পাখিফল এক আজব ফল
আসুন পাখিফলের সাথে পরিচিত হই।
পাখিফল। আহা! কি চমৎকার ফল। ডালে ডালে উড়ে। কিচিরমিচির শব্দ করে। এক পাখিফল আরেক পাখিফলের সাথে ঝগড়া করে। সন্ধ্যায় আসে, সকালে যায়। কি আজব ফল রে বাবা।
আজব তো হবেই। নামটাই তো আজব। আমাদের মাদরাসার ভিতরে চারপাশে অনেক গাছ আছে। মাদরাসা দেখতে কিন্তু অনেক সুন্দর। গাছগুলো মাদরাসার সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। তো এই গাছগুলো সবসময় আল্লাহর জিকির করে। আল্লাহ হুকুম দিলে পাতা নাড়ায়। না হলে নাড়ায় না। আল্লাহর আনুগত্যশীল মাখলুক।
পাঠক,ভেবে দেখেন একবার। আল্লাহ গাছগুলো আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর আমরা আল্লাহর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি হয়েছি। আল্লাহ আমাকে দেখার শক্তি দিয়েছেন। আমাকে শোনার শক্তি দিয়েছেন। আমাকে বলার শক্তি দিয়েছেন। আমার চলার শক্তি দিয়েছেন। আমাকে খাওয়াচ্ছেন। আমাকে পরাচ্ছেন।
পাঠক,আল্লাহ মানুষকে সবচে শ্রেষ্ঠ করে বানিয়েছেন।যে রব আমাদেরকে সুন্দর একটা চেহারা দিয়েছেন সেই রবের নাফরমানি করবো না।যদি কেউ করে এর চে বড় দুঃখজনক বিষয় আর কি হতে পারে ?
পাখিফল আসলে ফল হিসেবে খাওয়ার জিনিস না। পাখি হিসেবে খাওয়ার জিনিস। কিন্তু পাখিফল নাম দিয়েছি কেন জানেন? মাদরাসার গাছগুলোতে অসংখ্য পাখি থোকায় থোকায় ফলের মত থাকে। রাতের বেলা যখন গাছে টর্চ লাইট মারি তখন থোকা ফলের মত পাখি দেখা যায়।
এত! বেশি পাখি।
চড়ুই এবং বাবুই পাখি। পাখির আনাগোনায় মাদরাসা প্রাঙ্গনে এক মনোরোম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাদের কিচিরমিচির শব্দ মনকে আনন্দ দেয়।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। তাদের দেখলে আল্লাহ তায়ালার কথা মনে পড়ে। আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি কত সুন্দর তাই না?
প্রিয় পাঠক, আপনি জানেন জগতের মধ্য সবচেয়ে বেশি সুন্দর কে? নিশ্চয় মানুষ।
আল্লাহ মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। কেন সৃষ্টি করেছেন? তাঁর গোলামী করার জন্য। আমাদের মালিক হলেন আল্লাহ তায়ালা। আর আমরা হলাম তার গোলাম। গোলামের কাজ কি?
মালিকের কথামত চলা। যা বলবে তা করা। যা নিষেধ করবে তা থেকে বিরত থাকা।
গোলাম যদি মালিকের হুকুম না মানে,মালিক কি গোলামকে বেতন দিবে?
দিবেনা। প্রিয় পাঠক এটা যেমন সত্য। তেমনি এটাও চিরসত্য যে যারা আল্লাহ তায়ালার হুকুম পালন করবেনা, রাসূলের আদর্শমত চলবেনা তারা জান্নাতে যেতে পারবেনা।
তাই যারা আল্লাহ তায়ালার হুকুম না মেনে জান্নাতে যাওয়ার আশা করে তাদের মত বড় আহমক আর কেউ নেই।দুনিয়ার জীবনের সময় অতি অল্প। সময় গুলো মেপে মেপে খরচ করতে হবে। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হতে হবে।
সময় গেলে আর আফসোস করলে কাজ হবেনা। দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা আর কাফেরের জন্য জান্নাত। প্রিয় পাঠক, আমার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ তায়ালা সর্ব প্রথম যেন আমাকে লেখাটির উপর আমল করার তাওফিক দান করেন। আপনাদের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ আপনাদের মাফ করে দিন।আমীন।
