আমাদের হেদায়া জামাতের ২৪ ঘন্টা তাবলীগে যাওয়ার সিরিয়াল এসেছে।আজ বৃহস্পতিবার।আজ বিকালে আছর নামাযের পর আমরা জামাতে বের হবো।
আমাদের রোখ পড়েছে কাতিপুর চৌমুহনী সরাইগাছী মসজিদে।
আছরের নামাযের পর প্রয়োজনে বাসায় গেলাম।বাসায় গিয়ে দেরী হয়ে গেলো।ভাবলাম,মাদরাসায় এসে আর অটো পাবোনা ।দ্রুত মাদ্রাসায় আসলাম। এসে দেখি আসবাব -পত্র সব বাধা হয়ে গেছে। শুধু অটো ছাড়তে বাকি। আমি সাইকেলে তালা মেরে অটোতে উঠে গেলাম।
মাগরিবের আজানের আর ১৫ মিনিট বাকি আছে। এতো দেরি হওয়ার কারণ হলো, কামরুল ইসলাম ভাই সাধারণত অটো ঠিক করেন।গত বছর আমরা ভাবছিলাম যে,কামরুল ভাই হয়তো অটো ঠিক করবেনা,এ জন্য আমরা অটো ঠিক করি।কামরুল ভায়ের সাথে এ ব্যাপারে কোনো কথাও হয়নি।ওদিকে কামরুল ভাইও অটো ঠিক করে নেয়।ফলে আছরের পরে আমাদের ঠিক করা অটো আসে এবং কামরুল ভায়ের ঠিক করা অটো ও আসে। তখন একটা ঝামেলা বেধে যায় । তারপর প্রথমে যে অটো এসেছিলো তাদেরকে রেখে পরের গুলোকে বুঝ কয়ে ফেরত পাঠাই।
এবার আমরা অটো ঠিক করিনি।আমরা ভাবছি, কামরুল ভাই অটো ঠিক করবে। আর কামরুল ভাই ভাবছিলো গত বছর যেহেতু আমরা অটো ঠিক করেছিলাম, তাই এবারও ঠিক করবো। অটোর ব্যাপারে আমাদের জিম্মাদাররা কামরুল ভায়ের সাথে কোন কথাও বলেনি।
আছরের নামাযের পর পরামর্শ করা হলো।তখন জানা গেল অটো ঠিক না হওয়ার বিষয়টা।কামরুল ভাই ও বাসায় চলে গেছেন আজকে।অটো ঠিক করার জন্য মাদরাসার গেটে দাঁড়ানো হলো।
কিন্তু অটো পাওয়া গেলোনা।এক সাথীর কাছে একজন অটো চালকের নাম্বার ছিলো।তাকে ফোন দেয়া হলো।সে চকগোপালে আছে।একজন ভ্যানে করে মিনাবাজার গেলো।সেখানেও কোন অটো র নাম গন্ধ নাই।সে ফিরে আসলো।
আবার সেই অটো চালককে ফোন দেয়া হলো। এবার সে জানালো সূত্রইল আছে।তাকে বলা হলো,আপনি সহ আরেকজন অটো চালক কে নিয়ে মাদ্রাসার গেটে চলে আসুন।কিছুক্ষণ পর অটো আসলো। তারপর আসবাবপত্র বাধা হলো।আমিও বাসা থেকে এসে অটো পেয়ে গেলাম। এরুপ ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই পূর্ব থেকেই সব কিছু খোলা খুলি কথা বলা জরুরী।তা না হলে সমস্যায় পড়তে হবে।
আমরা বের হয়ে পড়লাম। মাগরিবের আযান দিতে আর অল্প সময় বাকী। আমরা মসজিদে এমন সময় পৌঁছলাম, যখন ফরজ নামাজ শেষ হয়ে যায়। আমাদের জিম্মাদার সাহেব নামাজ পড়ে সংক্ষিপ্ত বয়ান করলেন। এরপর জামায়াত গাশতে বের হলো।গাশত থেকে এসে আমাদের পরামর্শ হলো। তারপর কয়েকজন সাথী বাজার করতে গেলেন। শুক্রবার সকালে এবং দুপুরের খাবারের জন্য।রাতের খাবার মাদ্রাসা থেকে দেওয়া হয়।
ইশার নামায পড়ে তালিম হলো। তালিম শেষে জিম্মাদার সাহেবকে নিয়ে এলাকার সাথীগণ গেলেন আরেক মসজিদে।সেখান থেকে তিনদিনের জামায়াত বের হবে। তাদেরকে তাশকিল করার জন্য।
আমরা জিম্মাদার আসা পর্যন্ত আমলে মশগুল থাকলাম।সূরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক পড়লাম।জিম্মাদার আসলেন। কয়েকজন সাথী খাবার পরিবেশন করতে গেলেন।খাবার প্লেটে প্রস্তুত হলো। আমরা রাতের খাবার খেলাম। অতঃপর ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলাম।
