মাগরীবের নামাযের পরে
এলার্ন হলো ।সংক্ষিপ্ত বয়ান হবে ।
সুন্নাত নামায পড়ে মিম্বরের
নিকটে গিয়ে বসলাম ।
সবাই চেয়ে আছে সামনের
দিকে ।একটি চেয়ার আনা
হলো ।তাতে বসল এক যুবক
।নূরানী তার চেহারা ।
যেমন
দেখতে সুন্দর তেমন তার
গড়ন ।লম্বা এবং স্বাস্থ্যবান ।
মুখে তার কুচকুচে কাল দাঁড়ি ।
আরব দেশের যুবক ।সালাম
দিলো আমাদের ।অতঃপর
আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা
করলো ।শেষ হয়না তার
প্রশংসামূলক বাক্য ।দিল
তার আল্লাহর ভালবাসায়
পরিপূর্ণ ।দরুদ পড়লো
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামের উপর ।
তার কথা গুলো বের হচ্ছে
দিল থেকে ।কি সুন্দর তার
কন্ঠ ।পুরো মজলিস তাকিয়ে
আছে তার দিকে ।গভীর
আগ্রহে শুনছে তার কথা ।
যুবকের সাথে দেখা হয়েছিলো
দেওয়ানবাড়ী মসজিদে ।
মসজিদের গেটে দাঁড়িয়ে
বলছিলো ভাই অল্প সময় বসুন ।
আমার দিকে তাকালো সে
হাসিমুখে ।তার হাসিমুখ
অন্তরে প্রভাব ফেললো ।
আমি আরবী তেমন জানিনা ।
আমি শুধু বললাম মাদরাসা ।
সে বুঝে ফেলল আমি তালিবে
ইলম ।আমার জন্য দোয়া করলো ।
কিন্তু ঘোড়ার ডিম ।আমি
তালিবুল ইলম হতে পারিনি ।
তালিবে ইলমের খাতায় নাম
লিখিয়েছি মাত্র ।কিন্তু প্রকৃত
তালিবে ইলম হতে পারিনি ।
তালিবুল ইলমের মধ্যে যে
গুণগুলো থাকা দরকার তা
আমার মধ্যে নেই ।এজন্য
বেশি বেশি ইস্তেগফার করি ।
হাঁ সেই আরব যুবক ।যার
সাথে দেখা হয়েছিল
দিওয়ানবাড়ী মসজিদে ।
এখন সে হাজিপাড়া
মসজিদে বয়ান করছে ।
তার কথা গুলো হৃদয়ের
গভীরে প্রবেশ করছে ।
আরবী থেকে বয়ান ।
তরজমা ছাড়া ।কিছু বুঝতে
পারছি কিছু পারছিনা ।
কিন্তু তার মনের ভাব
বুঝতে পারছি ।
তার কথা শুনে মাঝে মাঝে
পশম গুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ।
আহ কি এখলাস ।সে কিন্তু
আলেম না ।আরবের একজন
সাধারণ যুবক ।
কি তাজা তার ঈমান ।তার
বয়ানের পর একজন হুজুর
দাঁড়িয়ে বললেন ,এই ব্যক্তি
কিন্তু আলেম না ।
কিন্তু
দাওয়াত ও তাবলীগে এসে
তার ঈমানের অবস্থা এমন
হয়েছে যে আমি তার পাশে
নামায পড়ছি তখন দেখলাম,
নামাযে যখন ঈমাম সূরা
ফাতিহা পড়ছিল সে কাঁদছিল ।
রুকু অবস্থায় কাঁদছিল ।
সিজদা অবস্থায় কাঁদছিল ।"
আহ এমন নামায কজনের
ভাগ্যে জোটে ।আমার
নামাযের অবস্থা খুবই শোচনীয়
বয়ান শেষ হলো ।
তাবলীগে
বের হওয়ার জন্য তাশকিল
করলো ।নাম লেখাবার জন্য
দাঁড়ালাম ।অনেকে লেখালো ।
এরপর দোয়া করলো ।এরকম
দোয়া কখনো দেখিনি ।
ছোট বাচ্চার মত ডাকা ।
কখনো আওয়াজ জোরে
কখনো ধীরে ।প্রত্যেকের
অন্তরে আঁচড় কাঁটলো ।
মজলিস থেকে ভেসে আসতে
লাগলো কান্নার শব্দ ।
আমি তো লজ্জায় মাথা
উপরে তুলতে পারছিনা ।
এই গুনাহে ভরা চেহারা
কিভাবে মালিককে দেখাই ।
আরব যুবক দোয়া করছে
আর কাঁদছে ।আর আমরা
আমিন আমিন বলছি
আর কাঁদছি ।
দোয়া শেষ হলো ।সবাই
চোখ মুছলাম ।যুবকের দিকে
তাকালাম ।দেখি সে চোখ
বন্ধ করে বসে আছে ।
মসজিদ থেকে বের হলাম ।
অন্তরে এক প্রকার স্বস্তি
অনুভব করলাম ।মন
এখন উত্ফুল্ল ।প্রতিদিন
যদি এভাবে কাঁদতে পারতাম !
রবের দরবারে কাঁদার মত
সুখ কোথাও পাইনি ।
দুনিয়াদাররা বাড়ি,গাড়ী,
নারী আর সম্পদের মাঝে
সুখ খোঁজে ।আর
আল্লাহওয়ালারা আল্লাহর
দরবারে কাঁদার মাঝে সুখ
খোঁজে ।
বিশ্বাস করো ভাই দুনিয়ার
কোন কিছুতেই সুখ নেই ।
এগুলো শুধু ধোকা ।যদি
জীবনে সুখ পেতে চাও
শেষ রাতে উঠে গোপনে
গোপনে রবের দরবারে কাঁদ ।
দুনিয়াতে শান্তিময় জীবন
লাভ করবে ।আর পরকালে
তো চির শান্তির জান্নাত
রয়েছেই ।যেখান থেকে
কখনো বের হতে হবেনা ।
