♦একজন মুসলিম কলেজ ছাত্রের জীবন,তুমি কি এরকম? - iAlo24.Blogspot.Com

বুধবার, মার্চ ১৩, ২০১৯

♦একজন মুসলিম কলেজ ছাত্রের জীবন,তুমি কি এরকম?



ছেলেটির নাম আরমান।খুব শান্তশিষ্ট এবং ভদ্র ।সে কলেজে পড়ে।তার জীবনের লক্ষ্য সে সৎ ডাক্তার হবে।রোগীর সেবা করবে।
জীবনের লক্ষ্যে যেন পৌঁছতে পারে এজন্য সে খুব পড়াশুনা করে।অযথা কোন সময় নষ্ট করেনা।সময় খুব মেপে খরচ করে।কোন অনর্থক কাজে সে তার মূল্যবান সময়গুলোকে নষ্ট করেনা।

ফজরের আযানের সুমধুর ধ্বনিতে তার ঘুম ভাঙ্গে।সে ঘুম থেকে উঠার দোয়া পড়ে ঘুম থেকে উঠে।অতঃপর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে মিসওয়াক করে।সে জানে এটি নবীজীর সুন্নাত।সে এটাও জানে নবীজীকে ভালবাসার অর্থই হল তাঁর জীবনাচরণকে  অনুসরণ করা।তাই সে সর্বাত্মক চেষ্টা করে নবীজীর সুন্নাতকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে।এজন্য সে নবীজীর সুন্নাত বিষয়ক বইগুলো কিনেছে।সেগুলো পড়ে পড়ে সুন্নাত অনুযায়ী চলার চেষ্টা করে।তারপর অযু করে।হাতমুখ মুছে পান্জাবী,টুপি পরে সে মসজিদে যায়।

মসজিদে গিয়ে ফজরের সুন্নাত আদায় করে।তারপর জামাতের সাথে ফজরের নামায আদায় করে।ফজরের নামাযের পর ১ পারা কুরআন তিলাওয়াত করে।তারপর ইশরাকের নামায পড়ে।
হালকা নাস্তা করে। কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়।তারপর গোসল সেরে কলেজে যায়।ঠিকমত ক্লাস করে।দুপুরে যখন বিরতি হয় সে  টিফিন খেয়ে মসজিদে যায়।যোহরের নামায আদায় করে ।মসজিদে কিছু সময় বিশ্রাম নেই।

অতঃপর ক্লাসে আসে।মনোযোগের সাথে ক্লাস করে।ক্লাসে কোন প্রকার দুষ্টুমিও করেনা।কোন মেয়ের দিকে তাকায়না।কোন মেয়ের সাথে কথাও বলেনা।সে জানে প্রেম ভালবাসা এগুলো প্রতারণা বৈ কিছু নয়।এগুলোর সাথে জড়িত হলে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেনা।উপরন্তু রব্বে কারীম তার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন।এজন্য সে সর্বদা এর থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে।আল্লাহর কাছে দোয়া করে যেন তিনি এসব অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করেন।

সে গান বাজনা,সিনেমা,নাটক এগুলো দেখা শোনা থেকেও বিরত থাকে।সে জানে এগুলো কোন মুসলিমের কাজ হতে পারেনা।এগুলো হলো শয়তানী কর্মকান্ড।এগুলো মানুষকে লজ্জাহীন করে দেয়।এগুলোর সাথে যারা জড়িত থাকবে তারা নামায পড়ার তাওফীক লাভ করবেনা।নামাযে অলসতা করবে।আর এগুলোর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের উপর আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।তাদেরকে ভালবাসেন না।তাদেরকে দুনিয়াতে কিছুদিনের জন্য অবকাশ দিয়ে রেখেছেন।পরকালে তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিবেন।


সে খেলাধুলাও দেখেনা।কারণ খেলাধুলা দেখে কোন লাভ হয়না ।অনর্থক সময় নষ্ট হয়।আর টিভির খেলা ধুলা দেখা জায়েজও নয়।সে জানে কিছু শর্ত সাপেক্ষে কিছু খেলার অনুমতি শরীয়ত দিয়েছে।তাই সে শরীর চর্চার জন্য কখনো কিছু সময় দৌড়ায়, কখনো ব্যাড মিন্টন খেলে, কখনো পুকুরে সাঁতার কাটে।

কলেজ ছুটি হয়।তারপর সে প্রাইভেট পড়তে যায়।প্রাইভেট শেষে আছরের নামায আদায় করে।আছরের পর হাঁটতে বের হয়।মাগরীবের নামায পড়ে  বাসায় আসে।বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে।তারপর বিছানায় যায় ।কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে।যখন আবার শরীর সতেজ হয় সে পড়তে বসে।ইশা পর্যন্ত পড়ে।ইশার নামাযের সময় হলে অযু করে মসজিদে যায়।

জামাআতের সাথে নামায আদায় করে।নামাযের পর মসজিদে বসেই সূরা মূলক পড়ে।তারপর বাসায় আসে ।রাতের খাবার খায়।তারপর ফেসবুক অপেন করে দেখে কে কি পোস্ট দিল।কেউ মেসেজ দিলে রিপ্লে দেয়।নিজের কিছু অনুভুতি ইচ্ছে হলে পোস্ট করে।জলদি ফেসবুক থেকে বের হয়ে আসে।

তারপর ইসলামিক বই পড়ে।নিজের সাথেও কিছু বই রাখে।কলেজে অবসর সময়ে পড়ে।তার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম হল মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ,আবুল হাসান আলী নদভী,উবাইদুর রহমান খান  নদভী ,শরীফ মুহাম্মাদ, ড আবদুর রহমান রাফাত ,শায়েখ আলী তানতাভী আরো অনেকের বই তার ভাল লাগে।
অতঃপর রাত দশটায় অযু করে দুই-চার রাকাত নামায তাহাজ্জুদের নিয়তে পড়ে ।রাত সাড়ে দশটায় ঘুমাতে যায়।

  • কতই না সুন্দর এই জীবন।পাঠক আমরাও কিন্তু পারি এরকম পবিত্র জীবন গঠন করতে।এভাবে যদি জীবন যাপন করতে পারি তাহলে দুনিয়াতেও আমরা সুখ শান্তি লাভ করবো ।পরকালে তো বিরাট পুরস্কার রয়েছেই।আসুন ইবাদতহীন অশ্লীল জীবন ত্যাগ করে ইবাদতযুক্ত সুন্দর জীবন গঠন করি।মহান রবকে খুশি করি।

Pages