বিছানা বিছিয়ে আমরা ঘুমিয়ে গেলাম। কিন্তু আমাদের সাথে ছিলো কিছু দুষ্টু। যারা খেলা রোগে আক্রান্ত।কোন কোন দলের যেন ক্রিকেট খেলা ছিল। তারা খেলা দেখার জন্য বাইরে বের হলো।তারপর খেলা শেষ করে ঘুমাতে আসে। খেলা দেখা,খেলা নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা করা, খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এগুলো কোন কাজে আসে না। এগুলো জীবনের মূল্যবান সময়কে নষ্ট করে। এগুলো শয়তানের ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়।একজন তালিবুল ইলমের শান নয়,সে খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এসব অনর্থক কাজ থেকে হেফাজত করুন
২.
রাত সোয়া চারটা।মোবাইলের এলার্মে ঘুম ভেঙ্গে গেলো।কয়েকজন সাথী তাহাজ্জুদের জন্য উঠেছে।আমাদের জিম্মাদার সাহেবও উঠেছেন।তারা তাহাজ্জুদের প্রস্তুতির জন্য জরুরত সারতে গেলেন।আমিও তাদের অনুসরণ করলাম।
একে একে অজু করে মসজিদে চলে গেলো। আমি একাই অজুখানাতে আছি। অজু করছি,এমন সময় কাকের কা-কা আওয়াজ শুনতে পেলাম।আরেক জায়গা থেকে মোরগের ডাক শুনতে পেলাম।
এখন বাজে সাড়ে চারটা। তাহাজ্জুদের সময়।এ সময় পাখিরা জেগে গেছে।তারা তাদের মত করে আল্লাহ তাআলার জিকির করছে।তাঁর তাসবীহ পাঠ করছে।অথচ কত রাত আমি ঘুমিয়ে কাটিয়েছি।অলসতা করে উঠিনি।আমি প্রানীর চেয়েও কত দুর্বল হয়ে গেছি।
প্রাণীরা তাহাজ্জুদের সময় উঠে যায়।অথচ আমি থাকি ঘুমিয়ে।আমি কত হতভাগা।অথচ তাহাজ্জুদের সময়টা অতি মূল্যবান সময়।আল্লাহ তাআলার সাথে একান্তে আলাপের সময়।আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের সময়।আল্লাহ তাআলা আমাদের ভাগ্যে নসিব করুন।আমীন।
অজু করে মসজিদে গেলাম।সবার সাথে তাহাজ্জুদ পড়লাম।মসজিদের একপাশ থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। এক সাথী মুনাজাতে কান্নাকাটি করছে। আল্লাহ তা'আলার সাথে কান্নাকাটি করতে পারা বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার। আল্লাহ তাআলা বান্দার চোখের পানিকে খুব ভালোবাসেন।আল্লাহ তাআলার ভয়ে যদি এক ফোটা চোখের পানি বের হয়,তা জাহান্নামের আগুনকে নিভিয়ে দিবে।
আল্লাহ তায়ালার ভয়ে কেঁদেছেন কখনো? নিজের গুনাহের জন্য কখনও চোখ থেকে পানি বের হয়েছে?যদি বের না হয় তাহলে জাহান্নামের আগুনকে কি দিয়ে নিভাবেন? তাই বেশি বেশি করে কাঁদুন। যতো বেশি কাঁদবেন, তত বেশি জাহান্নাম দূরে সরবে।
ফজরের আজান হলো।যারা ঘুমিয়ে ছিলো, তারা ঘুম থেকে জাগ্রত হলো।জরুরত সেরে সুন্নাত পড়লো সকলে। ফজরের একামত হলো।আমরা ফজরের নামাজ আদায় করলাম।নামাজের পর বয়ান হলো।আমাদের মধ্যে এক সাথী বয়ান করলো।সে বয়ানে এক সাহসী যুবকের ঘটনা বললো।যে-যুবক নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শত্রুকে জাহান্নামে পাঠিয়ে নবীজির পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিলো।সেই যুবকের নাম গাজী ইলমুদ্দীন শহীদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।
৩.
