এক আরব যুবক - iAlo24.Blogspot.Com

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১

এক আরব যুবক

 




মাগরীবের নামাযের পরে 
এলার্ন হলো ।সংক্ষিপ্ত বয়ান হবে ।
সুন্নাত নামায পড়ে মিম্বরের 
নিকটে গিয়ে বসলাম ।
সবাই চেয়ে আছে সামনের 
দিকে ।একটি চেয়ার আনা 
হলো ।তাতে বসল এক যুবক 
।নূরানী তার চেহারা ।

যেমন 
দেখতে সুন্দর তেমন তার 
গড়ন ।লম্বা এবং স্বাস্থ্যবান ।
মুখে তার কুচকুচে কাল দাঁড়ি ।
আরব দেশের যুবক ।সালাম
দিলো আমাদের ।অতঃপর 
আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা 
করলো ।শেষ হয়না তার 
প্রশংসামূলক বাক্য ।দিল 
তার আল্লাহর ভালবাসায় 
পরিপূর্ণ ।দরুদ পড়লো 
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি 
ওয়া সাল্লামের উপর ।

তার কথা গুলো বের হচ্ছে 
দিল থেকে ।কি সুন্দর তার 
কন্ঠ ।পুরো মজলিস তাকিয়ে 
আছে তার দিকে ।গভীর 
আগ্রহে শুনছে তার কথা ।
যুবকের সাথে দেখা হয়েছিলো 
দেওয়ানবাড়ী মসজিদে ।
মসজিদের গেটে দাঁড়িয়ে 
বলছিলো ভাই অল্প সময় বসুন ।
আমার দিকে তাকালো সে 
হাসিমুখে ।তার হাসিমুখ 
অন্তরে প্রভাব ফেললো ।
আমি আরবী তেমন জানিনা ।
আমি শুধু বললাম মাদরাসা ।
সে বুঝে ফেলল আমি তালিবে 
ইলম ।আমার জন্য দোয়া করলো ।
কিন্তু ঘোড়ার ডিম ।আমি 
তালিবুল ইলম হতে পারিনি ।
তালিবে ইলমের খাতায় নাম 
লিখিয়েছি মাত্র ।কিন্তু প্রকৃত 
তালিবে ইলম হতে পারিনি ।
তালিবুল ইলমের মধ্যে যে 
গুণগুলো থাকা দরকার তা 
আমার মধ্যে নেই ।এজন্য 
বেশি বেশি ইস্তেগফার করি ।

হাঁ সেই আরব যুবক ।যার 
সাথে দেখা হয়েছিল 
দিওয়ানবাড়ী মসজিদে ।
এখন সে হাজিপাড়া 
মসজিদে বয়ান করছে ।
তার কথা গুলো হৃদয়ের 
গভীরে প্রবেশ করছে ।
আরবী থেকে বয়ান ।
তরজমা ছাড়া ।কিছু বুঝতে 
পারছি কিছু পারছিনা ।
কিন্তু তার মনের ভাব 
বুঝতে পারছি ।

তার কথা শুনে মাঝে মাঝে 
পশম গুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ।
আহ কি এখলাস ।সে কিন্তু 
আলেম না ।আরবের একজন 
সাধারণ যুবক ।
কি তাজা তার ঈমান ।তার 
বয়ানের পর একজন হুজুর 
দাঁড়িয়ে বললেন ,এই ব্যক্তি 
কিন্তু আলেম না ।

কিন্তু 
দাওয়াত ও তাবলীগে এসে 
তার ঈমানের অবস্থা এমন 
হয়েছে যে আমি তার পাশে 
নামায পড়ছি তখন দেখলাম, 
নামাযে যখন ঈমাম সূরা 
ফাতিহা পড়ছিল সে কাঁদছিল ।
রুকু অবস্থায় কাঁদছিল ।
সিজদা অবস্থায় কাঁদছিল ।"
আহ এমন নামায কজনের 
ভাগ্যে জোটে ।আমার
নামাযের অবস্থা খুবই শোচনীয়
বয়ান শেষ হলো ।

তাবলীগে 
বের হওয়ার জন্য তাশকিল 
করলো ।নাম লেখাবার জন্য 
দাঁড়ালাম ।অনেকে লেখালো ।
এরপর দোয়া করলো ।এরকম 
দোয়া কখনো দেখিনি ।
ছোট বাচ্চার মত ডাকা ।
কখনো আওয়াজ জোরে 
কখনো ধীরে ।প্রত্যেকের 
অন্তরে আঁচড় কাঁটলো ।
মজলিস থেকে ভেসে আসতে 
লাগলো কান্নার শব্দ ।

আমি তো লজ্জায় মাথা 
উপরে তুলতে পারছিনা ।
এই গুনাহে ভরা চেহারা 
কিভাবে মালিককে দেখাই ।
আরব যুবক দোয়া করছে 
আর কাঁদছে ।আর আমরা 
আমিন আমিন বলছি 
আর কাঁদছি ।
দোয়া শেষ হলো ।সবাই 
চোখ মুছলাম ।যুবকের দিকে 
তাকালাম ।দেখি সে চোখ 
বন্ধ করে বসে আছে ।
মসজিদ থেকে বের হলাম ।
অন্তরে এক প্রকার স্বস্তি 
অনুভব করলাম ।মন 
এখন উত্‍ফুল্ল ।প্রতিদিন 
যদি এভাবে কাঁদতে পারতাম !
রবের দরবারে কাঁদার মত 
সুখ কোথাও পাইনি ।
দুনিয়াদাররা বাড়ি,গাড়ী,
নারী আর সম্পদের মাঝে 
সুখ খোঁজে ।আর 
আল্লাহওয়ালারা আল্লাহর 
দরবারে কাঁদার মাঝে সুখ 
খোঁজে ।

বিশ্বাস করো ভাই দুনিয়ার 
কোন কিছুতেই সুখ নেই ।
এগুলো শুধু ধোকা ।যদি 
জীবনে সুখ পেতে চাও 
শেষ রাতে উঠে গোপনে 
গোপনে রবের দরবারে কাঁদ ।
দুনিয়াতে শান্তিময় জীবন 
লাভ করবে ।আর পরকালে 
তো চির শান্তির জান্নাত 
রয়েছেই ।যেখান থেকে 
কখনো বের হতে হবেনা ।

Pages