বান্দার হক আদায় করার ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা কাম্য।কারণ বান্দার হক আল্লাহ তায়ালাও মাফ করেন না।নামাযে ত্রুটি থাকলে,রোযায় ত্রুটি থাকলে বা বিভিন্ন ধরনের গোনাহ হয়ে গেলে আল্লাহ তায়ালার কাছে মাফ চাইলে তিনি মাফ করে দেন।কিন্তু বান্দার হক আল্লাহ মাফ করেন না।কারণ এ যে বান্দার হক।
দুনিয়াতে কেউ কারো সম্পদ,টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করলো।কিয়ামতের দিন আল্লাহ এর পুরোপুরি উসুল করে দেবেন।যে অন্যায় ভাবে আত্মসাৎ করেছে তার নেকী গুলো ঐ ব্যক্তিকে দেবেন যার আত্মসাৎ করা হয়েছে।নেকী যদি না থাকে তাহলে যার আত্মসাৎ করা হয়েছে তার গোনাহগুলো আত্মসাৎকারীর আমলনামায় দেবেন।এভাবে হাশরের মাঠে বিনিময় হবে।
অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা মারাত্মক গোনাহ।যে অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করলো এর অর্থ সে নিজের পেটে আগুন প্রবেশ করালো।সে যেন জ্বলন্ত আগুনের টুকরো গিললো।
আল্লাহ তায়ালা সূরা নিসার ১০৪ নং আয়াতে বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا ۖ وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا
(النّساء 10:4)
"যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করে,তারা তাদের পেটে আগুন প্রবেশ করাই।অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।"
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ করে ইয়াতীমের কথা উল্লেখ করেছেন।কারণ তার অভিভাবক থাকেনা।ফলে সহজেই আত্মীয়রা তার সম্পদ আত্মসাৎ করে থাকে।সম্পদ আত্মসাৎ করাতো ভয়াবহ অপরাধ।আর ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা আরো ভয়াবহ অপরাধ।এজন্য ইয়াতীমের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমাদের সমাজে হক বন্টনের ক্ষেত্রে অনেক টালবাহানা করা হয়।বাবা মারা গেলে ভায়েরা বোন যে অংশ পাবে তা পুরাপুরি দেয়না।কেউ দিলেও গোজা মিল করে দেয়।ভালো অংশটা নিজের জন্য রেখে নিম্নমানের খারাপ অংশটা বোনকে দেয়।
আবার দেখা যায়,বাবা মারা গেছে।ভায়েরা সম্পদ বন্টন করেনি।এভাবেই কিছুদিন একসঙ্গে থাকে।হঠাৎ সম্পদ বন্টন হওয়ার পূর্বেই এক ভাই সন্তান রেখে মারা যায়।চাচারা তখন ভাতিজা-ভাতীজীদের সম্পদ দেয়না।অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে।
প্রকৃত বুজুর্গি হলো অন্যের হক পুরোপুরি আদায় করার মাঝেই।যদি বান্দার হক আদায় করা না হয় এই তাহাজ্জুদ নামায কান্নাকাটি, দান সদাকাহ আর কি কাজে আসবে?সব বিফলে যাবে।
মাওলানা হাজী আবদুর রহিম সাহেব হুজুর একদিন একজন মুরুব্বির কথা শুনিয়েছিলেন ।তার কথাই বলবো এখন।তিনি হলেন মোজো শাহ রহঃ।ভালো নাম নুরুল আমিন শাহ।তিনি হলেন আমাদের জনাব মিসবাহুল স্যারের দাদা।জনাব আনসারুল মাস্টারের আব্বা।তিনি ছিলেন হক আদায়ের ব্যাপারে সচেষ্ট।
হাজী সাহেব হুজুর বললেন,আমি তখন পোরশা বড় মাদরাসার ছাত্র।মোজো শাহু আমাদেরকে বলতেন,বা,আমি সবার হক পুরোপুরি আদায় করে দিয়েছি।তারপরও আমার আশংকা হয়।ঠিকভাবে আদায় করতে পারলাম কি না।
হাজী সাহেব বলেন,তিনি সবাইকে ডেকে সবার হক পুরোপুরি আদায় করে দিয়েছিলেন।তারপরও তিনি ভয় করতেন।বার্ধক্যের কারণে তিনি কুঁজো হয়ে গিয়েছিলেন।সেই বয়সেও তাঁকে দাঁড়িয়ে তারাবীহ পড়তে দেখেছি।
মোজো শাহুকে আমরা অনেকেই চিনিনা।কারণ তিনি অনেক আগে ইন্তেকাল করেছেন।আজ আমি আপনাদের সাথে তার সামান্য একটি দিক পরিচয় করিয়ে দিলাম।
আল্লাহ তায়ালা জনাব মোজো শাহুকে ক্ষমা করুন।তাঁর ভুল ত্রুটিগুলো মাফ করে দিন।তাঁকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।আমীন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পুরোপুরি হক আদায় করার তাওফিক দান করুন।আমীন।
অন্যান্য লেখাগুলো
এপ্রিল ২০১৯,অক্টোবর ২০১৯,ফেব্রুয়ারী ২০২১,আগস্ট ২০২১,সেপ্টেম্বর ২০২১,অক্টোবর ২০২১,জানুয়ারি ২০২২,জানুয়ারি ২০২৩,ফেব্রুয়ারী ২০২৩