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯২৯ সালে।রাজপাল নামে এক প্রকাশক "রঙ্গিলা রাসুল"নামে এক বই প্রকাশ করেছিল।যে বইয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে নিয়ে অশ্লীল,কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। নবীজিকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক কথা লেখা হয়েছিলো।পুরো ভারত উপমহাদেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।
মুসলমানদের জানের নেতাকে নিয়ে ঠাট্টা মশকারি আর অশ্লীল কথা লেখার সাহস যে দেখাবে,তাকে জাহান্নামে পাঠানো ছাড়া কি মুসলমানদের ঘুম আসবে? সেসময় ভারত উপমহাদেশ শাসন করেছিলো ইংরেজরা।তাদের কাছে রাজপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলো।তারা মামলা না নিয়ে উল্টো রাজপালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ নিযুক্ত করলো।ফলে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুসলমানদেরকেই নিতে হলো।
কয়েকজন মুসলমান যুবক রাজপালকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।অবশেষে এ সৌভাগ্য জোটে ইলমুদ্দিনের কপালে। গাজী সাহেব ২১ বছরের তরুণ।রক্ত টগবগ করছে পুরো শরীরে।পেশায় কাঠমিস্ত্রি।ভালো করে কোরআন পড়তে পারতো না।
যখন তিনি শুনলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে নিয়ে কটাক্ষ করে বই লেখা হয়েছে।সেদিন থেকে তিনি আর রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারলেন না। কিভাবে রাজপালকে জাহান্নামে পাঠানো যাবে এই চিন্তায় তার রাত দিন কাটতে থাকে।
এক রাতে তিনি স্বপ্ন দেখেন, এক বুজুর্গ স্বপ্নে তাকে বলছেন, ইলমুদ্দিন তুমি এখনো দেরী করছ কেন? তাড়াতাড়ি কাজ সেরে ফেলো। এ সৌভাগ্য যেন ছুটে না যায়।
স্বপ্ন দেখার পর ইলমুদ্দিনের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।সে তার এক বন্ধুর সাথে পরামর্শ করলো।একদিন সকালে সে বাজার থেকে চকচকে সুন্দর একটি ছুরি কিনলো।ছুরিটি কোমরে লুকিয়ে রাখলো।এরপর সে রাজপালের অফিসের কাছে চলে গেলো। রাজপাল তখনও অফিসে আসেনি।সে রাজপালের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো।
একসময় রাজপাল কার নিয়ে আসলো।সে কার থেকে নেমে অফিসে গেলো। কিছুক্ষণ পর ইলমুদ্দিন অফিসের কাছে আসলো।দেখতে পেলো অফিস খোলা। দ্রুত সে ঢুকে পড়লো অফিসে।অফিসে ঢুকে একজন ব্যক্তিকে সামনে দেখতে পেলো।তাকে জিজ্ঞেস করলো রাজপাল কে?
