কখন মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যায়?
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।মানুষকে বিবেক দিয়েছেন।মানুষ তার বিবেক দ্বারা ভালো মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা রাখে।কিন্তু যখন কোন মানুষের বিবেকের উপর পর্দা পড়ে যায়,বিবেক কাজ করেনা,বিবেক দ্বারা উপলব্ধি করেনা তখনই এই মানুষটা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যায়।
গরু আমাদেরকে সর্বদা নির্ভেজাল খাঁটি দুধ দেয়,মৌমাছি খাঁটি মধু দেয়,সরিষা খাঁটি তেল দেয়,আখ খাঁটি গুড় ও চিনি দেয়,কালোজিরা খাঁটি তেল দেয়।মোট কথা প্রকৃতির সবকিছু আমাদেরকে সর্বদা নির্ভেজাল খাঁটি খাবার সামগ্রী দেয়।
কিন্তু যেসব মানুষ এসব কারবারের সাথে সংযুক্ত তাদের অনেকে এগুলোতে ভেজাল মিশিয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করে।জন্ত জানোয়ার গুলো দিচ্ছে খাঁটি,তারা আমাদেরকে ঠকায় না কিন্তু বিবেকবান মানুষ দিচ্ছে ভেজাল।আমাদেরকে ঠকাচ্ছে।
জন্তু - জানোয়ার গুলো আমাদের সাথে প্রতারণা করে না।কিন্তু শ্রেষ্ঠ বিবেকবান মানুষ আমাদের সাথে প্রতারণা করে।বিবেক থাকার পরও যে মানুষটি অন্যদের সাথে প্রতারণা করে তখন তো তাকে বলতেই হবে সে হলো সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট।মানুষ যখন মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে, বিবেককে খাঁটিয়ে কাজ করেনা তখন এই মানুষটা সৃষ্টির নিকৃষ্ট সৃষ্টিতে পরিণত হয়।
মানুষকে কে বানিয়েছেন? কে জীবন দিয়েছেন? কে খাওয়াচ্ছেন? কার পানি দ্বারা মানুষ তৃষ্ণা মেটায়? পোশাক সামগ্রী কে সৃষ্টি করেন? যাবতীয় বিষয় গুলো কে দান করেন?
উত্তর হবে একটাই মহান আল্লাহ তায়ালা।
কোন মানুষ যদি এতগুলো নিয়ামত ভোগ করার পরও বিবেক না খাঁটাই, বিবেক দ্বারা চিন্তা না করে বরং সে আল্লাহ তায়ালার যাবতীয় নিয়ামত ভোগ করার পরও আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি করে তার চেয়ে বড় নিকৃষ্ট আর কে আছে?
পশুরা কখনোও আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি করে না।সর্বদা তারা আল্লাহ তায়ালার হুকুম মেনে চলে।কিন্তু কোন বিবেকবান মানুষ যখন আল্লাহ তায়ালার লাখো নিয়ামত ভোগ করেও আল্লাহ তায়ালার হুকুম মত চলেনা তাহলে তাকে তো বলতেই হবে সে সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এজন্য আমরা গভীরভাবে ভাবি।আমরা কি করছি?আল্লাহ তায়ালা কে কতটুকু মেনে চলছি?আমরা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছি না তো?
আমরা আল্লাহ তায়ালার দাস।তিনি আমাদের মালিক।দাসের কর্তব্য হলো মালিকের কথামতো চলা।যে দাস তার মালিকের কথামতো চলে সে দাসকেই মালিক ভালোবাসে।অবাধ্য সন্তান,অবাধ্য ছাত্র, অবাধ্য কর্মচারী,অবাধ্য স্ত্রী এদের কেউ ভালোবাসার পাত্র হয়না।সকলেই এদেরকে ঘৃণা করে।তাহলে যে আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হচ্ছে তাকে আল্লাহ তায়ালা কি ভালোবাসবেন?তাকে কি শান্তিতে রাখবেন?
আমরা মরে যাবো।দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো।মৃত্যুর পর আল্লাহ তায়ালার সামনে আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে।এখন যদিও আমরা তাঁর থেকে দূরে থাকি,পালিয়ে বেড়াই কাল কিন্তু তাঁর কাছে যেতেই হবে।সেদিন কিভাবে মুখ দেখাবো?
তাই আসুন,আমরা আল্লাহ তায়ালার দাস হয়ে যায়।নিজের জীবনকে তাঁর হুকুম মত চালাই।দুনিয়াতেও শান্তি পাবো,আখিরাতেও শান্তি পাবো।