মুফতি হারুন সাহেব হুজুর - iAlo24.Blogspot.Com

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ০৪, ২০২২

মুফতি হারুন সাহেব হুজুর



গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো।পাশে তাকাতেই দেখি হুজুরের বিছানা বিছানো।কিন্তু হুজুর নেই।আবার মসজিদের দরজাও খোলা।হাটখোলা থেকে সুত্রইল মসজিদে তিনদিনের জামাতে এসেছি।মুফতি হারুন সাহেব হুজুর জামাতের জিম্মাদার

মসজিদ থেকে বের হলাম।সামনে তাকাতেই দেখতে পেলাম হুজুরকে।রাত তখন প্রায় সাড়ে তিনটা।হুজুর অযু করছেন।আমি জরুরত সারতে গেলাম।এসে দেখি হুজুর অযু সেরে মসজিদে চলে গেছেন।আমিও অযু করলাম।তারপর মসজিদে গেলাম।


হুজুর যেখানে ঘুমিয়ে ছিলেন সেখানেই তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়েছেন।হুজুরের সঙ্গে আমার অনেক রাত থাকার সুযোগ হয়েছে।হুজুরকে খুব কাছে থেকে দেখেছি।আমাদের  এলাকায় হুজুরের মত মানুষ খুব কম দেখেছি।হুজুরের দীনদারী,সততা,আমানতদারিতা,অল্প ভাষী হওয়া,দুনিয়াবিমুখতা আমাদের কাছে সুপরিচিত।হুজুরের মজলিশে বসলে ইবাদতের আগ্রহ বাড়ে।ইবাদতের মধ্যে খুশু-খুজু আসে।আখিরাতের কথা স্বরণ হয়।অন্তর আল্লাহ অভিমুখী হয়।


রমাযানে হুজুরের সঙ্গে চিল্লায় গিয়েছি।তিন চিল্লা হুজুরের সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়েছে।তিনদিন গুলোও অনেকবার হয়েছে।প্রতি রাতেই হুজুরকে তাহাজ্জুদে উঠতে দেখেছি।হুজুরের বরকতে আমারও নসীব হতো।


একদিনের ঘটনা।চিল্লার উদ্দেশ্যে আমরা নওগাঁ মারকাজে গেলাম।ইশার নামাযের পর হঠাৎ হুজুর অসুস্থতা বোধ করলেন।প্রচন্ড জ্বর আসলো।হুজুর শুয়ে পড়লেন।কয়েকজন সাথী হুজুরের হাত-পা মালিশ করছিলো।একজন মাথায় তেল মালিশ করছিলো।হুজুর রুটি খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন।আমি রুটি আনতে বের হলাম।নওগাঁ মারকাজ থেকে বের হলাম।কিছু দূর গিয়ে একটা দোকান পেলাম।রুটি ও মুরগির গোশত নিয়ে এলাম।হুজুর খেলেন।অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লেন।


তাহাজ্জুদের অল্প সময় বাকী।এমন সময় আমার ঘুম ভেঙে গেলো।বিছানা ছেড়ে উঠলাম।দেখলাম হুজুর শুয়ে আছেন।ভাবলাম হয়তো আজ উঠতে পারেননি।হুজুরকে ডাক দিলাম।হুজুর বললেন,রাতে খুব জ্বর এসেছিলো।কোনরকম উঠে দুই রাকাত পড়ে শুয়ে গেছি।


এতো অসুস্থতার মাঝেও তিনি আমল ছাড়েননি।হুজুর আমলে পাকা।হুজুর যা বলেন,আমল করে দেখান।আল্লাহ তায়ালা হুজুরের হায়াতে বরকত দান করুন।ইলম-আমলে বরকত দান করুন।আল্লাহ তায়ালা হুজুরের দ্বারা আরো বেশি  বেশি দীনের খেদমত নিন।আমীন।

Pages