রাজপাল কল্পনাও করতে পারে নি তার মৃত্যুর দূত চলে এসেছে। সে নিশ্চিন্তে বলে ফেলে আমিই রাজপাল।
ইলমুদ্দীন তার কোমর থেকে ছুরি বের করে রাজপালের কলিজা বরাবর আঘাত করে।রাজপাল আহ বলে চিত্কার করে পড়ে যায়।রাজপাল মারা যায়।মুহুর্তের মধ্যে এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ইলমুদ্দিন গ্রেফতার হয়।পুরো ভারত জুড়ে আনন্দের ঢেউ বইতে থাকে।নবীজির শত্রুর মৃত্যুতে মুসলমানরা আনন্দিত হয়।
সকলের মনে কৌতূহল জাগে কে সেই সাহসী বীর?ইলমুদ্দিনকে একপলক দেখার জন্য সবাই ছুটে আসতে থাকলো। ইলমুদ্দিন স্থির,শান্ত এবং প্রফুল্ল।সে জানে তার ফাঁসির রায় হবে। কিন্তু তার দেহ মনে কোনো অস্থিরতা নেই।নেই কোন ভয় ও উৎকণ্ঠা। তার চেহারা হাস্যোজ্জল। সে স্বপ্ন দেখছে শাহাদাতের।তার মনের আকাঙ্ক্ষা,কোন ভাবেই যেন ফাঁসির রায় টা পরিবর্তন না হয়।
মুসলমান আইনজীবীগণ অনেক চেষ্টা করলো।কিন্তু কোর্ট থেকে অবশেষে ফাঁসির সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো।ইলমুদ্দীন আনন্দিত।কারণ সে এটাই চাচ্ছিলো।সে শাহাদাত এর মাধ্যমে নবীজির সাথে সাক্ষাৎ করতে ইচ্ছুক।
ইলমুদ্দীন জেলখানায়।লোকজন একের পর এক তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতে থাকলো। একবার এক পীর সাহেব ইলমুদ্দিন এর সাথে দেখা করতে আসলো।তিনি ইলমুদ্দিন কে দেখে কাঁদতে শুরু করলেন।তার কন্ঠ অবরুদ্ধ হয়ে গেলো।তিনি শুধু সূরা ইউসুফ পড়তে থাকলেন।মাঝে মাঝে তার কন্ঠ থেকে আওয়াজ বন্ধ হয়ে যেতে লাগলো। মাঝে মাঝে তার ভুল হতে লাগলো। ইলমুদ্দিন পীর সাহেবের ভুলগুলো ঠিক করে দিচ্ছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইলমুদ্দিন কখনো সূরা ইউসুফ পড়েননি।
জেলখানার বাইরে উৎসুক জনতা।তারা পীর সাহেবের কাছে ইলমুদ্দিন এর অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।পীরসাহেব জনতার কাছে এলেন।এখানেও তিনি কাঁদতে লাগলেন।তিনি বললেন,আমি ইলমুদ্দিনের চেহারায় অন্য কিছু দেখতে পেয়েছি। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ইলমে লাদুন্নী দান করেছেন।শরীয়ত ও মারেফতের সব সুক্ষ সুক্ষ এলেম আল্লাহ তাআলা তাকে দান করেছেন।
এক রাতে ইলমুদ্দিন স্বপ্নে দেখলেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তার সাথে দেখা করতে এসেছেন। ইলমুদ্দিন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন, হে কালিমুল্লাহ!আপনি এসেছেন এই অধমের কাছে।মূসা আলাইহিস সালাম বললেন, তোমার আলোচনা রিসালতের দরবারে হচ্ছিলো।ভাবলাম তোমাকে দেখে আসি।
ইলমুদ্দিন কবিতা পাঠ করলেন। যার অর্থ হলো আপনি(নবীজী)যখন আমাকে কিনে নিলেন, আমি সবার কাছে দামী হয়ে গেলাম।আর যখন আমি বিক্রি হয়নি, কেউ আমাকে চিনতো না।ইলমুদ্দিনের আশা আকাঙ্ক্ষা পুরণ হলো। পুরো মুসলমান জাতিকে কাঁদিয়ে ইলমুদ্দিন শাহাদাতের সুধা পান করলেন।নবীজির দস্তরখানে শরীক হলেন।
আমার জীবন,আমার সময়,আমার সম্পদ, আমার ঘাম,আমার রক্ত এগুলো যদি আল্লাহ তায়ালার রাস্তায়, দীনের জন্য ব্যয় হয়,আমার জীবন হবে সৌভাগ্যময়। আর যদি আমার জীবন দীনের কোন লাইনে ব্যয় না হয়,তাহলে আমার জীবন ব্যর্থ,মূল্যহীন।তাই আমরা সংকল্প করি, দীনের যেকোনো এক লাইনে আমি কাজ করবো।ইসলামের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করবো।
বয়ান শেষ হলো।বায়ান শেষ করে সংক্ষিপ্ত দোয়া হলো।
৪.
