একজন হোটেল বাবুর্চি যে কারণে কেঁদে দিলো - iAlo24.Blogspot.Com

মঙ্গলবার, আগস্ট ৩১, ২০২১

একজন হোটেল বাবুর্চি যে কারণে কেঁদে দিলো


আমাদের সাথে এক ছেলে তাবলীগে তিন দিনের জামাতে এসেছে।সে একজন কারিগর।হোটেলে কাজ করে।হোটেলের যাবতীয় রান্না বান্না সে করে।সম্পর্কে আমার ভাতিজা।আমরা সমবয়সী।আগে আমাদের পাশে বাসা ছিলো।এক সাথে খেলেছি।এক সাথে ঘুরেছি।এখন তারা আমাদের বাসা থেকে একটু দূরে বাসা বানিয়েছে।বিয়েও করেছে।তার দুই মেয়ে।
স্কুলে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে।মাদরাসায় কিছু দিন গিয়েছিলো।বয়স ২৪ -২৫ বছর মত।

জীবনের প্রথম তার তাবলীগে আসা।এর আগে কখনো আসেনি।এসে সে অনুভব করছে,সে তার জীবনকে নষ্ট করেছে।গুনাহ করে নিজেকে জাহান্নামের উপযুক্ত করে ফেলেছে।ভেতরে ভেতরে তার উথাল-পাতাল তরঙ্গ বইছে।

যেটা বলতে চাচ্ছি,সে আমাকে বলল,চাচা মুই তো শক্ত মানুষ।মোর বাড়িত কত কি হয়।কত বিপদ যায় মোর কান্দন আসেনা।বাড়ির সবাই কান্দে।কিন্তু মুই কান্দোনা।কিন্তু একটা কথা শুনে মোর বুক ফাঁটে কান্না বের হয়ে গেছে।

জানিস,সকালে যখন আজক্যা কুরআন মশক কছুনু তখন মুই পাছুনু না।রহমত চাচা তখন মোক কইলো সারা জীবনটা পরোটা,পুরী আর সিংড়া ভাজেই জীবন পার করে দিলু।কিংকরে পাবু।এই কথা শুনে মোর অজান্তেই দড়দড় করে চোখ থেকে পানি পড়তে লাগলো।আহ তাইতো। মুই মুসলমান হয়ে কুরআন শিখনু না।নামায পড়ার মত সূরাও শিখনু না।কি করনু এই জীবনটাই।

প্রিয় পাঠক,এটাই হলো বাস্তবতা।আমরা মুসলমান।আমাদেরকে আল্লাহ তায়ালা কুরআন দিয়েছেন।আমরা জীবনে সবকিছু করলাম কিন্তু কুরআন শিখলাম না। এর চেয়ে দূর্ভাগ্যের বিষয় আর কি হতে পারে।কুরআন শিখলাম না।কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আমাকে কি বলেছেন তাও জানার চেষ্টা করলাম না।এর চেয়ে দূর্ভাগ্যের বিষয় আর কি হতে পারে।কুরআন তো শুধু মুসলমানদের জন্য নয়।এই কুরআন সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য নাযিল হয়েছে।কুরআন মানুষকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় জগতের মহা সফলতার পথ দেখায়।

তারপর সে আমার কাছে সূরা মশ্ক করলো।কুলহু ওয়াল্লাহ তার আগে থেকেই হয়েছিলো।সেটাও মশ্ক করালাম।ইন্না আতায়না টাও করালাম।এগুলো রেকর্ড ও করে দিলাম।পরে শুনে শুনে ইন্না আতায়না মুখস্থ করে ফেলছে।তাব্বাত ইয়াদা টা রেকর্ড করে দিলাম।সেটা সে আজকে করার চেষ্টা করছে।যখন সে সুযোগ পাচ্ছে রেকর্ড গুলো চালু করে মশ্ক করছে।আল্লাহ তায়ালা তাকে ভরপুর হেদায়েত দান করুন।আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন।আমীন।

গতরাতে সে তাহাজ্জুদ পড়েছে।জীবনের প্রথম তাহাজ্জুদ।তাহাজ্জুদ নামাযের বড়ই  স্বাদ রয়েছে।যে একবার পেয়ে যায় সে কখনোই আর ছাড়েনা।আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকেও তাহাজ্জুদ পড়ার তাওফীক দান করুন।আমীন।

আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে হেদায়েতের উপর অটল রাখেন।কুরআন শেখার তাওফিক দান করেন।তার পরিবারকে কবুল করে নেন।আমাদের সবাইকেও কবুল করেন।আমীন।.

Pages