একটা ছেলে যদি পড়াশুনা করা অবস্থায় বিয়ে করতে চায় তখন সমাজ তাকে বলে তুমি আগে নিজের পায়ে দাঁড়াও তারপর বিয়ে করবে।
কিন্তু এই ছেলেটাই যদি পড়াশুনা করা অবস্থায় কোন মেয়ের সাথে প্রেম-ভালবাসা করে তখন সমাজের লোক কিন্তু বলেনা তুমি কেন প্রেম ভালবাসা করছো।আগে নিজের পায়ে দাঁড়াও তারপর প্রেম-ভালোবাসা করো।
একটা মেয়েকে যদি তার পিতা-মাতা ১৪-১৫ বছর বয়সে বিয়ে দিতে চায় তখন সমাজ বলে এটা বাল্য বিবাহ।কারণ এতে তোমার মেয়ের শারীরিক ক্ষতি হবে।তার জীবনের উপর ঝুকি আসবে।
এই মেয়েটাই যখন ১৪-১৫ বছর বয়সে কোন ছেলের সাথে প্রেম-ভালবাসা করে,দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তখন সমাজ তাকে বলেনা কেন তুমি এগুলো করছো?আগে তোমার আঠারো বছর হোক তারপর তুমি প্রেম ভালবাসা করবে।
আমাদের একটু ভাবা দরকার।আমাদের মন-মানসিকতা কারা পরিবর্তন করলো।আপনি যদি আমেরিকা-ভারতের দিকে তাকান তাহলে দেখতে পাবেন তাদের জন্মের ঠিক নেই।তারা জারজ সন্তান।বাচ্চার মা জানেনা বাচ্চার পিতা কে?এর দ্বারা বুঝা যায় একটা মেয়ে কত পুরুষের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে তার ইয়ত্তা নেই।এই স্বভাবটা কাদের?
এই স্বভাবটা আমরা দেখতে পাবো পশুদের মধ্যে।পশুদের কোন বিবেক নেই।তারা যৌন বিধানের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম-কানুন মানেনা।আমরা যদি খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাবো, যে গাভীটি নর বাচ্চা জন্ম দিয়েছে ঐ বাচ্চাটাই বড় হয়ে তার মায়ের সাথে যৌন কর্ম করে।পশুর কোন বিবেক নেই।পশুরা করতেই পারে।এখন এ স্বভাব যদি বিবেকবান মানুষের মাঝে পাওয়া যায় তাহলে তাকে পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট বলতে হবে।
যারা আমেরিকা থেকে শুরু করে পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলোকে মডেল মনে করে তাদের জেনে রাখা উচিত যে মডেলরা হলো পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট।তাদের সমাজে পিতা মেয়ের সাথে,মা ছেলের সাথে, ভাই বোনের সাথে,চাচা ভাতিজীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত।তাদের সমাজ ব্যবস্থা পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট হয়ে গেছে।
ইহুদী-খৃষ্টানরা দেখলো,মুসলিম সমাজে এখনো তাদের বংশ পরিচয় ঠিক আছে।এখনো তাদের সমাজে মানুষের চরিত্র ঠিক রয়েছে।
কিভাবে এই সমাজ ব্যবস্থাকে নষ্ট করা যায় সে জন্য তারা অনেক কৌশল করলো।তাদের কৌশলের একটা বিষ হলো বাল্য বিবাহ,বাল্য বিবাহ বলে চিৎকার করে,গলা ফাটিয়ে বিয়েকে রোধ করা।যখন বিয়ে দেরীতে হবে তখন স্বভাবতই যৌবনের উত্তেজনায় যুবক-যুবতীরা অবৈধ প্রেম-ভালবাসায় লিপ্ত হবে।এক সময় দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বে।
হঠাৎ কোন একসময় ব্রেকআপ হবে।ফলে মেয়েটা তখন আবার নতুন কারো সাথে প্রেম ভালবাসায় লিপ্ত হবে।যেহেতু একবার সে দেহ দান করেছে এবার তার দেহ দান করতে আর লজ্জাবোধ হবেনা।এভাবে সমাজের মধ্যে যেনা-ব্যাভিচার বৃদ্ধি পাবে।কোন সময় মেয়েটা জারজ সন্তান জন্ম দিবে।এভাবে মুসলিম সমাজের বংশপরিচয় নষ্ট হয়ে যাবে।
অনুরুপভাবে ছেলেটার ক্ষেত্রেও।সে তার ইজ্জতকে অনেক মেয়ের কাছে উন্মুক্ত করবে।
মুসলিম সমাজে যেন চারিত্রিক অধঃপতন ঘটে,সমাজে যেনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পায় সে জন্য ইহুদী-খৃস্টানরা আমাদের সমাজে কিছু দিবস চালু করেছে।ভালোবাসা দিবস,থার্টি ফাস্ট নাইট,হ্যাপি নিউ ইয়ার।এসব দিবসে অনেক অশ্লীল ও জঘন্য কর্ম হয়।তাছাড়া,সিনেমা,নাটক,গান,পর্নোগ্রাফি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে যেনা ব্যভিচার অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সচেতন পিতা-মাতার কর্তব্য ছেলে-মেয়েদেরকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া।নয়লে ছেলে-মেয়ে যদি অবৈধ প্রেমে লিপ্ত হয় তাহলে এর গুনাহের ভার তাদেরকেও নিতে হবে।ফলে জাহান্নামে যেতে হবে।
আর পড়াশুনা অবস্থায় বিয়ে করতে কেউ চাইলে প্রথমেই আসে বিয়ে করে বউকে কি খাওয়াবে।অথচ এই ছেলেটা প্রেম করা অবস্থায় বাবার টাকা দিয়ে অবৈধ গালফ্রেন্ডকে নিয়ে ফুর্তি করে।তখন কিন্তু কেউ এ নিয়ে কথা বলেনা।বাপের টাকা গালফ্রেন্ডের পিছনে খরচ করতে লজ্জা লাগেনা।আগে নিজের পায়ে দাঁড়া তারপর প্রেম করিস।
যাদের আর্থিক সমস্যা নেই তাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে কোন সমস্যা থাকার কথা নয়।যাদের সমস্যা আছে উভয় পরিবার থেকে যদি সাহায্য করে তাহলে কোন সমস্যা নেই।মেয়ের পরিবার মেয়ের খরচ বহন করলো ছেলের পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত।আর সবচেয়ে বড় কথা হলো আল্লাহর সাহায্য লাভ হবে।
তাই আমাদের স্লোগান হোক বাল্য বিবাহ নয়, বাল্য প্রেম রোধ করি।ছেলে-মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেই।সমাজকে যেনা-ব্যভিচার থেকে হেফাযত করি।
