দুনিয়ার জীবন অনেক কষ্টের।তবে মাঝে মাঝে কিছু আনন্দ লাভ হয়।দুনিয়ার জীবনটা এমন যে একটা বিপদ কাটবে তো আরেকটা বিপদ এসে পড়বে। সময় মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া, রমাযান মাসে রোযা রাখা, যাকাত দেয়া, হজ করা প্রতিটি এবাদতে রয়েছে কিছু না কিছু কষ্ট।
.
শীতে ফজরের সময় ফরজ গোসলের প্রয়োজন হলো। কেমন কষ্ট হবে? যদি কয়েক দিন লাগাতার হয় তাহলে কি অবস্থা হবে? শীতের সময় ফজরের আজান হয়েছে।প্রচুর ঠান্ডা।আরামের কম্বল ছেড়ে উঠে অজু করা, অতঃপর মসজিদে যাওয়া কি পরিমান কষ্ট হয়?
.
মুমিনের জন্য দুনিয়াটা জেলখানা। জেলখানায় কি কেউ শান্তিতে থাকে? জেলখানায় থাকাকে কেউ কি পছন্দ করে?জেলখানায় থাকতে কেউ কি ভালোবাসে?
কেউ জেলখানায় থাকতে চায় না। এই দুনিয়ায় এসেছি পরীক্ষা দেয়ার জন্য।আল্লাহ তাআলাকে রব হিসেবে মানি কিনা,তা তিনি দেখতে চান।আমাদের আসল ঠিকানা তো জান্নাত।কিন্তু আমাদের অবস্থা এমন যে,আমরা এমন ভাবে দুনিয়াতে বাস করছি মনে হচ্ছে আমরা এখানে চিরকাল থাকবো।ছুটছি দালানকোঠা গাড়ি-বাড়ি সম্পদ উপার্জনের দিকে।হালাল হারামের কোন তোয়াক্কা করিনা।
.
পরকালে কিন্তু তাই প্রতিদান পাবো দুনিয়াতে যেমন চলবো।দুনিয়ার জীবন যদি আমার জেলখানা মুক্ত হয়।আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করে নিজের ইচ্ছা মত চলি, তাহলে পরকালে জাহান্নামের জেলখানায় আমাকে আবদ্ধ হতে হবে। আর যারা দুনিয়াকে জেলখানা মনে করে নিজের লাগামকে শরীয়তের হাতে দিয়ে শরীয়ত অনুযায়ী জীবন যাপন করবে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত।
.
জান্নাত এমন একটি স্থান যেখানে কষ্ট বলে কিছু নেই,আর আনন্দের কোন শেষ নেই। জান্নাতে না ঠান্ডা আছে না গরম আছে।অনুকূল মনোরম আবহাওয়া।জান্নাতে কোন অসুখ-বিসুখ কিছুই নেই। শরীরে ময়লা জমবে না। স্ত্রী সহবাস করে গোসলের প্রয়োজন হবে না।কারণ বীর্যই তো থাকবে না।শুধু মজা আর আনন্দ হবে।মেয়েদেরকে রান্নার কষ্ট সহ্য করতে হবে না।বাচ্চা প্রসবের কষ্ট সহ্য করতে হবে না,কাপড় কাচা, থালাবাসন ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করা কিছুই থাকবে না।পায়খানা প্রসাবের কোন প্রয়োজন হবে না।
.
অবসাদ,ক্লান্তি,ভালো না লাগা বলে কিছুই থাকবে না। ঘুমের কোন প্রয়োজন থাকবে না।পঁচা,দুর্গন্ধ নোংরা বলে কিছু থাকবে না।যানজট থাকবে না।জমি নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হবেনা।কোনো শত্রু থাকবে না। কোন হিংসা থাকবে না।জান্নাতিরা শুধু ওর্ডার করবে আর তা পেয়ে যাবে।যা মন চায় তাই পাবে।সুতরাং এত বড় সুখের স্থান কি এমনি এমনি পাওয়া যাবে? নিজের জীবন যদিও চলে যায়,এর বিনিময় হলেও যদি জান্নাত পাওয়া যায়, তাহলে তা তো খুব সস্তায় পেয়ে গেলাম।
.
তাই আসুন গুনাহকে ছেড়ে দেই।মন কিন্তু চাইবে গুনাহ করতে।মনকে বোঝাতে হবে এইমাত্র কটা দিন।এখানে একটু কষ্ট করে নাও তারপর তো অর্জন করবে চিরস্থায়ী জান্নাত।আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফীক দান করুন।বেশি বেশি ঈমানের সাথে নেক আমল করে জান্নাত কে সাজানোর তাওফীক দান করুন।আমীন।