মুল হুজুরের ব্যাপারে।


হুজুর বললেন,তিনি একজন আলেম ছিলেন।মাদরাসায় ধারাবাহিক খেদমত করেননি। তবে তিনি এলাকার ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে কোরআন শিক্ষা দিতেন। একসময় যখন ব্যস্ততা বেড়ে যায় তিনি একজন হুজুর ঠিক করেন। সে বাচ্চাদেরকে কোরআন শিক্ষা দিতো আর হুজুরের খরচ তিনি বহন করতেন। 


আমি অনেকবার তাজাম্মুল হুজুরের মসজিদে নামাজ পড়েছি।হুজুর খুব অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন।চেয়ারে বসে নামায পড়তেন।শেষ বয়সে এসে হুজুরের অসুখ অনেক বেড়ে যায়।উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।


ইন্তেকালের সময় তিনি ক্ষীণ এবং পাতলা হয়ে যান।হাদিছের মধ্যে আছে, আল্লাহ তায়ালা অসুখ-বিসুখের মাধ্যমে বান্দার সমস্ত গুনাহ মাফ করে তাকে শিশুর ন্যায় পাক পবিত্র করে দেন।আবার কোন ব্যক্তির জন্য জান্নাতে একটা বিশেষ মর্যাদা থাকে।কিন্তু বান্দা আমলের দ্বারা সেই স্থান পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। তখন আল্লাহ তাআলা অসুখ বিসুখ দেন। ফলে বান্দা কষ্ট সহ্য করে।কষ্টের কারণে সবর করে। এর মাধ্যমে সেই মর্যাদায় পৌছিয়ে দেন।


তাজাম্মুল হুজুরের সাথে আমার কয়েকবার সালাম বিনিময় হয়েছে। হুজুরের সাথে আমার থাকা হয়নি।এজন্য বেশি কিছু জানিনা।হুজুরের ছেলে এবং তাঁর সঙ্গে যারা চলাফেরা করেছেন তাদের উচিত হুজুরের জীবনী কে সংরক্ষণ করা। হুজুরের জীবনী সম্পর্কে লিখে রাখা।


যাতে পরবর্তীরা তাঁর জীবন থেকে আলো গ্রহণ করতে পারে।আল্লাহ তায়ালা তাজাম্মুল হুজুর (রহঃ)কে ক্ষমা করুন। তাঁর ভুল ত্রুটিগুলো মাফ করে দিন।তাঁর এবাদত এবং খেদমত গুলোকে কবুল করে নিন।আমীন।

প্রিয় পাঠক,আমরা একবার সূরা ফাতিহা এবং তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করে হুজুরের জন্য ইসালে সওয়াব করি।


Pages