আমরা গাশতে বের হলাম।দুটো জামাত করা হলো।দুজন রাহবার দুটি জামাতকে দু দিকে নিয়ে গেলো।এক জামাতের মুতাকাল্লিম জিম্মাদার সাহেব।আরেক জামাতের মুতাকাল্লিম আমাকে করা হলো।পথিমধ্যে দাওয়াত দিতে গিয়ে এক ডাক্তার সাহেবকে পেলাম।ডাক্তার সাহেব কে দাওয়াত দিলাম।তাবলীগে যাওয়ার আহ্বান জানালাম।
ডাক্তার সাহেব আমাদেরকে চা নাস্তা খাওয়ার দাওয়াত দিলেন।আমি বললাম, খাওয়ার চেয়ে আমরা বেশি খুশি হবো আপনি যদি তাবলীগে যান।ডাক্তার সাহেব আমাদেরকে জোর করেই নাস্তা খাওয়ালেন।নাস্তা খেয়ে মসজিদে এলাম। ইশরাক পড়ে কোরআন তেলাওয়াত করলাম।তারপর কিছুক্ষণ ঘুমালাম।
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো।কয়েকজন সাথী গল্প করছে।মূলত মোবাইলে গেম খেলছে। তাদেরকে বললাম,ভাই মসজিদ আল্লাহ তালার ঘর এর পবিত্রতা বজায় রাখা জরুরি।সাথীরা ভুল বুঝতে পেরে গেমস খেলা বন্ধ করলো।
মসজিদে গল্প-গুজব করা,হৈচৈ করা, ফেসবুক ব্যবহার করা,ইউটিউব দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত।কারণ,ফেসবুক মহিলার ছবি থেকে খালি নয়। ফলে গুনাহ হবে।আর যেই স্থানকে ইবাদতের জন্যই তৈরি করা হয়েছে,সে স্থানে যদি গুনাহের কাজে লিপ্ত হই, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় আর কি হতে পারে?
মসজিদ মোবাইলে গেমস খেলা,খেলার স্কোর দেখার জায়গা নয়।আমি যদি মসজিদে গিয়ে এ ধরনের কাজে লিপ্ত হই, আল্লাহ তা'আলা আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন।আমরা আল্লাহ তাআলার ক্ষমা চাই
শোয়া থেকে উঠে গেলাম।নাস্তা তৈরি হয়ে গেছে।নাস্তা খেলাম।তারপর একটা বয়ান দেখলাম।জুমুআর সময় আমাকে ইমাম সাহেব বয়ান করার দায়িত্ব দিয়েছেন।সাথীরা নিজ নিজ কাজ করছেন।খেদমতের সাথীরা দুপুরের খাবার রান্না করছেন।
জুমুআর আযান হলো।নামাযের প্রস্তুতি গ্রহণ করলাম।নামাজ আদায় করলাম। নামাজের পর সংক্ষিপ্ত তালিম হলো। এবার দুপুরের খাবার খাওয়ার পালা। খেদমতের সাথীরা প্লেটে খাবার প্রস্তুত করছেন।মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেব গোবিড়া কুড়ী এবং মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান সাহেব হুজুরকে আমরা দাওয়াত দিয়েছিলাম।উভয় হুজুর এলেন।আমরা তাঁদের মেহমানদারী করলাম।
তারা খাবার খেলেন।অতঃপর বাড়ির দিকে রওনা হলেন।আমরা হুজুরদ্বয়কে বিদায় জানালাম।অতঃপর আমরা খেলাম।অটো এলো। আমরা মাল সামানা অটোতে তুললাম।মাদরাসার পথে রওনা হলাম।আল্লাহ তাআলার তাওফিকে আমাদের ২৪ ঘন্টা শেষ হলো।